Ajker Patrika

চট্টগ্রামের পরিচয়ে পঞ্চগড়ে ঘুরছিল কিশোর, দুই মাস পর মিলল রোহিঙ্গা পরিচয়

পঞ্চগড় প্রতিনিধি 
চট্টগ্রামের পরিচয়ে পঞ্চগড়ে ঘুরছিল কিশোর, দুই মাস পর মিলল রোহিঙ্গা পরিচয়

পঞ্চগড়ে ঘোরাফেরার সময় উদ্ধার হওয়া ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর নিজেকে চট্টগ্রামের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিল। তবে আহ্ছানিয়া মিশন শিশু নগরীর শিক্ষকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, সে রোহিঙ্গা। পরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লিগ্যাল অফিসারের মাধ্যমে পঞ্চগড় সদর থানা-পুলিশ কিশোর মো. আ. ওয়াহিদকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। স্থানীয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনি সহায়তা কেন্দ্র ব্লাস্টের সহযোগিতায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন পঞ্চগড় সদর উপজেলার সোনালী ব্যাংক অটোস্ট্যান্ডের সামনে ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা কিশোরের কাছে তার পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাকে পঞ্চগড় সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সে নিজের নাম মো. আ. ওয়াহিদ, বাবার নাম মো. জাকির আহমদ এবং ঠিকানা হিসেবে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার কালুরঘাট (সিও অফিস) এলাকা বলে জানায়।

এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সে সময় তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে কিশোরটিকে আহ্ছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে রাখা হয়। সেখানে অবস্থানকালে কিশোরের দেওয়া পরিচয় নিয়ে শিক্ষকদের সন্দেহ হলে তাঁরা বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান শুরু করেন। একপর্যায়ে অনুসন্ধানে তার রোহিঙ্গা পরিচয়ের তথ্য পাওয়া যায়। পরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

আহ্ছানিয়া মিশন শিশু নগরীর সমাজকর্মী মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘কিশোরটি প্রথমে চট্টগ্রামের ঠিকানা জানিয়েছিল। পরে তার পরিচয় নিয়ে অনুসন্ধান করা হলে রোহিঙ্গা পরিচয়ের তথ্য পাওয়া যায়। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল অফিসারের মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

পঞ্চগড় সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আশীষ কুমার শীল বলেন, ‘কিশোরটি প্রথমে নিজেকে চট্টগ্রামের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আহ্ছানিয়া মিশন শিশু নগরীর শিক্ষকদের অনুসন্ধানে তার রোহিঙ্গা পরিচয় পাওয়া যায়। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লিগ্যাল অফিসারের সহযোগিতায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত