Ajker Patrika

নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে দম্পতিকে পেটালেন যুবদল নেতা, ভিডিও ভাইরাল

সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ২০: ০৯
নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে দম্পতিকে পেটালেন যুবদল নেতা, ভিডিও ভাইরাল
মো. খলিলকে রক্ষা করতে গেলে দম্পতিকে পেটান যুবদল নেতা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে এক দম্পতিকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী গ্রামের খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার মো. খলিল ও তাঁর স্ত্রী তাসলিমা আক্তার খুকি (৩৫) একই গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মো. সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং একই এলাকার মনতারাগো বাড়ির সামছুদ্দিন মোল্লার ছেলে।

ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তার খুকি অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামী দুই মাস ধরে সফিকের অধীনে মাছের খামারে কাজ করেন, কিন্তু সফিক বেতন দেয়নি। বেতন চাইতে গেলে সফিক দাবি করেন, তাঁর স্বামী খলিল ইয়াবা সেবন করে সব টাকা খরচ করেন। গেল ঈদুল আজহার সময়ও বেতন না পাওয়ায় কষ্টে দিন কেটেছে। এরপর তিনি স্বামীকে সফিকের কাজে যেতে বারণ করেন, যা নিয়ে সফিক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

মো. খলিলকে রক্ষা করতে গেলে দম্পতিকে পেটান যুবদল নেতা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
মো. খলিলকে রক্ষা করতে গেলে দম্পতিকে পেটান যুবদল নেতা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ওই নারী আরও বলেন, আজ সকালে বাড়ির পাশে নদীতে তাঁর স্বামী জাল বসান। অভিযুক্ত যুবদল নেতা সফিক ওই জাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় সফিক তাঁর স্বামীকে প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সফিক তাঁর ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে এসে আবারও তাঁর স্বামীকে মারধর শুরু করেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাঁকেও পেটানো হয়। যুবদল নেতা সফিক তাঁর খামারে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে ওই নারী অভিযোগ করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা মো. সফিক বলেন, ‘খুকির পরিবারের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন আগে তাঁর স্বামী আমার মাছ চুরি করেন। শনিবার সকালে জাল নিয়ে আসার পথে খুকি ও তাঁর স্বামী আমাকে আক্রমণ করে এবং আমার নাক ফাটিয়ে দেয়।’

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন বলেন, ‘ভিডিওটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখার পর বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত