Ajker Patrika

গুলশানে চাঁদাবাজি: ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী বাবার দাবি, ‘দুই ছেলে ফেঁসে গেছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৫, ২০: ০৮
গুলশানে চাঁদাবাজি: ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী বাবার দাবি, ‘দুই ছেলে ফেঁসে গেছে’

চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই ছেলে সিয়াম ও সাদাব। এ কথা বিশ্বাস করেন না বাবা এসএম কবিরুজ্জামান। তাঁর দাবি, ছেলেরা ফেঁসে গেছে।

রাজধানীর গুলশান এলাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুই ভাই সিয়াম ও সাদাবের বাড়ি রাজশাহী। বাবা একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী, বেতন সাড়ে ৬ হাজার টাকা। বাবার সামান্য আয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন, তাই দুই ভাই টিউশনি করতেন। তবে কয়েক মাস ধরে তাঁরা আর টিউশনি করতেন না।

সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ছাত্র। দুই ভাই-ই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে বহিষ্কৃত সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। দুজনের ফেসবুক প্রোফাইলেই রিয়াদের সঙ্গে চলাফেরার ছবি রয়েছে।

সিয়াম ও সাদাবের বাবা এসএম কবিরুজ্জামানের আদি বাড়ি নাটোরের গোপালপুরে। এক দশক আগে ব্যবসা করতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এরপর নাটোরের বাড়িভিটা বিক্রি করে দেনা শোধ করেন। প্রায় আট বছর আগে পরিবার নিয়ে রাজশাহী আসেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহীর কেচুয়াতৈল এলাকায় মেসার্স এন বি ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনে চাকরি করেন।

সিয়াম ও সাদাব রাজশাহীতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনার পর ঢাকায় গিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরিবার আগে খড়খড়ি এলাকায় হজরত আলী নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকত। দুই ছেলে ঢাকায় চলে যাওয়ার পর বাবা-মা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। বাসাটির ভাড়া সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

আজ সোমবার বিকেল ৪টায় রাজশাহীর কেচুয়াতৈল এলাকায় মেসার্স এন বি ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সিয়াম ও সাদাবের বাবা কবিরুজ্জামান গাড়িতে গ্যাস ভরছেন। সেখানেই কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, তিনি সাড়ে ৬ হাজার টাকা বেতন পান। এর মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিতেই চলে যায়।

দুই ছেলের পড়াশোনায় মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান কবিরুজ্জামান। তবে নিজের অন্য কোনো সম্পদ, এমনকি বাড়িও নেই বলে জানান তিনি। তাহলে সাড়ে ৬ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে কীভাবে চলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গাড়িতে গ্যাস দিই, এই সময় কেউ খুশি হয়ে কিছু দেয়। তা দিয়ে চালাতে হয়।’

কবিরুজ্জামান জানান, দুই ছেলে আগে টিউশনি করতেন। তবে কয়েক মাস আগে টিউশনি ছেড়ে দেন। তখন তিনি শোনেন যে, ছেলেরা রাজনীতি করছেন। এরপরও তাঁদের নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। গতকাল রোববার সকালে তিনি শুনেছেন, ছেলেরা চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এ অভিযোগ তিনি বিশ্বাস করতে চান না। তাঁর মতে, ছেলেরা ফেঁসে গেছেন।

কবিরুজ্জামান বলেন, ‘এদের জীবনটা আলাদা। তারা সুন্নত বলে কোনো দিন নিজেদের দাড়ি কামায়নি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। এরা চাঁদাবাজি করতে যাবে, এটা তো বিশ্বাস হয় না।’

ফিলিং স্টেশনটির কয়েকজন কর্মচারী নিশ্চিত করেছেন, কবিরুজ্জামানের রাজশাহীতে নিজের কোনো বাড়ি নেই। তিনি ভাড়া থাকেন। ছেলেরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে জেনে তাঁরা অবাক হয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার, হবে সর্বজনীন

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত