Ajker Patrika

১০ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড তিস্তার চর

লালমনিরহাট প্রতিনিধি 
আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ১৮: ৫১
১০ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড তিস্তার চর
ঝড়ে ভেঙে পড়েছে টিনের বাড়িঘর। ছবি: আজকের পত্রিকা

লালমনিরহাটে মাত্র ১০ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে তিস্তার চরাঞ্চলের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট। কৃষিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোররাতে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চল গোবর্ধন স্প্যার বাঁধ এলাকায় আঘাত হানে এই ঝড়।

স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ভোররাতে সেহরি খাওয়ার সময় হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। প্রবলবেগে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। মাত্র ১০ মিনিট তাণ্ডব চালায় ঝড়। এতে অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়েছে। বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে ভেঙে গেছে ঘরবাড়ি। বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে ঘরের আসবাব ও দোকানের মালামাল। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। দিনভর বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন সচল করতে কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

ঝড়ে কৃষিতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। আলু, তামাক, মিষ্টিকুমড়া, ভুট্টাসহ নানান জাতের সবজিখেত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভুট্টাগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। আলুখেতে বৃষ্টির পানি জমে আলু সংগ্রহে বিড়ম্বনায় পড়েছেন চাষিরা। আলু তুলে অনেকেই খেতেই রেখেছিলেন। সেসব আলু এখন নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যেসব খেতে পানি জমেছে এবং আলু উঠাতে সময় লাগবে—এমন খেতের আলুতে দাগ আসার শঙ্কা করছেন চাষিরা। আলুর মন্দা বাজারে দাগযুক্ত আলুর ক্রেতা থাকবে না। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।

কৃষক সুমন বলেন, চরাঞ্চলের প্রতিটি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলু, তামাক আর ভুট্টাখেত পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাত্র ১০ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে ঘরবাড়ি। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। সরকারিভাবে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘরবাড়ি মেরামতের কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। আলু, তামাক, ভুট্টাখেত ঝড়বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। কিন্তু কৃষি বিভাগের কেউ তাঁদের খবর নেয়নি।

স্প্যার বাঁধের বিধবা লাইলী বেগম বলেন, ‘সেহরি খেয়ে শুইছি, জোরে বাতাস উঠলো। এতে একটি বড় গাছ মরমর শব্দ করে ঘরের উপর পড়েছে। বিছানা ছেড়ে দৌড়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছি। গরিব মানুষ খাবার পাই না। এখন ঘরটা মেরামত করব কীভাবে? আমার তো স্বামী-সন্তান কেউ নেই।’

ভুট্টু মিয়া বলেন, ‘বড় একটা গাছ ঘরের ওপর পড়ল, দৌড়ে এসে দরজা কেটে ছেলে, বউ ও একমাত্র নাতিকে বের করে নিয়ে এসেছি। এরপর অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। এখন ঘরটা মেরামত করব, কিন্তু টাকা নেই।’

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মতিয়ার রহমান মতি বলেন, ‘সেহরির সময় হঠাৎ ঝড় ওঠে। এতে আমাদের ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়েছে। আপাতত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এনামুল হাসান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে পুনর্বাসনের জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বরাদ্দ এলে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হবে। আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত