Ajker Patrika

খাল দখল করে প্রভাবশালীর ফিশারি, তলিয়ে গেল ২০ একর জমির ধান

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
খাল দখল করে প্রভাবশালীর ফিশারি, তলিয়ে গেল ২০ একর জমির ধান
কোমরপানিতে নেমে আজ ধান কাটছেন কৃষক মাজহারুল ইসলাম ও ইলিয়াস মিয়া। পানির নিচে পচে গেছে পাকা ধান। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের আশিয়ল গ্রামের পূর্বপাড়ায় খালের মুখ বন্ধ করে মাছের ঘের (ফিসারি) নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান মোড়ল নামে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এতে খালের পানি পাশের কাটাখালী নদীতে যেতে না পারায় গ্রামের সামনের নিচু বিল এলাকায় পানি জমে অন্তত ২০ একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আশিয়ল গ্রামের পূর্বপাড়ার খালটি কাটাখালী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বর্ষা ও জমির অতিরিক্ত পানি ওই খাল দিয়ে নদীতে নেমে যেত। কিন্তু সম্প্রতি খালের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষের জন্য ঘের নির্মাণ করায় পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিলে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

কৃষকদের অভিযোগ, পানির নিচে পড়ে অনেক জমির পাকা ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। আবার জমিতে অতিরিক্ত পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। শ্রমিকসংকটের কারণে হাতে ধান কাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক হাজার মণ ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘খালের মুখ বন্ধ থাকায় নিচু জায়গার পানি নদীতে নামতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানিতে জমির ধান তলিয়ে গেছে। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, তাই কোমরপানিতে নেমে নিজেই ধান কাটছি। অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারব না। ১৫০০ টাকা রোজে শ্রমিক নিলেও পোষাবে না।’

আরেক কৃষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ধান তলিয়ে যাচ্ছে। ছেলের স্কুল বন্ধ করে তাকে সঙ্গে নিয়ে ধান কাটতে নেমেছি। যা পারি ঘরে তুলতে চাই। খালের মুখ দখলমুক্ত করলে এলাকার কৃষকেরা উপকৃত হবে।’

কৃষক নুরনবী বলেন, ‘খালটি খনন করে পানি চলাচল সচল রাখা হলে শুধু আমাদের বিল নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি বিলের ধান নৌকায় সহজে গ্রামে আনা যেত।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান মোড়ল বলেন, ‘খালের কিছু অংশ আমার ফিশারির মধ্যে পড়েছে, এটা ঠিক। বাকিটা আমার নিজস্ব জায়গার মধ্যে। আমার জায়গা দিয়ে তো খাল যেতে দেব না। কয়েক বছর আগে ভরাট করার সময় তখন কেউ বাধা দেয়নি।’

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাল দখলমুক্ত করে দ্রুত খনন এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা হোক, যাতে কৃষকদের ক্ষতি কমানো যায় এবং ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়।

সিংধা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী বলেন, ‘এলাকাবাসী বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, ‘ওখানকার কেউ বিষয়টি আমাকে জানায়নি। আপনার মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। যেহেতু খাল দখলের বিষয় রয়েছে, সে ক্ষেত্রে প্রশাসনের সহায়তা লাগবে। কৃষকেরা চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন।’

বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জিনিয়া জামান বলেন, ‘খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি দেখতে বলা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ধর্ষক মসজিদের ইমাম নয়, বড় ভাই—ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত

ইলন মাস্কের শুক্রাণু নিয়ে চার সন্তানের জন্ম দেন সহকর্মী জিলিস

‘পুশইন’ ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান ভারতের

গাজী গ্রুপে নিয়োগ, বেতন ছাড়াও থাকছে নানা সুবিধা

এমএলএ বাগিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা বিরোধীদের, বিজয়ের দলের বিধায়কদের গণপদত্যাগের হুমকি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত