Ajker Patrika

যশোরের মনিরামপুর: ইউএনও দপ্তরের নাজির করালেন প্রকল্পের কাজ

  • ইউপি সদস্যদের সভাপতি করা হলেও কাজের বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না
  • তিন প্রকল্পে বরাদ্দ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কাজে অনিয়মের অভিযোগ
আনোয়ার হোসেন (মনিরামপুর) যশোর 
যশোরের মনিরামপুর: ইউএনও দপ্তরের নাজির করালেন প্রকল্পের কাজ

যশোরের মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবন ও সীমানাপ্রাচীর সংস্কার এবং উপজেলা পরিষদের নির্বাচন দপ্তরের পাশে প্রবেশপথে দেয়াল ও ফটক নির্মাণে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দে প্রকল্প তিনটিতে সভাপতি করা হয়েছে রোহিতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুজন ও নেহালপুর ইউপির এক সদস্যকে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রকল্পগুলোতে স্বাক্ষর করেন ইউএনও সম্রাট হোসেন। এরপরই তিনটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

ইউএনওর বাসভবন সংস্কার ও বাসভবনে অবস্থিত কার্যালয়ে অনারবোর্ড স্থাপন প্রকল্পে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দে সভাপতি করা হয়েছে রোহিতা ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল ইসলামকে, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দে ইউএনওর বাসভবনের সীমানাপ্রাচীর ও ফটক সংস্কার এবং ফটকে নামফলক স্থাপন প্রকল্পের সভাপতি করা হয় একই ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শরিফুল ইসলামকে এবং ৩ লাখ টাকা বরাদ্দে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন দপ্তরের পাশে প্রবেশপথে দেয়াল ও ফটক নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি করা হয় নেহালপুর ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মফিজুর রহমানকে।

অভিযোগ উঠেছে, এই তিনটি প্রকল্পে তিনজন ইউপি সদস্যকে সভাপতি করা হলেও তাঁরা কোনো কাজ করাতে পারেননি। তাঁদের দিয়ে বিলে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে কাজ করিয়েছেন ইউএনও দপ্তরের নাজির শাহিন আলম। তিনি বরাদ্দ অনুযায়ী যথাযথ কাজ করেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নাজির শাহিন আলম নিজে প্রকল্প তিনটিতে কাজ করানোর কথা স্বীকার করেছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ২ লাখ টাকার প্রকল্পে শাহিন উপজেলা নির্বাচন ও সমাজসেবা দপ্তরের মধ্যে ১৫-২০ ফুট লম্বা প্রাচীরের কাজ করিয়ে মাঝে ১২-১৪ ফুট লম্বা দুই পার্টবিশিষ্ট লোহার গেট বসানোর কাজ করিয়েছেন। আর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্পে ইউএনওর বাসভবনের প্রাচীরে হালকা রং করিয়ে ফটকে একটি নামফলক স্থাপন করিয়েছেন। তবে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দে ইউএনওর বাসভবনে কী কাজ করানো হয়েছে, তা দেখা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা পরিষদের একাধিক সূত্র বলছে, বরাদ্দ তিনটিতে অর্ধেক টাকার কাজ করিয়ে বাকি টাকা লোপাট করা হয়েছে।

নেহালপুর ইউপির সদস্য মফিজুর রহমানের কাছে প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বরাদ্দের সঠিক তথ্য জানাতে পারেননি। মফিজুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন অফিসের পাশের প্রাচীর ও গেটের কাজের প্রকল্পটির আমি সভাপতি। কিন্তু আমি সে কাজ করাতে পারিনি। ওই কাজ ইউএনও অফিসের শাহিন করিয়েছেন। “কাজ শেষ করে ৫-১০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে” বলে শাহিন আমাকে বলেছেন।’

ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম ও রেজাউল ইসলাম জানান, তাঁরা বরাদ্দের বিষয়ে জানেন; কিন্তু কাজ তাঁরা করেননি। নাজির শাহিন কাজ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাজির শাহিন আলম প্রকল্পের কাজ করানোর কথা স্বীকার করে বলেন, ‘প্রকল্পে লাভ-লসের হিসাব তো আমি কাউকে দিইনি। এ হিসাব তো আমি ইউএনও স্যারকে দেব।’ এক প্রশ্নের জবাবে শাহিন বলেন, ‘কেন আমি কাজ করাতে গেছি, এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না।

আমি ইউএনও স্যারের নির্দেশে কাজ করেছি।’

এ বিষয়ে জানতে ইউএনও সম্রাট হোসেনের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। পরে প্রকল্পের কাজে অনিয়মের বিষয়ে জানতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। তিনি তা দেখলেও কোনো উত্তর দেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ: বেশির ভাগ উঠবে না সংসদে

রোজার সময় সহবাসের নিয়ম ও বিধান

কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার না পাওয়ার যে কারণ জানালেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

অবশেষে তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কে তিনি

ফরিদগঞ্জে শৌচাগার থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত