
সঙ্গীতা ইমাম
সঙ্গীতা ইমাম
সকল লেখা

উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: সংগ্রাম শুরু মুক্তির
আজ ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৬৮ সালের এই দিনে মেহনতি মানুষের সার্বিক মুক্তির স্বপ্ন বুকে নিয়ে শিল্পী-সাহিত্যিক-সংগ্রামী সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করেছিল উদীচী।

অবরোধে বিপন্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থী
বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক, একজন শিক্ষক হিসেবে আমি বড্ড বিপন্ন বোধ করছি। মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন শিক্ষক হয়ে বছরের প্রথম থেকে শুনেছি নির্বাচনের বছর হওয়ায় সিলেবাস ও পরীক্ষা তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি বারবার সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সিলেবাস শেষ করতে হবে। ৩০ নভেম্বর

সময়ের আয়নায় আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলন
সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস কেবল বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত নয়; বরং হাজার বছর ধরে বাংলায় বসবাসকারী বিভিন্ন ক্ষুদ্র-জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ইতিহাসের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। হাজার বছর ধরে যে সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলার ইতিহাসের নির্মাণ-বিনির্মাণ ঘটেছে, সাংস্কৃতিক আন্দোলন সেখানে মুখ্য ভূমি

একাত্তরের গানের পাখি
সেদিন (১৭ জুলাই) শহীদ মিনার থেকে বিদায় দিয়ে এলাম এক গানের পাখিকে, আমাদের মুক্তিসংগ্রামের এক বীর যোদ্ধাকে। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ফুলের বেদনায় বিদায় জানালাম বাংলার সেই সাহসী সন্তানকে, যিনি শৈশব উত্তীর্ণ সময়ে দেশের মুক্তির জন্য কণ্ঠের অস্ত্রে যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কনিষ্ঠ কণ্ঠযোদ্ধা

আমার মা
হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে গোলাপি কাঁথায় মোড়ানো শিশুটিকে দেখে তার মায়ের প্রথম মনে হয়েছিল ‘কুমড়োপটাশ’ শব্দটি। শিশুটি গোলগাল আর লাল টসটসে! এই সন্তান মায়ের পরম আদরের প্রথম সন্তান। সেই শিশুর মা একজন সংস্কৃতিকর্মী, যাঁকে মানুষ নৃত্যসারথি লায়লা হাসান

রোকিয়া আফজাল রহমান একজন পৃষ্ঠপোষক
আজকের বাংলাদেশে অনেক নারী উদ্যোক্তাকে আমরা দেখি, যাঁরা দোর্দণ্ড প্রতাপে ব্যবসা করছেন। আবার ছোট ছোট, নতুন উদ্যোক্তাদের সাহায্য করার জন্য বহু সংস্থাও পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে। কিন্তু আমি যে সময়টার কথা বলছি, তখন নারী উদ্যোক্তা হবেন, সেভাবে তিনি নিজেও সম্ভবত খুব জোর দিয়ে ভাবতেন না। হাতে গোনা দুচারজনের কথা

নেত্রকোনা বোমা হামলার ১৭ বছর
২০০৫ সালে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই এক ভয়াবহ নির্মমতার শিকার হয়েছিল বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর নেত্রকোনা জেলা সংসদ। ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনা শহরের অজহর রোডে উদীচীর কার্যালয়ের সামনে জঙ্গি সংগঠন জেএমবির আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয়েছিলেন আটজন। ১৭ বছর আগের ওই দিনটির কথা মনে হলে আজও উদীচীর কর্মী-বন্ধুদের গা শিউরে

শোষণের বেড়াজালে মানুষের প্রাণ
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগানটিই বর্তমান বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের আসল চিত্র বলে আমি মনে করি। আর সে কারণেই স্লোগানের প্রথম অংশটুকু লেখার শিরোনাম হিসেবে ব্যবহার করলাম। মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা আর সাম্যের জন্য উদীচী প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সাংস্কৃতিক সংগ্রাম ক

সত্যেন-রণেশের আঁকা পদচিহ্ন...
১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর সাংস্কৃতিক জাগরণের মাধ্যমে মানুষের মুক্তির সংগ্রামে শামিল হয়ে শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সত্যেন সেন উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

সৃজনজুড়ে বিশ্বলোক
১১ জ্যৈষ্ঠ, নজরুলজয়ন্তী। প্রতিবছর এ দিনটিতে স্মরণ করা হয় আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। প্রেম, দ্রোহ, দেশাত্মবোধ, অসাম্প্রদায়িকতা আর আধুনিক মননের এক অপূর্ব প্রতিচ্ছবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর অসামান্য সৃষ্টিভান্ডারের সামনে...

...তব প্রলয়ের শাঁখ
বাঙালির বর্ষবরণ কেবল উৎসব তো নয়, এমনকি শুধু সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও একে বৃত্তাবদ্ধ করা যায় না। ইতিহাসের পথে হেঁটে, বাঙালির আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে এই বর্ষবরণের ইতিহাস এমনভাবে সম্পৃক্ত, যাকে আজ আর আমাদের জীবন থেকে আলাদা করা যাবে না।

শুভ জন্মদিন ‘ভোরের বিহঙ্গী’
শিল্পী-সাংবাদিক-সংগ্রামী সত্যেন সেন জন্ম নিয়েছিলেন ১৯০৭ সালের ২৮ মার্চ। তাঁর জন্মের বছরটি পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিচিত্র ঘটনাবহুল সময়। পরাশক্তি নির্ধারণে পৃথিবী তখন দুই শিবিরে বিভক্ত।

যে হত্যাকাণ্ডের বিচার আজও হলো না
‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে’—বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার এই পঙ্ক্তিটিই ছিল বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের স্লোগান। ১৯৯৯ সালের ৪, ৫ ও ৬ মার্চ যশোরের ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনে এক ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয় বাংলাদেশের সাং

নবীন পাতায় লাগে রাঙা হিল্লোল
শীতের আমেজ এখনো ফুরোয়নি। মাঘের কণ্ঠে বিদায়বেলার ভৈরবীটাও শৈত্যপ্রবাহের খবরে মোড়ানো। প্রকৃতি যেমনই হোক, পঞ্জিকার পাতা তো ওলটাবেই। অতএব, বাংলার ঋতুরাজ বসন্ত এসে গেছে। আজকের এই বিশ্বায়ন, ইন্টারনেটের যুগে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও বাঙালির উৎসব-আতিথেয়তা কিন্তু হারিয়ে যায়নি।

আসাদের শার্ট আমাদের প্রাণের পতাকা
কবি শামসুর রাহমানের আসাদের শার্ট কবিতাটি সম্ভবত অনেক বাঙালিই পড়েছেন। কবিতাপ্রেমী মানুষেরা তো বটেই, কবিতার সঙ্গে যাঁদের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই, তাঁরাও খবরের কাগজে বা কারও লেখার উদ্ধৃতিতে নিশ্চয়ই পড়ে থাকবেন: ‘আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা/সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক/আসাদের শার্ট আজ

উৎসবের রঙে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ
বাংলাদেশের কত উপমা—ষড়্ঋতুর দেশ, উৎসবের দেশ, পার্বণের দেশ। এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী আবহমান কাল ধরেই বিভিন্ন উৎসবের আবহে তৈরি করেছে তার সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক পরিচিতি, স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে নিজেদের মধ্যে তৈরি করেছে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠীনির্বিশেষে মানুষের সহাবস্থান
