Ajker Patrika

নিয়মবহির্ভূতভাবে চলছে পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ, নির্দেশনা মানছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

সলিল বিশ্বাস মিঠু, গোপালগঞ্জ
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ২৭
নিয়মবহির্ভূতভাবে চলছে পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ, নির্দেশনা মানছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
টেস্ট টিউবওয়েল সফল হওয়ার আগেই পাইপলাইন বসিয়ে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ছবি: আজকের পত্রিকা

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুরাতন মানিকদাহ-লতিফপুর পাইপড পানি সরবরাহ স্কিমে নকশা বহির্ভূত কাজ করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। টেস্ট টিউবওয়েল সফল হওয়ার আগেই সেখানে পানি সরবরাহের পাইপলাইন বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ বন্ধ করেছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিক টেস্ট টিউবওয়েল সফল হওয়ার পর পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপনের কথা। তবে টেস্ট টিউবওয়েল সফল হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘সেফ ওয়াটার সাপ্লাই থ্রুআউট দ্য কান্ট্রি’ প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির চারটি পাইপড পানি সরবরাহ স্কিম নির্মাণে ৭০২৮ নম্বর প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পটির অনুমোদিত চুক্তিমূল্য ১০ কোটি ৭০ লাখ ২১ হাজার ১৫৫ টাকা। কাজের মেয়াদ ১৬ মাস।

সরেজমিন পরিদর্শনের পর সদর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী রতন কুমার সাহা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে সতর্ক করেন। চিঠিতে বলা হয়, বারবার জানানো সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি সঠিকভাবে কাজ করেনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মানিকদাহ এলাকার প্ল্যান্ট স্থাপন স্কিমে প্রথমে টেস্ট টিউবওয়েল বসিয়ে পানির গুণগত মানসহ প্রয়োজনীয় বিষয় পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর ওই পানির উৎসকে কেন্দ্র করে সরবরাহ লাইন স্থাপনের কথা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গৌতম মণ্ডল বলেন, ‘টেস্ট টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যাবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত হয়নি। এদিকে পানি সরবরাহের জন্য পাইপলাইন বসানোর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। আমরা চাই, এভাবে কাজ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করুক। তাহলেই আমরা সুপেয় পানি পাব।’

স্থানীয় বাসিন্দা রেখা বাগচী বলেন, ‘আমাদের এই এলাকায় পানির অনেক সমস্যা। আমরা চাই, নিয়ম অনুযায়ী সঠিকভাবে এই কাজটি সম্পন্ন করা হোক। তা না হলে আমাদের কোনো লাভ হবে না। নিরাপদ পানি পান করা থেকে আমাদের এলাকার লোক বঞ্চিত হবে।’

গোপালগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সদর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী রতন কুমার সাহা বলেন, ‘ড্রয়িং, ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত কাজ না করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার বলেছি, লিখিত চিঠি দিয়েছি। এরপরও ঠিকাদার তাঁর ইচ্ছেমতো পাইপলাইনের কিছু কাজ করেছেন। টেস্ট টিউবওয়েল সফল না হলে ওই এলাকায় প্ল্যান্ট স্থাপন করা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে পাইপলাইন স্থাপনের জন্য অফিস দায়ী থাকবে না।’

গোপালগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে নোটিশ দিয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ বন্ধ করিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী টেস্ট টিউবওয়েল সফল হওয়ার পর পরবর্তী কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘এমপিটি এমএমই জেভি’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. সোহেল রানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির সাইট ইঞ্জিনিয়ার সৌমিক কাজী বলেন, ‘আমরা টেস্ট টিউবওয়েলের কাজ করছি। এটি সফল হলে পরবর্তী সময়ে গ্রাহক সংযোগসহ বাকি কাজ শুরু করব। কে বা কারা গ্রাহক সংযোগের পাইপলাইনের কাজ করছে, তা আমাদের জানা নেই। পাইপলাইনের কাজ করার জন্য আমাদের কারও সঙ্গে কোনো লিখিত চুক্তিও হয়নি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত