Ajker Patrika

ঋণের চাপ ও দুই বউয়ের যন্ত্রণায় ‘অপহরণের নাটক’, চট্টগ্রামে উদ্ধার সেই নাইটগার্ড

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ঋণের চাপ ও দুই বউয়ের যন্ত্রণায় ‘অপহরণের নাটক’, চট্টগ্রামে উদ্ধার সেই নাইটগার্ড
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজধানীর পল্লবীর একটি ক্লিনিকের সামনে থেকে সাদা বস্তায় ঢুকিয়ে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করা হচ্ছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এটি অপহরণের ঘটনা নয়। অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে যান মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নামের ওই নিরাপত্তাকর্মী। পারিবারিক ও আর্থিক সংকটের কারণে সহযোগী হাসান তারেক ওরফে রিপনের সহায়তায় তিনি এই পরিকল্পনা করেন। পরে আত্মগোপনে গিয়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে ‘সি হার্ট-২’ নামের মাছ ধরার জাহাজে বাবুর্চির কাজও নেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কর্ণফুলী নদীর মাঝখান থেকে নজরুলকে উদ্ধার করে পল্লবী থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর সহযোগী রিপনকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ দাবি করেছে, এটা একটি বানানো অপহরণ নাটক। ঋণের চাপে, দুই বউয়ের যন্ত্রণায় নাইটগার্ড নজরুল নিজেই অপহরণের নাটক সাজায়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে এক ব্যক্তি সাদা বস্তায় করে নজরুলকে পল্লবীর ওই ক্লিনিকের প্রধান ফটকের সামনে নিয়ে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে নজরুল নিজেই বস্তা থেকে বের হয়ে গেটের সামনে বসেন। পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে রিকশায় করে সেখান থেকে চলে যান তিনি।

সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার।

পুলিশ জানায়, ক্লিনিকের সামনে থেকে যাওয়ার পর নজরুল প্রথমে গাবতলী যান। সেখান থেকে বাসে চট্টগ্রামের একে খান এলাকায় পৌঁছান। পরে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কর্ণফুলীর ইছানগরে অবস্থান নেন। এরপর ‘সি হার্ট-২’ জাহাজে বাবুর্চির কাজ নেন। সেখান থেকেই তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাক সরকার বলেন, নজরুল ওই ক্লিনিকে ১৬-১৭ বছর ধরে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর মাসিক বেতন প্রায় ১৭ হাজার টাকা। তাঁর দুই স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ এবং সুদের টাকা মিলিয়ে তাঁর প্রায় ছয়-সাত লাখ টাকা দেনা রয়েছে। দুই পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের বিয়ে এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপও ছিল তাঁর ওপর।

পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি প্রকৃত অপহরণের ঘটনা নয়। আর্থিক ও পারিবারিক সংকট থেকে নজরুল পূর্বপরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে যান এবং ঘটনাটিকে অপহরণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। এ কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন রিপন।

তবে এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না কিংবা আত্মগোপনের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত