Ajker Patrika

শিমুলে রাঙা পথ, পলাশে বসন্তের আমেজ গাংনীতে

রাকিবুল ইসলাম, গাংনী (মেহেরপুর) 
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১: ১৪
শিমুলে রাঙা পথ, পলাশে বসন্তের আমেজ গাংনীতে
গাংনীর কল্যাণপুর মাঠে শিমুল ফুল ফুটে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রকৃতি থেকে এখনো পুরোপুরি সরেনি শীতের চাদর। রৌদ্রোজ্জ্বল মিষ্টি দিন গায়ে লাগে আলতোভাবে। পাতা ঝরা গাছে গজিয়েছে নতুন কুঁড়ি, কোকিলের কুহুতানে জেগে উঠছে চারপাশ। বাতাসে ভেসে আসছে নানা ফুলের ঘ্রাণ। এরই মধ্যে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গ্রামাঞ্চলের রাস্তার ধারে ফুটে থাকা শিমুল ও পলাশ ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে প্রকৃতি।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার দুই পাশে সারি সারি শিমুলগাছে লাল ফুল ফুটে আছে। তবে পলাশগাছ তুলনামূলক কম। তেঁতুলবাড়িয়া, কল্যাণপুর, বামন্দী, করমদি, দেবীপুর, বালিয়াঘাট, হারাভাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রামের সড়কে শিমুলের উপস্থিতি চোখে পড়ে বেশি। পলাশ দেখা যায় অল্প কয়েকটি স্থানে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিমুল-পলাশের রঙে প্রকৃতি এখন অপরূপ সাজে সেজেছে। তবে পলাশগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আগের মতো দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য আর দেখা যায় না।

কল্যাণপুর গ্রামের ফয়সাল আহাম্মেদ বলেন, ‘আমাদের এলাকার রাস্তায় অনেক শিমুলগাছ রয়েছে। প্রায় প্রতিটি গাছে ফুল ফুটেছে। চারদিকে লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে। যদি পলাশগাছ বেশি থাকত, তাহলে দৃশ্য আরও মনোমুগ্ধকর হতো।’

পথচারী রাজু আহমেদ বলেন, ‘পলাশী গ্রামের একটি পলাশগাছে পরিপূর্ণ ফুল ফুটেছে। দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। কিন্তু পলাশগাছ খুব কম দেখা যায়। এই ফুল প্রকৃতিকে নতুন রূপ দেয়।’

গাংনীর পলাশী পাড়া গ্রামে পলাশ ফুল ফুটে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
গাংনীর পলাশী পাড়া গ্রামে পলাশ ফুল ফুটে আছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বামন্দী ইউনিয়নের পুকুরপাড়া গ্রামের রাসেল আহমেদ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও বাড়ির পাশে শিমুল ফুল ফুটেছে। রাস্তার ধারে আরও বেশি ফুলের গাছ লাগালে সৌন্দর্য বাড়বে।

তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় পলাশগাছ খুব বেশি নেই। ধীরে ধীরে পলাশগাছ হারিয়ে যাচ্ছে। শিমুলগাছ রয়েছে বেশ কিছু। রাস্তার ধারে পলাশ ও শিমুলগাছ লাগালে পরিবেশ যেমন সুন্দর হবে, তেমনি প্রকৃতিও ফিরে পাবে তার রঙিন রূপ। তিনি নিজ উদ্যোগে পলাশগাছ লাগানোর চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিম হায়দার বলেন, আগামী জুন-জুলাই মাসে বন বিভাগের পরিচালন ব্যয় থেকে প্রায় ২০ হাজার বনজ ও ফলদ গাছ লাগানো হবে। তবে রাস্তার ধারে ফুলের গাছ লাগানোর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে এই উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত