
সেলিম জাহান
সেলিম জাহান
সকল লেখা

‘ছুটি, প্রভু, ছুটি’
না, ওঁকে আর দেখব না। দেখব না ওঁর আয়ত গভীর চোখ, ওঁর চিবুকের গভীর টোল। শুনব না ওর শান্ত স্বরের কথা, ওঁর গভীর অভিনিবেশে অন্যের কথা। এ সবই ওঁর অবয়ব ও চরিত্রের অংশ। কিন্তু আমি জানি, প্রয়াত বিভুরঞ্জন সরকার এ সবকিছুকে ছাড়িয়ে আরও বড় ব্যাপ্ত এক অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব। আমার তো জানবারই কথা।

বাংলাদেশ অর্থনীতির আগামী পথযাত্রা: করণীয় কী
সম্প্রতি বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেট উপস্থাপনা-পরবর্তী সময়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে, বাজেটের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন কোথা থেকে হবে; ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হওয়ার সুযোগ কতখানি; কিংবা বাজেটে প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের অন্তরায়গুলো কীভাবে উতরানো যাবে?

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বিলম্বিত উত্তরণ: করণীয় কী
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নানান আলোচনা, বিতর্ক, সিদ্ধান্ত চলে আসছে। কিছুদিন আগে জাতিসংঘের কাছেও সেই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ আবেদনও করেছে।

উন্নয়নের পথ ‘মানবপুঁজি’তে বিনিয়োগ
একটি জাতির সর্বোচ্চ সম্পদ তার ভৌগোলিক আয়তন কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং তার দক্ষ মানবসম্পদ। এই সত্য আরও বেশি প্রযোজ্য হলো বাংলাদেশের জন্য এ কারণে যে আমাদের দেশ একটি বিশাল জনসংখ্যা এবং স্বল্প প্রাকৃতিক সম্পদসম্পন্ন। যেকোনো দেশের জন্য শ্রম ও উদ্যোক্তা হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

পরিমাণগত পরিমাপই উন্নয়নের শ্রেষ্ঠ নির্ণায়ক নয়
অধিকাংশ মানুষের কাছে ‘উন্নয়ন’ বলতে বোঝায় পরিবর্তনের পরিমাণগত পরিমাপ; যেমন মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি। এ-জাতীয় পরিমাপের তিনটি সীমাবদ্ধতা থাকে— এক, উন্নয়নের ধ্যানধারণা অনেক ব্যাপ্ত এবং গভীর। এর যেকোনো পরিমাপ এই ধারণার পুরোটা যথার্থ এবং সামগ্রিকভাবে ধরতে পারে না। এমন পরিমাপ পুরো ধারণার একটি নির্দেশকমাত্র,

কেঁদেও পাব না তাঁদের অজস্র জলাধারে
কত বছর হয়ে গেল। তবু তাঁদের কথা মনে পড়ে যায়। আমার মুক্তিযোদ্ধা-বন্ধুদের কথা; বিশেষ করে সেই মুক্তিযোদ্ধা-বন্ধুদের কথা, যাঁদের আমরা মুক্তিযুদ্ধে হারিয়েছি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দেওয়া বন্ধুরা তো আমার কাছে স্বপ্নের মানুষ ছিলেন না। তাঁদের সঙ্গে প্রায়ই দেখা হতো, আড্ডা মারতাম, উত্তপ্ত তর্ক...

তথ্য ও অপতথ্যে জর্জরিত চারপাশ
মানুষ তথ্য পেতে চায় তাঁর আশপাশসহ সমাজে-রাষ্ট্রে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কী ঘটছে, তা জানতে। তথ্যপিপাসা মানুষের মজ্জাগত আকাঙ্ক্ষা। আমরা তথ্য সংগ্রহ করি মূলত বইপত্র, অন্যের মাধ্যমে ও সংবাদমাধ্যম থেকে।

সমাজের সেই মানবিক বন্ধন গেল কোথায়
বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে কি আসলেই ঘটে গেছে ব্যাপক পরিবর্তন? মানুষ কি সত্যি ভুলে গেছে তার অতীত? আমাদের দেশের গৌরবময় ইতিহাস কি এখন আর কাজ করছে না? বর্তমান প্রজন্ম নামে পরিচিত তারুণ্য কি আসলেই ভুলে যেতে চাইছে আমাদের ইতিহাস? এই প্রশ্নগুলো এখন আগুনের মতো সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যা অস্বীকার কিংবা এড়িয়ে যাওয়া

বাংলাদেশের অর্থনীতি: বর্তমান সমস্যা ও ভবিষ্যৎ অন্তরায়
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছর একটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের পরে দেশে গতকাল যাত্রা শুরু করেছে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার। গত ১৮ মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি মুখোমুখি হয়েছে একাধিক সমস্যার। নবনির্বাচিত সরকারকে এখন সম্মুখীন হতে হবে

বাংলাদেশে বইমেলার অর্থনীতি
প্রতিবছরই বছরের শুরুতে সারা দেশে বইমেলা বসে। ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানী ঢাকা শহরে তো মাসব্যাপী মেলা হয়ই, এ ছাড়া জেলা-উপজেলা শহরগুলোতেও এ সময় বইমেলার হিড়িক পড়ে যায়। এ বছরও ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় বইমেলা বসবে।

আজকের জগৎটি অবিশ্বাস আর অনাস্থার
আমাদের ছোটবেলার জগৎটি ছিল বিশ্বাসের আর আস্থার। বিশ্বাস ছিল মা-বাবা, ভাই-বোন আর আত্মীয়স্বজনের ওপর—তা সেই আত্মীয়তা যত দূরেরই হোক না কেন। বিশ্বাস ছিল পাড়াপড়শির ওপরে, মহল্লার বয়োজ্যেষ্ঠ, বয়োকনিষ্ঠদের ওপরে। বিশ্বাস ছিল শিক্ষকদের ওপরে, সংবাদপত্রের ওপরে, চেনা মানুষদের ওপরে। আজ বললে হয়তো বিশ্বাস হবে না যে

ফিরে দেখা ২০২৫ সাল
আরও একটি বছরের যবনিকাপাত ঘটল। শেষ হয়ে গেল ২০২৫ সাল। নানা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক টানাপোড়েন, উত্থান-পতন, প্রত্যাশা-হতাশার মাঝে সমাপ্তি ঘটেছে বছরটির। সময় এখন পেছন ফিরে তাকানোর—কী পেয়েছি, কী পাইনি; কী আশা করেছিলাম, কোথায় হতাশ হয়েছি, কী কী করতে চেয়েছি, কী কী করতে পারিনি—স্বাভাবিকভাবেই...

বুদ্ধিজীবী দিবস যেন ভুলে না যাই
আজ ১৪ ডিসেম্বর—শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ৫৪ বছর আগে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আমরা হারিয়েছি বাংলাদেশের সূর্যসন্তানদের—শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকদের, গুণী শিল্পীদের, খ্যাতনামা সাংবাদিকদের, প্রথিতযশা কবি-লেখকদের। এঁদের হত্যা করার নীলনকশা তৈরি করেছিল পাকিস্তানি শাসকেরা আর তার বাস্তবায়ন ঘটিয়েছিল তাদের দোসর সহযোগীরা।

অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি কোন দিকে
সম্প্রতি ঢাকার একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকা আয়োজিত অর্থনৈতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বক্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকেই দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন, আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাঁরা সরকার গঠন করলে দেশের অর্থনীতিই হবে তাঁদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ দেশের নাগরিকদে

সংকটময় বিশ্ব: সংঘাত, নাজুকতা ও অস্থিতিশীলতা
বিশ্বের প্রান্তিক মানুষেরাই পরিবেশগত প্রভাবের সিংহভাগ বহন করে, কারণ তারাই পরিবেশগত অবক্ষয়ের সবচেয়ে বড় শিকার। অধিকন্তু, জলবায়ু পরিবর্তন দরিদ্র দেশগুলোরই বেশি ক্ষতি করে। এবং পরিহাসের বিষয় হচ্ছে যে যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী, তারাই এ পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নির্বাচন, গণতন্ত্র এবং মানব উন্নয়ন
আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে প্রায়ই নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হই—প্রাক্-নির্বাচন আইনগত এবং সাংবিধানিক বিষয়ে এবং নির্বাচন-পরবর্তী বিষয়েও। প্রথম বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে একধরনের স্বস্তি বোধ করি—প্রশ্নকারীকে সরাসরি বলি যে আমি আইনের লোক নই কিংবা সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞও নই।
