প্রতিনিধি

গাজীপুর: করোনার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রতিটি দিন এক অনিশ্চয়তার অন্ধকার জেঁকে বসছে মানুষের চিন্তাজুড়ে। অর্থনীতির বেহাল দশা সর্বত্র। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে শঙ্কিত।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। নানা অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রকল্প চলমান। মেট্রোরেল, পদ্মাসেতুর মতো মেগা প্রজেক্টগুলো সরকারের বড় একটি চ্যালেঞ্জের অংশ। যেহেতু লকডাউনে মানুষের আয় কম তাই প্রতিক্রিয়া হিসেবে সরকারের রাজস্বও কমবে সমান তালে। করোনার এই সময়ে লকডাউনে সাধারণ মানুষের আয়ের পথ রুদ্ধ। কাজেই দেশের একটা বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার আরও নিচে চলে যাবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।
এতসব সমস্যার পরেও সবচেয়ে বড় যে সমস্যা দেশের মানুষকে চিন্তিত করে তুলছে তা হলো বিদ্যালয় বন্ধের সময়ে স্কুলপড়ুয়াদের স্মার্টফোনে আসক্তি। বাংলাদেশে বর্তমানে সেলফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। করোনার কারণে গত বছর থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার। শিক্ষা ব্যবস্থাকে চলমান রাখতে বিকল্প ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। উদ্যোগটি সময়োপযোগী হলেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছাত্রসমাজে এরই মধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
যেহেতু সন্তান স্কুলে না গিয়ে অনলাইনে ক্লাস করবে তাই অভিভাবকদের বাধ্য হয়ে স্মার্টফোন কিনে দিতে হয়েছে। উপজেলায় এমন অনেক পরিবার আছে যারা দিনমজুর। অনেকে সুদে টাকা নিয়ে সন্তানকে কিনে দিয়েছেন স্মার্টফোন।
গাজীপুর কালীগঞ্জের প্রায় সর্বত্র ঘুরে দেখা যায় স্কুলপড়ুয়াদের বিশাল একটা অংশ স্মার্টফোন নিয়ে গেম খেলে দিন পার করছে। সিওসি, ফ্রি-ফায়ার, পাবজি, তিনপাত্তির মতো মোবাইল গেমের আসক্তিতে পড়ে নষ্ট করছে তাদের মূল্যবান সময়। যেহেতু এসব খেলতে ইন্টারনেট সংযোগ লাগে তাই তারা অনলাইন ক্লাসের কথা বলে টাকা নিচ্ছে। আবার এসব গেমস খেলতে অনেক সময় নগদ অর্থেরও প্রয়োজন পড়ে। যেমন সিওসি–তে জেম কিনতে টাকা লাগে। ফ্রি-ফায়ারে অনেক ইকুইপমেন্ট কিনতে টাকার প্রয়োজন পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই তখন তারা টাকার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং অনেক সময় অন্যায়ভাবে হলেও সে টাকা সংগ্রহ করে।
ভয়ঙ্কর এসব খেলা থেকে আরও একধাপ এগিয়ে আছে লুডু খেলা। ধরা হয় বিভিন্ন অঙ্কের বাজি। ছোট অঙ্কের বাজি এতটাই মারাত্মক যে দিন দিন তাদের জুয়াড়ি করে তুলছে।
স্কুলপড়ুয়াদের বইয়ের সাথে সম্পর্ক নেই এক বছরের বেশি সময়। স্কুল থেকে যেসব অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয় তা বাড়িতে সরাসরি বই দেখে লিখে নিয়ে স্কুলে উপস্থাপন করে। যে কারণে মান হারাচ্ছে প্রকৃত শিক্ষা ব্যবস্থাও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্র বলে, প্রথম দিকে অনলাইন ক্লাস করার জন্য তার অভিভাবক তাকে সেলফোন কিনে দেয়। ক্লাস শেষ হলে সে তার মোবাইলটি মাকে ফেরত দিয়ে দিত। একদিন তার এক সহপাঠীর কাছে ফ্রি-ফায়ার গেম সম্পর্কে জানতে পারে। শুরুতে খুব একটা ভালো না বুঝলেও এখন সে বেশ পরিপক্ব। এমনকি সে সারা রাত জেগেও মোবাইলে গেম খেলে।
স্কুল ছাত্রের অভিভাবক নিপা কোড়াইয়া বলেন, তার ছেলে ষষ্ঠ শ্রণিতে পড়ে। স্কুল থেকে জানানো হয়েছিল অনলাইনে ক্লাস করার জন্য সেলফোন লাগবে। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে মোবাইল কিনে দেই। এখন মনে হচ্ছে ভুল করেছি। যখন দেখি মোবাইল চালাচ্ছে তখন জিজ্ঞেস করলে বলে অনলাইনে ক্লাস করছে। সারাদিন বাইরে কাজ করতে হয়। সাথে করে মোবাইল নিয়ে গেলে সে ক্লাসও করতে পারবে না। তাই ঠিকমত নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।
রায়েরদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউসার আহমেদ বলেন, আমরা প্রায় প্রায়ই অভিভাবকদের সাথে জুম মিটিং করি। তাঁদের আমরা বলেছি, অনলাইনে ক্লাস শেষ হওয়ার পরেই সন্তানের কাছ থেকে সেলফোনটি অবশ্যই নিয়ে নিবেন। সন্তানদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন। সময়মতো পড়তে বসে কিনা, রাতে ঠিকমতো ঘুমাচ্ছে কিনা এসব খেয়াল রাখতে হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নূর-ই-জান্নাত প্রতিবেদককে জানান, শিক্ষার্থীদের এখন অনলাইনে ক্লাস করা ছাড়া বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। আর আমি মনে করি অভিভাবকদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্ববান হওয়া জরুরি। তাঁর সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে তার সম্পূর্ণ তদারকি একজন অভিভাবকের ওপরেই বর্তায়।
এদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইটগুলোতে অবাধে বিচরণ শুরু করেছে কোমলমতি এই কিশোরদের অনেকে। পর্নো সাইটগুলোতে ঝুঁকে পড়ছে আশংকাজনক হারে।

গাজীপুর: করোনার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রতিটি দিন এক অনিশ্চয়তার অন্ধকার জেঁকে বসছে মানুষের চিন্তাজুড়ে। অর্থনীতির বেহাল দশা সর্বত্র। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে শঙ্কিত।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। নানা অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রকল্প চলমান। মেট্রোরেল, পদ্মাসেতুর মতো মেগা প্রজেক্টগুলো সরকারের বড় একটি চ্যালেঞ্জের অংশ। যেহেতু লকডাউনে মানুষের আয় কম তাই প্রতিক্রিয়া হিসেবে সরকারের রাজস্বও কমবে সমান তালে। করোনার এই সময়ে লকডাউনে সাধারণ মানুষের আয়ের পথ রুদ্ধ। কাজেই দেশের একটা বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার আরও নিচে চলে যাবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।
এতসব সমস্যার পরেও সবচেয়ে বড় যে সমস্যা দেশের মানুষকে চিন্তিত করে তুলছে তা হলো বিদ্যালয় বন্ধের সময়ে স্কুলপড়ুয়াদের স্মার্টফোনে আসক্তি। বাংলাদেশে বর্তমানে সেলফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। করোনার কারণে গত বছর থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার। শিক্ষা ব্যবস্থাকে চলমান রাখতে বিকল্প ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। উদ্যোগটি সময়োপযোগী হলেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছাত্রসমাজে এরই মধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
যেহেতু সন্তান স্কুলে না গিয়ে অনলাইনে ক্লাস করবে তাই অভিভাবকদের বাধ্য হয়ে স্মার্টফোন কিনে দিতে হয়েছে। উপজেলায় এমন অনেক পরিবার আছে যারা দিনমজুর। অনেকে সুদে টাকা নিয়ে সন্তানকে কিনে দিয়েছেন স্মার্টফোন।
গাজীপুর কালীগঞ্জের প্রায় সর্বত্র ঘুরে দেখা যায় স্কুলপড়ুয়াদের বিশাল একটা অংশ স্মার্টফোন নিয়ে গেম খেলে দিন পার করছে। সিওসি, ফ্রি-ফায়ার, পাবজি, তিনপাত্তির মতো মোবাইল গেমের আসক্তিতে পড়ে নষ্ট করছে তাদের মূল্যবান সময়। যেহেতু এসব খেলতে ইন্টারনেট সংযোগ লাগে তাই তারা অনলাইন ক্লাসের কথা বলে টাকা নিচ্ছে। আবার এসব গেমস খেলতে অনেক সময় নগদ অর্থেরও প্রয়োজন পড়ে। যেমন সিওসি–তে জেম কিনতে টাকা লাগে। ফ্রি-ফায়ারে অনেক ইকুইপমেন্ট কিনতে টাকার প্রয়োজন পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই তখন তারা টাকার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং অনেক সময় অন্যায়ভাবে হলেও সে টাকা সংগ্রহ করে।
ভয়ঙ্কর এসব খেলা থেকে আরও একধাপ এগিয়ে আছে লুডু খেলা। ধরা হয় বিভিন্ন অঙ্কের বাজি। ছোট অঙ্কের বাজি এতটাই মারাত্মক যে দিন দিন তাদের জুয়াড়ি করে তুলছে।
স্কুলপড়ুয়াদের বইয়ের সাথে সম্পর্ক নেই এক বছরের বেশি সময়। স্কুল থেকে যেসব অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয় তা বাড়িতে সরাসরি বই দেখে লিখে নিয়ে স্কুলে উপস্থাপন করে। যে কারণে মান হারাচ্ছে প্রকৃত শিক্ষা ব্যবস্থাও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্র বলে, প্রথম দিকে অনলাইন ক্লাস করার জন্য তার অভিভাবক তাকে সেলফোন কিনে দেয়। ক্লাস শেষ হলে সে তার মোবাইলটি মাকে ফেরত দিয়ে দিত। একদিন তার এক সহপাঠীর কাছে ফ্রি-ফায়ার গেম সম্পর্কে জানতে পারে। শুরুতে খুব একটা ভালো না বুঝলেও এখন সে বেশ পরিপক্ব। এমনকি সে সারা রাত জেগেও মোবাইলে গেম খেলে।
স্কুল ছাত্রের অভিভাবক নিপা কোড়াইয়া বলেন, তার ছেলে ষষ্ঠ শ্রণিতে পড়ে। স্কুল থেকে জানানো হয়েছিল অনলাইনে ক্লাস করার জন্য সেলফোন লাগবে। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে মোবাইল কিনে দেই। এখন মনে হচ্ছে ভুল করেছি। যখন দেখি মোবাইল চালাচ্ছে তখন জিজ্ঞেস করলে বলে অনলাইনে ক্লাস করছে। সারাদিন বাইরে কাজ করতে হয়। সাথে করে মোবাইল নিয়ে গেলে সে ক্লাসও করতে পারবে না। তাই ঠিকমত নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।
রায়েরদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউসার আহমেদ বলেন, আমরা প্রায় প্রায়ই অভিভাবকদের সাথে জুম মিটিং করি। তাঁদের আমরা বলেছি, অনলাইনে ক্লাস শেষ হওয়ার পরেই সন্তানের কাছ থেকে সেলফোনটি অবশ্যই নিয়ে নিবেন। সন্তানদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন। সময়মতো পড়তে বসে কিনা, রাতে ঠিকমতো ঘুমাচ্ছে কিনা এসব খেয়াল রাখতে হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নূর-ই-জান্নাত প্রতিবেদককে জানান, শিক্ষার্থীদের এখন অনলাইনে ক্লাস করা ছাড়া বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। আর আমি মনে করি অভিভাবকদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্ববান হওয়া জরুরি। তাঁর সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে তার সম্পূর্ণ তদারকি একজন অভিভাবকের ওপরেই বর্তায়।
এদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইটগুলোতে অবাধে বিচরণ শুরু করেছে কোমলমতি এই কিশোরদের অনেকে। পর্নো সাইটগুলোতে ঝুঁকে পড়ছে আশংকাজনক হারে।

তিন দিন ধরে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে কুমির বিচরণ করতে দেখা গেছে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তীরবর্তী এলাকায় নদীতে কখনো সকালে, কখনো দুপুরে কুমির ভেসে উঠছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। হঠাৎ পদ্মায় কুমির বিচরণের খবর শুনে তা দেখতে নদীতীরে ভিড় করছে উৎসুক জনতা।
১০ মিনিট আগে
দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে হাসি ফিরেছে সুমন-এনি দম্পতির ঘরে। আজ মঙ্গলবার একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতককে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ওই প্রসূতি পাঁচ সন্তান জন্ম দেন। তার মধ্যে তিনজন মেয়ে ও দুজন ছেলে।
৩৬ মিনিট আগে
ট্রেড ইউনিয়নের নামে হয়রানি, খাদ্য মূল্যস্ফীতি, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের অভাব ও নিয়মবহির্ভূত স্ট্রিট ফুডের বিস্তারে দেশের রেস্তোরাঁ খাত আগে থেকেই সংকটে ছিল। নতুন করে যোগ হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চরম সংকট। বাড়তি দাম দিয়েও সময়মতো মিলছে না এলপিজি। এতে অনেক রেস্তোরাঁই বন্ধের পথে রয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় আলোচিত শিশু হৃদয় খান নিবিড় হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে ২১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
১ ঘণ্টা আগে