Ajker Patrika

হোমনায় দুই শিশুসহ এক নারীকে নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যা

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
হোমনায় দুই শিশুসহ এক নারীকে নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যা
নিহত নারী ও দুই শিশু। ছবি: সংগৃহীত

হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের উত্তর মনিপুর গ্রামে ঘরে ঢুকে এক নারী ও দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলো উত্তর মনিপুর গ্রামের সৌদিপ্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সুখি (৩২), তাঁর শিশু ছেলে মো. হোসাইন (৪) এবং নারীর প্রবাসী ভাশুর আব্দুস সাত্তারের ছেলে জুবাইদ (৫)। তারা সবাই জহিরুল ইসলামের ঘরে ঘুমিয়েছিল।

নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা জানান, কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। তাঁদের কোনো শত্রুও ছিল না।

পুলিশ পরিদর্শক দীনেশ চন্দ্র দাশ গুপ্ত জানান, সিআইডি ও পিবিআই আসার পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হবে।

নিহত পাপিয়া আক্তারের ভাই মো. সাইদুল হক জানান, তাঁরা সকালে তাঁর বোন ও ভাগিনার খুন হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছেন। নিহত পাপিয়া আক্তারের ভাগিনা আমান উল্লাহরও একই বক্তব্য। তিনিও শুনেছেন কে বা কারা তাঁর ফুফু ও ফুফাতো ভাই হোসাইন এবং তার চাচাতো ভাই জুবাইদকে গলা কেটে ভেতরে ফেলে রেখেছে।

খুন হওয়া শিশু জুবাইদের মা লিপি আক্তার জানান, তাঁর ছেলে জুবাইদ গতকাল রাতে তার বড় আম্মুর (বড় চাচি) সঙ্গে ঘুমানের বায়না ধরে। সে অনুযায়ী রাতে খাবার খেয়ে সেও তাদের সঙ্গে ছিল। সকালে অনেক বেলা হয়ে যাওয়ায় ছেলেকে খাওয়ানোর জন্য ডাকতে গেলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা দেখা যায়। প্রথমে তাঁর বড় ছেলে সাত বছরের জুনাইদকে পাঠান জুবাইদকে ডাকার জন্য। দরজা ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকে জুবাইদকে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখেছে বলে মা লিপি আক্তারকে জানান। পরে তিনি ঘরে ঢুকে প্রথমে জায়ের ছেলেকে গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পান এবং পরে একে একে অন্য দুটি কক্ষ থেকে জা ও নিজ সন্তানের গলাকাটা লাশ খুঁজে পান। ঘরের দরজার কাছে একটি ছুরি পেয়েছেন। তিনি কারও সঙ্গে তাঁদের কোনো শত্রুতা অথবা পারিবারিক কোনো ঝামেলা ছিল না বলে জানান এবং তাঁর জাও ভালো ছিলেন। কারও সঙ্গে অনৈতিক কোনো সম্পর্কও ছিল না বলে জানান।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, এখনো কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। ঘর থেকে কোনো কিছু খোয়া যাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। ফোনে নিহত পাপিয়া আক্তারের প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে কথা বলে তাঁর বরাতে ওসি আরও জানান, তাঁদের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত