Ajker Patrika

ই-পাসপোর্টের আবেদন করে বিপাকে, একই দিনে সংশোধন ও বাতিলের এসএমএস

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৩৮
ই-পাসপোর্টের আবেদন করে বিপাকে, একই দিনে সংশোধন ও বাতিলের এসএমএস
ফাইল ছবি

কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্টের আবেদন করে বিপাকে পড়েছেন মো. অপু মিয়া। একই দিনে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর মুঠোফোনে প্রথমে ‘সংশোধনের প্রয়োজন’ এবং পরে ‘আবেদন বাতিল’—সংক্রান্ত দুটি এসএমএস আসে। আবেদন বাতিলের কারণ হিসেবে আগের একটি পাসপোর্টের তথ্য গোপনের কথা জানানো হলেও, ওই পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে আবেদনকারীর নাম, বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানার কোনো মিল নেই।

২৮ সেপ্টেম্বর মো. অপু মিয়া কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্টের জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য ও আঙুলের ছাপ দেন। বাড়ি ফেরার পর ওই দিন বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে ‘ইপাসপোর্টবিডি’ থেকে তাঁর মুঠোফোনে একটি এসএমএস আসে।

এসএমএসে বলা হয়, ‘প্রিয় গ্রাহক, ওআইডি১০৩৮১৩৪৬২৬ নম্বরের পাসপোর্ট আবেদনটির ক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে পুনরায় কাজ বা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।’

আবেদনকারী সংশোধনের বিষয়টি জানার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই প্রায় দুই ঘণ্টা পর, বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে একই নম্বরে আরেকটি এসএমএস আসে।

দ্বিতীয় এসএমএসে বলা হয়, ‘প্রিয় মো. অপু মিয়া, ওআইডি১০৩৮১৩৪৬২৬ নম্বরের পাসপোর্ট আবেদনটি কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে।’

একই দিনে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরস্পরবিরোধী দুটি বার্তা পাওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েন মো. অপু মিয়া।

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে আবেদন বাতিলের কারণ জানতে কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যান মো. অপু মিয়া। তাঁর দাবি, সেখানে সহকারী পরিচালক অলিউল ইসলাম তাঁকে জানান, তাঁর নামে আগে এ০৯৫২৩৩২০ নম্বরের একটি পাসপোর্ট রয়েছে।

আগের পাসপোর্টের তথ্য গোপন করে নতুন আবেদন করায় বর্তমান আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়। সেই সঙ্গে আগের পাসপোর্ট হারিয়ে থাকলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে নতুন করে পাসপোর্টের আবেদন করতে বলা হয় বলেও তাঁর ভাষ্য।

তবে এ০৯৫২৩৩২০ নম্বরের পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করে ভিন্ন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন মো. অপু মিয়া। তাঁর ভাষ্য, ওই পাসপোর্টে নাম রয়েছে ‘হৃদয়’। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৫১২৩১৯২৩৬০ এবং জন্মতারিখ ১ অক্টোবর ১৯৯৯।

ওই পাসপোর্টে পিতার নাম মো. কবির হোসেন এবং মাতার নাম মোছা. রুমা খাতুন উল্লেখ রয়েছে বলে জানান মো. অপু মিয়া। স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া রয়েছে ফুলবাড়ী, ঝিকরগাছা, কায়েমখোলা বাজার-৭৪২০, যশোর।

মো. অপু মিয়ার দাবি, এসব তথ্যের সঙ্গে তাঁর নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানার কোনো মিল নেই।

আবেদন বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক অলিউল ইসলাম বলেন, ‘পুনরায় কাজ বা সংশোধনের প্রয়োজন’ সংক্রান্ত এসএমএস যাওয়ার পর আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে। আবেদনকারীকে নতুন করে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

একই দিনে পাসপোর্ট অফিস থেকে পাঠানো বিপরীত দুই ক্ষুদে বার্তা। ছবি: আজকের পত্রিকা
একই দিনে পাসপোর্ট অফিস থেকে পাঠানো বিপরীত দুই ক্ষুদে বার্তা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বর্তমান আবেদন বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক চালানও বাতিল হবে বলে মো. অপু মিয়াকে জানানো হয়েছে। নতুন করে পাসপোর্টের আবেদন করলে নতুন চালান দিতে হবে বলেও তাঁকে জানানো হয়।

আগের চালানের টাকা ফেরতের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক অলিউল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হবে।

ওআইডি১০৩৮১৩৪৬২৬ নম্বরের আবেদনটি কেন বাতিল করা হলো, অন্য পাসপোর্টের তথ্য কীভাবে বর্তমান আবেদনকারীর সঙ্গে যুক্ত হলো এবং দুই ঘণ্টার ব্যবধানে সংশোধন থেকে বাতিলের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন মো. অপু মিয়া।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত