Ajker Patrika

এবার ভোটকেন্দ্র দখলে নিয়ে সিল মারার ঘটনা ঘটবে না: আইজিপি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
এবার ভোটকেন্দ্র দখলে নিয়ে সিল মারার ঘটনা ঘটবে না: আইজিপি
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, ‘নির্বাচনে আমরা দেখেছি, ভোট থামিয়ে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে সিল মারে। এটাকে যদি ‘‘মব’’ বলেন—এটা চিরকালই ছিল, আজকে নতুন না। কিন্তু এবার এই ধরনের একটা ঘটনাও ঘটবে না। যেটা নির্বাচন কমিশন বলেছে, যদি এমনটা করে, আমরা ভোট বন্ধ করে দেব। একটা কেন্দ্রে করলে আমরা আসনই বন্ধ করে দেব। এবার পারবে না, শুধু দেখেন।’

আজ মঙ্গলবার সকালে ‘পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‘আমাদের তিন ধরনের নির্বাচনী নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচন কেন্দ্রে ও এর বাইরে ভ্রাম্যমাণ পুলিশ ফোর্স এবং স্টাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। নির্বাচনে নিরাপত্তা রক্ষায় ৮০-৯০ ভাগ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। পুলিশের তরফ থেকে আমরা ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করব। এ ছাড়া জেলার পুলিশ সুপাররা, তাঁদের কাছে যেই ড্রোন আছে, সেগুলো তাঁদের সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ব্যবহার করবেন।

‎‎‘নির্বাচনী নিরাপত্তায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৫ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন ৯৩ হাজার ৩৯১ জন। এ ছাড়া অন্যান্য সহায়তায় বিভিন্ন দায়িত্বসহ মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ কাজ করবে। নির্বাচনে বিগত সরকারের আমলে পুলিশের সিদ্ধান্ত বা নির্দেশ দেওয়ার মতো ইন্সপেক্ট থেকে ওপরের কর্মকর্তাদের দায়িত্বের বাইরে রাখা হয়েছে।’

‎‎নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈধ অস্ত্র জমার বিষয়ে বাহারুল আলম বলেন, ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র থানায় জমা নেওয়া হয়েছে। কতগুলো অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি, তার সংখ্যা বেশি নয়। অনেকে হয়তো দেশে নেই, কিন্তু অস্ত্র লকারে তালা মেরে রেখে বিদেশে আছেন। তাঁদের বৈধ অস্ত্রগুলো হয়তো জমা পড়েনি, তবে তার সংখ্যা খুবই কম। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

‎‎নির্বাচনে নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ছাড়াও বিজিবি, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সবচেয়ে বেশি প্রায় ৬ লাখ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ‎‎এত বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও নিরাপত্তা নেওয়ার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘এটা হুমকির বিষয় নয়। সর্বকালের সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন করতে চাই। এটাই উদ্দেশ্য। সেই জন্য আমরা বেশি প্রস্তুতি নিয়েছি। হুমকি বড় নয়, কিন্তু আমরা নির্বাচনটা উদাহরণ তৈরি করতে চাই।’

‎‎নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১৭টি সহিংস ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও আহত হয়েছেন ৬০৩ জন। ‎প্রতিটি নির্বাচনে এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এবারও চেষ্টা ছিল যতটা কম সহিংস ঘটনা ঘটে। আমরা তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’

‎‎ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে যেটা করেছিলাম, সারা দেশে ৮ হাজার ৭৭০টি সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ, ১৬ হাজারের মতো মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ও বাকি ১৬ হাজারের মতো সাধারণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। অর্থাৎ সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ ও মধ্যম ঝুকিপূর্ণ মিলে মোট ভোটকেন্দ্রের অর্ধেক হয়। এগুলোতে আমরা নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। জেলা নয়, কেন্দ্রভিত্তিক বিবেচনা করা হয়েছে।’

‎ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব ও যোগাযোগব্যবস্থা, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি, আধিপত্য বিস্তারের ও সহিংস পরিবেশ তৈরির সুযোগ আছে, সেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান আইজিপি।

‎‎গত ১৫ বছরে পুলিশের মধ্যে গড়ে ওঠা অভ্যাসের গত দেড় বছরে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি বলেও জানান পুলিশপ্রধান। পুলিশকে ইউনেসকোর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে পুলিশের মধ্যে মনস্তাত্বিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন আইজিপি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নির্বাচনের ৩ দিন যান চলাচলে বিধিনিষেধ, ভোট দিতে যাবেন কীভাবে

এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া আসনে শেষ মুহূর্তে ইশতেহার ঘোষণা জামায়াত নেতার

নেত্রকোনায় চার ভোটকেন্দ্রসহ পাঁচ বিদ্যালয়ে আগুন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ৮৪ আসনে সহিংসতার শঙ্কায় পুলিশ

নভোএয়ারে কক্সবাজার ভ্রমণ প্যাকেজ, পরিশোধ করা যাবে কিস্তিতে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত