Ajker Patrika

ভুয়া তথ্যে রোহিঙ্গার এনআইডি: ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ১১
ভুয়া তথ্যে রোহিঙ্গার এনআইডি: ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২
ফাইল ছবি

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ভুয়া তথ্য ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দুই রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বানিয়ে দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুলসহ ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মঞ্জুরুল মিয়া ও চাকরিচ্যুত কম্পিউটার অপারেটর কাঞ্চন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার বিকেলে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত রাতে মামলার পর আজ ভোরে অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় আসামিরা হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রংছাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল (৬৪), উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মঞ্জুরুল মিয়া (২৫), নির্বাচন অফিসের চাকরিচ্যুত ডেটা-এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া (২৯), আরিফ মিয়া (৩৪) ও স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরা (৩০), উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের ওমর আলী (৪৯) এবং একই গ্রামের মোকসেদ আলী (৪৪)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জাল কাগজপত্র তৈরি করে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ও এনআইডি পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন। এতে নির্বাচন অফিসের কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মী ও স্থানীয় কয়েকজনের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান গত ২ মার্চ কলমাকান্দায় যোগ দেন। এর আগে কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তির ভোটার নিবন্ধন নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে গত ২৯ মার্চ ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তদন্তের নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ৩১ মার্চ তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গাকে ভোটার করার সত্যতা মিললে গত ২০ জুলাই আউটসোর্সিং কর্মী কাঞ্চন মিয়া, আরিফ মিয়া ও স্মরণ সরকার হীরাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই কয়েকজনের ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়া এবং সার্ভারে তথ্য আপলোডের কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে তথ্য যাচাই ও সরেজমিন তদন্তে ভুয়া তথ্যে ভোটার হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

সবশেষ নূর হালিমা ও মুজিবুর রহমান নামের দুই রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরির ক্ষেত্রে নির্বাচন অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্টদের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। এ ছাড়া গত ২৯ জুলাই অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করার পেছনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঞ্জুরুলের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমাদের ওয়েবসাইটে ওই দুজনের কোনো তথ্য নেই। তাঁরা বাইরে থেকে জালিয়াতি করে জন্মনিবন্ধন বানিয়ে নিয়েছেন।’

রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরির বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে নূর হালিমা ও মুজিবুর রহমান নামের দুই রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়। এর মধ্যে নূর হালিমাকে গত ১১ আগস্ট এনআইডি দেওয়া হয়। আর মুজিবুর রহমানের তথ্য সার্ভারে তুললেও বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এনআইডি হস্তান্তর করা হয়নি। খবরের সত্যতা জানতে শান্তিনগর গ্রামে গেলে ওমর আলী জানান, নূর হালিমা নামে তাঁর কোনো মেয়ে নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত