
সরোয়ার হোসেন বাবলা। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম নগরীর চালিতাতলী হাজির পোল এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগের সময় পেছন থেকে গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁর।
দীর্ঘদিন চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বাবলা। ১৫টির বেশি মামলা তাঁর নামের পাশে। অনেকবার জেলও খেটেছেন। গত বছরের ২৭ জুলাই শেষবারের মতো গ্রেপ্তার হন তিনি। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর জামিনে বের হয়ে নামের পাশ থেকে সন্ত্রাসী তকমা সরাতে রাজনীতিতে মনোযোগ দেন বাবলা। চট্টগ্রাম বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে থাকেন।
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জুড়তে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের হয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা অনুষ্ঠান, খেলাধুলার আয়োজন করতে থাকেন বাবলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিতেন নিয়মিত। এমনকি মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর কয়েকটি পোস্ট দেখা যায়।
নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার কালা মুন্সির বাড়ির খন্দকারপাড়ার আব্দুল কাদেরের ছেলে বাবলা। আর্থিক অনটনে চালিতাতলী হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া তাঁর। স্ত্রী, মা-বাবা এবং পাঁচ ভাই ও দুই বোন নিয়ে বাবলার পরিবার। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ৪৩ বছর বয়সী বাবলা।
বাবলার পিতা আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমার ছেলে ঠিকভাবে বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু তাঁকে বাঁচতে দেওয়া হলো না। আমার ছেলেকে হত্যাকারীরা কয়েকবার মারতে চেয়েছিল এর আগে।’
ভাইদের মধ্যে সবার ছোট মো. আজিজ বলেন, ‘আমার ভাইকে এলাকাতে হত্যা করার পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করেছিল হত্যাকারীরা। সবার সামনে সেটা বাস্তবায়ন করেছে তারা। আমার ভাইয়ের ওপর পরপর গুলি করার পরও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়নি। তারা দাঁড়িয়েই ছিল। আমাদের করার কিছু ছিল না। আজকে ভাইকে মেরেছে, কাল আমাকে মারবে। কে থামাবে তাদের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলতে কিছু আছে?’
আজিজ আরও দাবি করেন, তিন বছর আগে বাবলা জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। এরপরও পুলিশসহ একটি চক্র তাঁকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বিভিন্নভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চালায়।
চট্টগ্রামের আরেক সন্ত্রাসী সাজ্জাদের সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের পূর্বশত্রুতা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রায় দেড় দশক আগে চট্টগ্রামে বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রমে আলোচনায় আসে বাবলা ও তাঁর বন্ধু ম্যাক্সনের নাম। সে সময় তাঁরা পরিচিত ছিলেন শিবির ‘ক্যাডার’ সাজ্জাদ হোসেন খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে। সাজ্জাদ চট্টগ্রামের আট খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর স্ত্রী ভারতীয় (পাঞ্জাবের) হওয়ার সুবাদে তিনি সেখানে অবস্থানের সুযোগ পান।
২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নগরীর প্রবর্তক মোড়ে একটি রোগ নির্ণয়কেন্দ্র থেকে ১১ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় আলোচনায় আসেন বাবলা। একই বছরের ৬ জুলাই বায়েজিদ এলাকা থেকে তাঁকে একে-৪৭ রাইফেল, পিস্তল, এলজি ও গুলিসহ আটক করে পুলিশ। যদিও ওই অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। অনেকে দাবি করেন, পদোন্নতির জন্য পুলিশ ওই অস্ত্র উদ্ধার দেখায়।
জেলে থাকা অবস্থায় বাবলার সঙ্গে সাজ্জাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। জেল থেকে বেরিয়ে সাজ্জাদের অনুপস্থিতিতে বায়েজিদসহ আশপাশ এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে বাবলা ও ম্যাক্সনের বিরুদ্ধে। অস্ত্র মামলায় জামিন পেয়ে ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট কাতারে চলে যান বাবলা।
২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে দেশে ফিরলে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরদিন তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরের বায়েজিদ খানাধীন খোন্দকারপাড়া এলাকা থেকে একে-২২, এলজি ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করার কথা জানায় পুলিশ।
বাবলার পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, চালিতাতলী শিবির অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় সে সময় মহিম নামের একজন বড় ভাইয়ের সঙ্গে চলাফেরা করতেন বাবলা। শিবির ক্যাডার ও আট খুনের মামলার আসামি সাজ্জাদের হয়ে কাজ করতেন মহিম। মহিমের সঙ্গে চলাফেরা করায় তাঁকে শিবিরের কর্মী বলা হতো। বাবলা কখনো শিবিরের কোনো পদে ছিলেন না বলে দাবি করে তাঁর পরিবার।
আরও খবর পড়ুন:

মাকু আর শানার খটখট শব্দ তুলে আপন মনে শাড়ি বুনছেন হরিপদ। মাটির গর্তে বসে ছন্দে ছন্দে তৈরি করছেন বর্ণিল শাড়ি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চাহিদা বেড়েছে, তাই দম ফেলবার ফুরসত নেই এই কারিগরের। হরিপদ কাজ করেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল গ্রামের ‘শুদ্ধ তাঁত’ নামক কারখানায়।
২ ঘণ্টা আগে
যশোর শহরের আরবপুর পাওয়ার হাউস পাড়ার বাসিন্দা শহিদুল আলম। বাসা থেকে শহরের চার খাম্বা মোড়ে তাঁর কর্মস্থলের দূরত্ব চার কিলোমিটার। সাধারণত রিকশায় করে কার্যালয়ে যেতে সময় লাগে ২০ মিনিটের মতো। কিন্তু তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা সময় হাতে রেখে রওনা দিতে হয়। তবু সড়কের তীব্র যানজটের কারণে সময়মতো অফিসে...
২ ঘণ্টা আগে
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা ইছামতী, হুরাসাগর ও ফুলজোড় নদীতে একসময় ছিল স্রোত, চলত নৌযান। সময়ের ব্যবধানে সে চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ফুলজোড় নদীর কিছু অংশে খননকাজ হলেও ইছামতী ও হুরাসাগরের বেশির ভাগ অংশ এখন পানিশূন্য। শুষ্ক মৌসুম তো বটেই, বর্ষাকালেও অনেক জায়গায় পানির দেখা মেলে না।
২ ঘণ্টা আগে
তেজগাঁও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. সোহেল রানা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি শেষ বর্ষ ২০২৩ সালের পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ৬ মার্চ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষার সময় তিনি কলেজের ৬০৮ নম্বর কক্ষে দায়িত্বে ছিলেন...
৩ ঘণ্টা আগে