
ফজলুল কবির
ফজলুল কবির
সকল লেখা

মন্ত্রী মহোদয় ৮টা কখন বাজবে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ অবশ্য সেই সাড়ে ৫টায় বলেছেন,৭ টা-৮টার মধ্যে রাজধানীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে। যদিও কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুতের দেখা মিললেও অনেক এলাকার মানুষ এখনো অধীর আগ্রহে বসে আছেন। সেসব এলাকায় এখনো ৮টা বাজেনি।

হায় পাসপোর্ট অফিস, হায় ব্যাকরণ ক্লাস!
কেরানীগঞ্জের পাসপোর্ট অফিসের গেটে থাকা নিরাপত্তা রক্ষী জানালেন, ফরম জমা দিতে হবে দোতলায়। সঙ্গে কক্ষ নম্বরও জানালেন। কিন্তু দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মুখেই দুজনের ডাকে থমকে যেতে হলো। বললেন, ‘ভাই এটাই লাইন।’ অগত্যা তাঁদের পেছনে দাঁড়াতে হলো। যদিও মনে কেমন ‘কিন্তু কিন্তু’ করছিল। দেখতে দেখতে লাইনের শেষ ব্যক্তির

কখন উদ্যাপনও মেরুকরণের শিকার হয়
সমাজের কোনো একটি শ্রেণি, কোনো একটি সম্প্রদায় রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশে থাকার বাস্তবতায় গিয়ে পড়ছে। এখন যেমন নারীরা এমন একটি বাস্তবতায় গিয়ে দাঁড়িয়েছেন; তাঁদের দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভার্চুয়াল ও বাস্তব—উভয় জগতেই তাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন।

না ফেরা মানুষেরা কোথায় যান?
লাশটা পাওয়া গেছে। এ বড় সুসংবাদ। কতজন তো লাশই হতে পারল না ঠিকঠাক। কতজন তো অহেতুক হলো উধাও। কতজন প্রশ্ন করলেন, হারিয়ে যাওয়া মানুষেরা কোথায় যান? এ এক অব্যয় প্রশ্ন যেন, যার কোনো ক্ষয় নেই, নেই কোনো উত্তরও। কিন্তু মরিয়ম ঠিক বললে, তাঁর মা রহিমা তবু লাশ অন্তত হতে পারলেন। এ বড় সৌভাগ্য। এই সৌভাগ্যেই কি কাঁদছে

নারীর পোশাক নিয়ে হঠাৎ এত হল্লা কেন
দেশের অর্থনীতি নিয়ে কতশত দুশ্চিন্তার কথা শোনা যায়। রাজনীতি নিয়েও উৎকণ্ঠার শেষ নেই। নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হওয়ার পর বোঝা গেল রাজনীতি ও নির্বাচনী উত্তাপ ছড়ানো শুরু হয়ে গেছে। আছে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরসহ হাজারটা

পদ কি, আপদ না বিপদ?
কিছুদিন ধরেই মাথায় কেবল ‘পদ’ ঘুরছে। এ নিয়ে মনে মনে বিড়ম্বনাও কম নয়। কারণ, পদ নিয়ে বিপদের তো শেষ নেই কোনো। এ এক বিরাট আপদ বলা যায়। ভাবুন না, পদধারীদের কত তটস্থ থাকতে হয় পদ হারানোর ভয়ে। পান থেকে চুন খসলেই উঠে যেতে পারে পদত্যাগের দাবি। কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কায় যেমনটা হলো। দেশে দেশে এমনটা তো প্রায়ই হয়। আব

নগর ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান নিয়ে এসেছেন আনন্দ
আনন্দ অন্তঃলীনের এই প্রদর্শনীতে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা না থাকলেও আছে বর্জ্যের মঞ্চায়ন। তবে তা বর্জ্যের ধারণা দিলেও বর্জ্যরুদ্ধ বাস্তবতার সঙ্গে ঠিক মিলিয়ে দেয় না। শিল্পী এখানে দর্শককে এতটা যন্ত্রণা দিতে চাননি হয়তো। কিংবা গ্যালারিও হয়তো চায়নি এতটা আবিলে নিজেকে ভরিয়ে তুলতে। তবে ডাস্টবিনের শহর ঢাকাকে হাজির

যে দেশে মৃতরা শুধু সংখ্যা হয়ে যায়
জেলখানার চিঠিতে নাজিম হিকমত লিখেছেন, ‘বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড় জোর এক বছর।’ প্রথম পাঠের সময় মনে হয়েছিল, এ কেমন কথা? প্রিয়তমার কাছেও নাকি শোকের আয়ু এক বছর। কিন্তু এখন এই দেশে...

এই ‘হাওয়া’ কালবৈশাখীর নাকি মৌসুমী?
হাওয়ার গল্প প্রতিশোধের, যেখানে চাঁন মাঝি চাঁদ সওদাগরের কথা স্মরণ করায়। আছে লখাইও, ইঞ্জিনঘরের লোহালক্কড়ে যার বাস। আর বেহুলা? হ্যাঁ, সেও আছে পুরো জাহাজে একমাত্র নারী চরিত্র হিসেবে, বোবার অভিনয় করে বহু পুরুষ বাঁচিয়ে এক প্রিয়জনে নিবেদনের মাধ্যমে। এই প্রিয়র কাছেই শুধু তার সজল বুলির আয়াস। এই একজনের কাছেই

পথগুলো আর আমাদের নেই?
এই শিশুদের চোখ বাঁধা হয়নি। এই শিশুরা সবটা দেখেছে। কত বড় হয়েছিল তখন তাদের চোখ? এই শিশুরা সব শুনেছে, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি উচ্চারণ, প্রতিটি গর্জন, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস। এই শিশুরা চোখের সামনে এক নারীর আর্তনাদকে চাপা পড়তে দেখেছে, দেখেছে কী করে তাঁর ওপর একদল পুরুষ নির্যাতন চালায়। এই শিশুরা সবটা দেখেছে, আর

লোডশেডিংয়ে অর্থনৈতিক সংকট কমে নাকি বাড়ে
রাজধানীর জন্য ঘোষিত সময়সূচির দিকে তাকালে আবার আরেক চিত্র দেখা যায়। বলা হলো, সব এলাকায় সমানভাবে এক-দেড় ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ গেলে আর আসার নাম নেয় না, কিংবা এক-দেড় ঘণ্টা করে কয়েকবার বিদ্যুৎ যায়। কিন্তু কেন?

খাদ্যনিরাপত্তাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ রাজনীতি
আজ কেনা খাবার দুই দিন পরই কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাজার এক স্থায়ী দুঃখের নাম যেন। নানা অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা কমার নাম নেয় না সহজে। ফলে বিশেষত নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা পড়ছে ভয়াবহ ঝুঁকিতে। এটা এখন আর শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের অনেক দেশে

এ জগতে কী আছে বিকল্পহীন
এই বঙ্গমুলুকে একেক সময় একেক ধারা তৈরি হয়, একটা প্রবণতা গণ হয়ে হাজির হয়। এটা এ মাটির রোগ শুধু, নাকি সব দেশে সব কালেই ছিল বা আছে, কে জানে। কেউ কিছু একটা করে বা লিখে বা বলে আলোচনায় এলে দেখা যায় অন্য অনেকেই সে পথে হাঁটছে। শব্দ ব্যবহারের সময়ও অনেককে দেখা যায় এই প্রবণতার ফেরে পড়তে। জনপরিসরে চালু শব্দ-রাজন

সুইমিংপুল কি শুধু শ্রীলঙ্কাতেই আছে?
প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে মানুষ জানছে, ধৈর্য ধারণের কথা। বলা হচ্ছে, গভীর সংকটে আছে দেশ, একটু সেরে উঠতে দাও। কিন্তু জনতা কত দিন এই ধৈর্য ধরে থাকবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নেই। কোথাও বলা হচ্ছে না যে, এটুকু হলেই কাটিয়ে উঠব। জনতা বরং পাল্টা প্রশ্ন তুলছে—‘আগে কেন ভাবোনি বাপু? আমার টাকায় তোমাকে এত

নাচতে নাচতেই যারা মরেছিল
কী হয়েছিল সেই মানুষদের? তারা কি নাচ থামিয়েছিল? না। অনেকে নাচতে নাচতে মরে গিয়েছিল। কেউ হার্ট অ্যাটাকে, কেউ স্ট্রোকে, তবু নাচ থামেনি। কতজন মরেছিল? এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা জানাচ্ছে, নাচতে নাচতে মরে যাওয়া লোকের সংখ্যা ১০০-এর আশপাশে। ইতিহাসে এই ঘটনা ‘ড্যান্স প্লেগ’ নামে পরিচিত।

‘অগ্নিপথ’ নিয়ে অগ্নিপরীক্ষায় ভারত
ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে সেনা নিয়োগের নতুন প্রকল্প ‘অগ্নিপথ’ নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটি। দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার প্রতিরক্ষা বাজেটে ব্যয় সংকোচন ও যুব সমাজের কর্মসংস্থানের অজুহাতে এই অস্থায়ী সেনা নিয়োগ প্রকল্পকে সামনে আনলেও খোদ যুবসমাজই অসুখী। তারা বিক্ষোভ করেছে। যেনতেন নয়, রীতিমতো জ্বালাও-পোড়াও
