
উপসম্পাদকীয়
উপসম্পাদকীয়
সকল লেখা

অপরাপর ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বাঙালিদের উপেক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি আছে
সুমন সাজ্জাদ কবি, লেখক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। তাঁর এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৭টি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু প্রবন্ধের বই হলো—‘প্রকৃতি, প্রান্তিকতা ও জাতিসত্তার সাহিত্য’, ‘আধুনিকতা ও আত্মপরিচয়’, ‘ধর্ম নিম্নবর্গ ঠাট্টা’, ‘তুলনামূলক সাহিত্য’ ও ‘শব্দরম্য’।

পলিটিকস ইজ লাভ
এনজিওর নাট্যকলা ও ডোনার ড্রামা ‘আপনার এনজিও কী করে?’ ‘আমরা “জলবায়ু সচেতনতা” নিয়ে কাজ করি।’ ‘অবশ্যই! নিজে এসি রুমে বসে চা খেয়ে বোঝাই, কীভাবে গরিবকে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে হয়!’ ‘আমরা প্রচারণা চালাই—“পৃথিবী বাঁচাও”, আর তাতে ৫০ লাখ টাকার প্রজেক্ট ফান্ড পাই।’

ভোট মানে বেছে নেওয়ার অধিকার
রাশিয়ার পুরোনো একটা কৌতুক আছে। তখনকার প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভ একদিন ফলের দোকানে গেলেন। দোকানে একটামাত্র তরমুজ। তিনি দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার তরমুজের দাম কত?

গণতন্ত্র হাঁপাতে হাঁপাতে আইসিইউতে
সেই কৌতুকটা তো নিশ্চয়ই শুনেছেন? একজন বয়স্ক লোকের সঙ্গে এক তরুণের দেখা হতেই জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী করছ আজকাল?’ ‘জি, সৎ রাজনীতি করার চেষ্টা করছি।’ তরুণ জবাব দিলে বয়স্ক ভদ্রলোক বললেন, ‘ভালো। তুমি শাইন করবে।’

মেরেছ কলসির কানা তাই বলে প্রেম দেব না?
বাংলাদেশে এখন প্রেমও রাজনৈতিক। আগে প্রেমে পড়লে মানুষ কবিতা লিখত, এখন ফেসবুক স্ট্যাটাস দেয়। একসময় ‘কিছু বলব না, বুঝে নিও’ টাইপ প্রেমিকা ছিল—এখন ‘টক্সিসিটিই প্রেমের সৌন্দর্য’ বলে নিজের ফ্যান-ফলোয়ারদের মাঝে থ্রো করে দেয় একখানা থিওরিটিক্যাল বোমা।

গণতন্ত্রের দড়ি আর গোবরের গর্ব
হিমালয়ের চূড়ায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন অনেকেই, কিন্তু বাস্তবে যাঁরা ওঠেন, তাঁদের মধ্যে সাধারণত রাজনীতিবিদ দেখা যায় না। তবে একবার ব্যতিক্রম হলো। ৯ জন মার্কিন পণ্ডিত আর একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ রওনা দিলেন হিমালয় জয় করতে। পথে শুরু হলো দড়ির নাটক। একটা পুরোনো, ক্ষয়ে যাওয়া দড়িতে ঝুলে আছেন দশজন।

মিছিলের আগে ফটোসেশন
ভাই, ব্যানার ঠিক আছে? পোস্টার সোজা লাগছে তো? আরে না না, ওই কোনার ছেলেটা একটু ডান দিকে সরো—পোস্টারের অর্ধেক ঢাকা পড়ে গেছে। ক্যামেরায় হাসিটা ভালো আসছে তো? কেউ কি ‘লাইক’ বাড়ানোর মতো ছবি তুলেছে? এইসব কথাবার্তার মধ্য দিয়েই শুরু হয় আজকালকার মিছিল। কেউ আর চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে না—‘কার জন্য এই সংগ্রাম?’

মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি
মাসিদের যে দরদ থাকতে নেই তা নয়। দরদ তাঁদের থাকে, তাঁরা এমনকি কান্নাকাটিও করেন। তবে মায়ের মতো না; মায়ের কান্নাকাটিটাই খাঁটি বস্তু। মা কিন্তু অনেক সময় কাঁদতেও পারেন না; শোক অল্প হলে কাতর থাকেন, বেশি হলে পাথর বনে যান। ওই জ্ঞান থেকেই, মাসিরা কান্নাকাটি করলে মায়েদের মনে সন্দেহ দেখা দেয় যে মাসিরা হয়তো ভান

মোদিকে কি আরও পাঁচ বছর দেখতে হবে
অবশেষে ফলাফল প্রকাশ পেতেই সবাই অবাক হয়ে গেল। কেউই বিজেপির জয়ের গভীরতা ও ব্যাপ্তি অথবা কংগ্রেসের পরাজয়ের বিষয়টি আগাম বুঝতে পারেনি। রাজস্থানের ব্যাপারে সব সময়ই একটা প্রশ্ন ঝুলে থাকে। এই রাজ্যের মানুষ সাধারণত ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেন। এটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ ছিল না যে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহ

কিসিঞ্জারের মৃত্যু: ক্ষোভ রয়ে গেল
হেনরি কিসিঞ্জার যদি চীন বা রাশিয়ার কূটনীতিক হতেন তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম হিটলার, আইখম্যানদের সঙ্গেই তাঁর নাম উচ্চারণ করত এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে তাঁর বিচার করে বহু আগে ফাঁসির আদেশ দিত বা চাইত!

রেলওয়ে আইন ও আমাদের জানার সীমাবদ্ধতা
থামুন। দেখুন। শুনুন। চলুন। আমরা যারা রেলপথে চলাচল করি কিংবা বৈধ রেলক্রসিং দিয়ে পারাপার হই, তাদের নিশ্চয়ই ত্রিকোণ আকৃতির এমন নির্দেশনাফলক চোখে পড়েছে। এই নির্দেশনাফলকটি স্থাপন করে রেলওয়ে তার সবটুকু দায়িত্ব পালন করেছে। এখন বাকি দায়িত্ব আমরা যারা রেলপথ পারাপার হই কিংবা রেলপথ মাড়াই তাদের।

প্রতিষ্ঠান এবং স্বদেশ
কখনো কোনো ব্যক্তি বা সমমনা কিছু মানুষ বহুদিন ধরে বা হঠাৎই জনগণের জন্য চিন্তা করল। হোক সে বড় জনগোষ্ঠী বা ক্ষুদ্র—তাদের জন্য কিছু একটা করবে। তারপর জন্ম নিল একটা সংগঠন। সেই সংগঠনের নেতা ঠিক হলো। কর্মীদের দায়িত্ব এসে পড়ল। সঠিকভাবে চলতে চলতে ওই সংগঠনটি একসময় পরিণত হলো একটি প্রতিষ্ঠানে। ওই প্রতিষ্ঠান যদি

বিজেপির দুঃশাসন ও ত্রিপুরার রাজনীতি
গত ২৫ অক্টোবর আগরতলায় ত্রিপুরা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কমরেড মানিক সরকারের সরকারি বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেছিলাম। ওই দিনই সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় যোগ দিতে তিনি দিল্লি যাবেন। তাই ঘণ্টাখানেক আলাপের সুযোগ পেয়েছিলাম। ত্রিপুরা রাজ্যের রাজনীতি, রাজনৈতিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথোপকথনের ভ

রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের প্রত্যাশা
রাজনৈতিক অস্থিরতা এ দেশে নতুন কিছু নয়; আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি বা জামায়াত বরাবরই অসহিষ্ণু পরিস্থিতির রাজনৈতিক দল। কিন্তু দিন দিন পরিবেশ-পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে পড়ছে। দীর্ঘসময় সরকারে থাকা আওয়ামী লীগকে বিএনপি বা সমমনা দল ও মানুষেরা আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। পক্ষান্তরে, দেশে সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতিভূ হিসেবে

হালদা মরলে কার লাভ, কার ক্ষতি
মহামান্য হাইকোর্ট নদীকে ‘জীবন্তসত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ২০১৩ সালে ৩৫০৩ / ২০০৯ নম্বর রিট পিটিশনের রায়ে নদ-নদী সংরক্ষণ বিষয়ে হাইকোর্ট বিশেষ নির্দেশনা জারি করেন। সংবিধানের ১৮ (ক) ধারায় উল্লেখ আছে, ‘রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্

রুটিরুজির আন্দোলন ও রাজনীতির লেবাস
৭ নভেম্বর শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম ১২ হাজার ৫০০ টাকা মজুরির ঘোষণা দেন। ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন এই মজুরিকাঠামো কার্যকর হবে এবং জানুয়ারির শুরুতেই শ্রমিকেরা মজুরি পেতে শুরু করবেন।
