
সৌভিক রেজা
সৌভিক রেজা
সকল লেখা

বদরুদ্দীন উমরের মতাদর্শের ধরন
‘মার্ক্সবাদের ঐতিহাসিক বিকাশের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মার্ক্স সম্পর্কে এঙ্গেল্সের উদ্ধৃতি টেনে লেনিন বলেছিলেন, ‘আমরা যা প্রচার করেছি তা গুরুবাক্য কিছু নয়, তা হলো কর্মসাধনের পথসূচক মাত্র।

সমর সেন ও তাঁর বুদ্ধিবৃত্তির ধরন
‘কবিতা’ পত্রিকা প্রকাশের পরে সম্পাদক বুদ্ধদেব বসুকে লেখা এক চিঠিতে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘তোমাদের কবিতা পত্রিকাটি পড়ে বিশেষ আনন্দ পেয়েছি। এর প্রায় প্রত্যেকটি রচনার মধ্যেই বৈশিষ্ট্য আছে। সাহিত্য-বারোয়ারির দল-বাঁধা লেখার মতো হয়নি।’

মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর জন্মশতবার্ষিকী
মানবজাতির অন্তহীন দুর্ভাগ্যের কথা ভেবে ফরাসি দার্শনিক ভলতের (আমাদের দেশে বেশি পরিচিত ‘ভলতেয়ার’) একবার আশা প্রকাশ করেছিলেন এটা ভেবে যে ‘আমরা যে রকমটি চাই পৃথিবী যদি তেমনটিই হতো—যদি সর্বত্র মানুষ খুঁজে পেত জীবিকা-নির্বাহের সহজ ও নিশ্চিত উপায়, এবং তাদের স্বভাবপ্রকৃতির অনুকূল জলবায়ু—তবে একজন মানুষের

আল মাহমুদের কাব্য-উপলব্ধির সীমানা
কবি-সমালোচক বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন, ‘কবিতা লেখা ব্যাপারটা আসলে জড়ের সঙ্গে চৈতন্যের সংগ্রাম, ভাবনার সঙ্গে ভাষার, ও ভাষার সঙ্গে ছন্দ, মিল, ধ্বনিমাধুর্যের এক বিরামহীন মল্লযুদ্ধ।’ অন্যদিকে দার্শনিক সোরেন কিয়ের্কেগার্দ মনে করতেন যে কবি হলেন এমন একজন অসুখী জীব, যার হৃদয় গোপন যন্ত্রণায় ছিন্নভিন্ন।

হাসান হাফিজুর রহমানের সাহিত্য-প্রচেষ্টা
গেয়র্গ ক্রিস্টফ লিশটেনবার্গ ছিলেন একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞানী ও ব্যঙ্গ-রচনাকার। অন্যদিকে তিনি জাতিতে ছিলেন জার্মান; কিন্তু ব্রিটিশদের ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের প্রতি অনুরাগী। তো লিশটেনবার্গ একবার বলেছিলেন, ‘সনাতনপন্থীরা এ কথা মনে রাখেন না যে মানুষের বিশ্বাস তাদের জ্ঞান ও ইতিহাসের সাধারণ...

বিষ্ণু দের কাব্যচেতনার সমগ্রতা
বিষ্ণু দে কাব্যসাধনার একেবারে শুরুতে ‘মহাভারত’ পাঠের অভিজ্ঞতার সূত্রে খুঁজে পেয়েছিলেন এক অনন্য ‘শান্ত কর্মৈষণা’, যা কিনা নানা ধরনের পরিবর্তনের, দ্বন্দ্বের আর বৈপরীত্যের গ্রহণ-বর্জনের মধ্যে এখনো টিকে রয়েছে আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের চেতনায়, অভিজ্ঞতায়, উপলব্ধিতে। সে-সঙ্গে এটিও দেখতে পাই যে দ্বন্দ্বের

হাসান আজিজুল হকের শৈল্পিক মর্যাদাবোধ
হাসান আজিজুল হক প্রয়াত হয়েছেন খুব বেশি দিন আগের ঘটনা নয়। কিন্তু এরই মধ্যে টের পাওয়া যায় যে তাঁকে নিয়ে পাঠকদের, বিশেষভাবে তরুণ পাঠকদের আগ্রহের টানে বেশ খানিকটা ভাটা পড়েছে। কারণগুলো খুব যে অযৌক্তিক, সেটা বলাও আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

কায়েস আহমেদের লেখালেখির নেপথ্যের প্রস্তুতি
কায়েস আহমেদের প্রিয় সাহিত্যিকদের একজন ছিলেন প্রয়াত হাসান আজিজুল হক। শক্তিমান সেই হাসান আজিজুল হক একবার বলেছিলেন, ‘লেখকমাত্রই অনন্য, স্বতন্ত্রভাবে ভোগ্য ও অনুসন্ধানযোগ্য।’ সেই সঙ্গে তিনি এ-ও আমাদের জানিয়েছিলেন, ‘সাহিত্যবিষয়ক সাধারণ নিয়মকানুনের সিদ্ধান্ত নয়, লেখকদের রচনা এবং রচনা বিচার...

সরদার ফজলুল করিম ও তাঁর আদর্শ
জার্মানির বিজ্ঞানী ও লেখক গেয়র্গ ক্রিস্টফ লিশটেনব্যর্গ তাঁর দার্শনিক নিবন্ধের এক জায়গায় বলেছিলেন, ‘সনাতনপন্থীরা এ-কথা মনে রাখেন না যে, মানুষের বিশ্বাস তাদের জ্ঞান এবং ইতিহাসের সাধারণ পরিবর্তনের ধারা অনুযায়ী বদলায়।

অমিয় চক্রবর্তীর চারিত্র্যশক্তি
তিরিশোত্তর আধুনিক বাঙালি কবিদের মধ্যে অমিয় চক্রবর্তীর মতো আত্মস্থ কবি আমরা খুব কমই দেখতে পাই। জটিল মার্কিন সমাজে দীর্ঘদিন বসবাস করেও এই উপলব্ধি থেকে তিনি কখনো সরে আসেননি: ‘অপার্থিব কী তা আমার জানা নেই, খোলা চোখের সামনে এই আমার অফুরন্ত দু-দিনের দৃশ্যকাব্য।’ তাঁর একান্ত নিজস্ব চেতনার আদলে নির্মিত এই

মাইকেল মধুসূদনের অভিব্যক্তি ও স্বাতন্ত্র্য
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মের দ্বিশতবর্ষ আমরা পার করে এসেছি। এই কবির কৃতিত্ব ঠিক কোথায়? কবি-প্রসঙ্গে আলোচনায় আজ এই প্রশ্নটি আবারও জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ১২৬৯ বঙ্গাব্দে মেঘনাদবধ কাব্যের ভূমিকায় লিখেছিলেন, ‘ঋজু পরিপাটী প্রণালী উদ্ভাবন করিয়া শ্রীযুক্ত মাইকেল মধুসূদন দত্ত এক

আবুল হুসেনের কর্মসাধনার সামর্থ্য
‘একটিমাত্র অভিজ্ঞতা আমার মধ্যে শক্তি সঞ্চয় করেছে: সবকিছুই কাজের ওপর নির্ভরশীল। কাজের প্রতি আমরা সর্বতোভাবে ঋণী; কাজই আমাদের জীবনের মহান নিয়ন্ত্রক।’ নিজের সম্পর্কে কথাগুলো এইভাবেই তাঁর দিনলিপিতে লিখেছিলেন ফরাসি সাহিত্যিক পিয়ের-জুল রেনার। এরই পাশাপাশি তাঁর এ-

কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিভার সংবেদী সারাৎসার
একজন দৃঢ়চেতা মানুষ ও প্রতিভাবান সাহিত্যিক হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করেছিলেন ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের অন্যতম শরিক আবুল ফজল। তাঁর বক্তব্য থেকে আমরা অনুমান করতে পারি যে, যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েই নজরুল বাংলা সাহিত্যের আসরে উপস্থিত হয়েছিলেন। যদিও সেই প্রস্তুতির ইতিহাস তেমন একটা বিশদ জানা যায় না। প

সরদার ফজলুল করিমের জীবন ও অর্জন
নিজেকে যিনি সবসময়ই ‘কৃষকের পোলা’ হিসেবে পরিচয় দিতেন, সেই লোকটির নাম সরদার ফজলুল করিম। এককথায় মানুষটির পরিচয় দেওয়া অনেকটাই অসম্ভব!

আবুল হাসনাতের আত্মশক্তির গরিমা
মানুষের আত্মশক্তির ঐশ্বর্য প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ আমাদের জানিয়েছিলেন, ‘নিজের মধ্যে যখন ঐশ্বর্যকে উপলব্ধি করি না, তখনই মনে করি, ঐশ্বর্য পরের মধ্যেই আছে। কিন্তু যে দীনতাবশত ঐশ্বর্যকে নিজের মধ্যে পাই নাই, সেই দীনতাবশতই তাহাকে অন্যত্র পাইবার আশা নাই।’ আবুল হাসনাতের মধ্যে এই উপলব্ধিটি আমৃত্যু বহমান ছিল। যে

সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কবিধর্মের কয়েকটি দিকচিহ্ন
বিশিষ্ট সাহিত্যিক-রাজনীতিবিদ এবং ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবির একবার বলেছিলেন, ‘প্রতিভার জন্মরহস্য কেউ বলতে পারে না। প্রতিভা তো সব সময়েই তা-ই যা প্রাকৃতিক নিয়মের ব্যতিক্রম।’
