অমর একুশে বইমেলা

নানা আলোচনা, বিতর্ক আর দেনদরবারের পর ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। মেলা পিছিয়ে ঈদের পর নেওয়া না হলে প্রকাশকদের একটা বড় অংশ অংশগ্রহণ না করার কথা জানিয়েছিল। স্টলের ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব দিয়ে তাদের রাজি করিয়েছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। শেষ মুহূর্তে আবার দাবি তোলা হয়, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাউকে বড় প্যাভিলিয়ন দেওয়া যাবে না। সবাইকে স্টল দিতে হবে। কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেওয়ায় দৃশ্যত অংশগ্রহণমূলক বইমেলার সব বাধা কাটল।
নির্বাচন আর পবিত্র রমজানের কারণে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর তারিখ নিয়ে কয়েক মাস ধরে টানাহেঁচড়া চলছিল। প্রথমে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ১৭ জানুয়ারি বইমেলার তারিখ ঘোষণা করা হয়, পরে নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণ দেখিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই তারিখ স্থগিত করে দেয়। এরপরে সিদ্ধান্ত হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা হবে। তখন ক্ষুব্ধ একদল প্রকাশক ঐতিহ্য ধরে রাখতে পয়লা ফেব্রুয়ারি এক দিনের প্রতীকী মেলা পর্যন্ত করেন।
ক্ষতি এড়াতে মেলা ঈদের পর নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পর নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি। ঝড়-বৃষ্টির মৌসুমের কথা বলে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ মেলা পেছাতে রাজি হয়নি।
২০ তারিখ মেলা শুরু হবে জানানোর পর নতুন সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রকাশকদের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি করা হয়। শেষ মুহূর্তে সৃজনশীল প্রকাশকদের একটি অংশ ‘প্রকাশক ঐক্য’র ব্যানারে আবার বইমেলা পিছিয়ে ঈদের পরে নিতে দাবি জানায়। অন্যথায় তারা মেলায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সর্বশেষ ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, সৃজনশীল প্রকাশক, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) এবং বাংলা একাডেমির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বৈঠকে বইমেলার চূড়ান্ত সময়সূচি স্থির হয়। সবশেষে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী বইমেলা উদ্বোধন করবেন ২৬ ফেব্রুয়ারি।
তিন শর বেশি প্রকাশককে আবার স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশক ঐক্যর পক্ষ থেকে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রকাশক মাহরুখ মহিউদ্দিন গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ঐক্যের মূল ভিত্তি ছিল শতভাগ ন্যায্যতার প্রশ্ন, সৃজনশীল প্রকাশনাশিল্পের মর্যাদা রক্ষা, সর্বস্তরের প্রকাশকের সম-অধিকার নিশ্চিত করা। প্রকাশক ঐক্য এবারের মেলায় সবার সমান অধিকারের স্বার্থে প্যাভিলিয়ন না দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু সে দাবি মানা হচ্ছিল না। রোববার রাতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) আন্তরিক একটি সমঝোতা হয়েছে। তাই সবাই মেলায় অংশ নিচ্ছে।’
সবশেষ সমঝোতা অনুযায়ী, এবারের বইমেলায় কোনো প্যাভিলিয়ন থাকছে না। বড়-ছোটনির্বিশেষে সব প্রকাশনীই পাবে স্টল।
চারদিক খোলা বড় বিক্রয়কেন্দ্র প্যাভিলিয়ন হিসেবে পরিচিত। সাধারণত বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ পেয়ে থাকে।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর সদস্যসচিব ড. মো. সেলিম রেজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা স্টল বুঝিয়ে দিচ্ছি। অনেকে স্টল তৈরি শুরু করে দিয়েছেন। তাঁরা অভিজ্ঞ প্রকাশক। রাতদিন কাজ করতে হবে। আশা করছি, আমাদের সব প্রস্তুতিই উদ্বোধনের আগে শেষ হবে।’
মেলা প্রাঙ্গণের চিত্র
গতকাল সোমবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা গেল সারি সারি হার্ডবোর্ড আর অসংখ্য রঙের কৌটা। কিছু স্টল দাঁড়িয়েও গেছে পুরো অবয়ব নিয়ে। কোনোটার কাঠামো শেষ, চলছে ঘষামাজার কাজ। কোনো স্টলে কাজ করছেন রংমিস্ত্রি।
একটি স্টলে কাজ করছিলেন মো. রাসেল এবং তাঁর সহকর্মী। রাসেল বললেন, ‘কয়েকবার তারিখ পাল্টানোয় কেউ নিশ্চিত ছিল না কখন শুরু হচ্ছে মেলা। মেলার এখন যে পরিস্থিতি, তাতে স্টলের কাজ শেষ হতে উদ্বোধনের পরেও দিন তিনেক সময় লাগবে।’
একদিকে তৈরি হয়ে যাওয়া একটা সুদৃশ্য প্যাভিলিয়ন আবার ভাঙা হচ্ছিল। ‘ভাঙছেন কেন?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্যস্ত শ্রমিকের জবাব— ‘প্যাভিলিয়ন থাকব না। সব স্টল হইব।’
প্রকাশক ঐক্যর সদস্য অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, ‘রমজানে শ্রমিক পাওয়া মুশকিল। স্টল বানানোর ম্যাটেরিয়াল (জিনিসপত্র) পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন করে যে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা শতভাগ বুঝিয়ে দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তারপরেও চাচ্ছি, বইমেলা হয়ে যাক। রাতদিন কাজ করে প্রস্তুতি নিতে হবে। মেলার ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।’
বইমেলায় পাঠক আসতে থাকে দুপুরের পর থেকে। আর তা জমে ওঠে বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে। রমজানে মানুষ সেই বিকেলের দিকেই ঘরমুখী হয়। তারপরেও তাঁরা যেন বইমেলায় আসেন, সেই আহ্বান প্রকাশকদের। জাকির হোসেন বললেন, ‘রমজান মাসে বিকেল থেকে মানুষ ঘরে ফিরতে থাকে। তখন থেকে নামাজের তিনটা ওয়াক্ত। এর মধ্যেই সময় করে সবাইকে মেলাতে আসার আহ্বান থাকল।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে বিজয়ী হন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন দুটি হচ্ছে—বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭। সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একাধিক আসনে নির্বাচিত হলেও কেবল একটিতে সংসদ সদস্য হিসেবে থাকতে পারেন। সে অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন তারেক রহমান।
১ ঘণ্টা আগে
ফুটপাত আর সংলগ্ন সড়কজুড়ে সারি সারি দোকান। ফল, পোশাক, মোবাইল সামগ্রীসহ হরেক রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। হকারদের কবল থেকে মুক্তি নেই পদচারী-সেতুতেও। এই চিত্র সাভারের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকার। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এসব ভাসমান দোকান থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। আর এর খে
১ ঘণ্টা আগে
মুকুলে ঠাসা আমগাছগুলো। কোনো কোনো ডাল নুয়ে পড়ছে। গাছতলায়; এমনকি দূরেও ম-ম গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজশাহী অঞ্চলে এবার প্রায় সব আমবাগানের চিত্র এ রকম। চাষি ও কৃষি বিভাগ বলছে, ইতিমধ্যে বাগানগুলোর প্রায় ৬৩ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
বরগুনা সদর উপজেলায় সাড়ে ২২ কিলোমিটারের একটি সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে এক বছর আগে; কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। ক্রোক স্লুইসগেট থেকে নিশানবাড়িয়া পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
২ ঘণ্টা আগে