খান মুহাম্মদ রুমেল
ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনের বিকেল। সন্ধ্যা হয় হয় সময়ে টিএসসির কোলজুড়ে বহু মানুষের ভিড়। চায়ের কাপে ঝড়। ফুলওয়ালি কিশোরীর রিনরিনে গলার আওয়াজ—একটা মালা নিবেন আফা? নেন না একটা মালা! জ্যামে আটকে পড়া গাড়ি এক্সিলেটরে ঘনঘন চাপ দেয়— ঘোঁত ঘোঁত শব্দ তোলে! মনে হয় খাটো দড়িতে বাঁধা খ্যাপা লাল ষাঁড় বাঁধনমুক্ত হতে চাইছে। আছে রিকশাচালকদের খিস্তি খেউড়। এসব থেকে চোখ এড়ানো না গেলেও, এগোলাম গন্তব্যের দিকে।
টিএসসির গেট দিয়ে ঢুকে পড়ি মেলায়। প্রবেশ মুখে এদিন পুলিশের উপস্থিতি নেই, নেই নিরাপত্তা তল্লাশি। মানুষ নিজের মতো ঢুকছেন। খুব বেশি ভিড় নেই বলে বিশৃঙ্খলাও নেই। এগিয়ে জানলাম অমর একুশে বইমেলা ২০২৫ উদ্বোধন হয়ে গেল একটু আগে। তারপর পর থেকেই খুলে দেওয়া হয়েছে মেলা চত্বর সাধারণ মানুষের জন্য। গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে পেনসিল স্কেচ আঁকিয়েদের ভিড়। প্রতি বছর মেলার একমাস এখানটায় বসে থাকেন তাঁরা। তাৎক্ষণিক ছবি এঁকে দেন আগ্রহী মানুষের—অবশ্যই টাকার বিনিময়ে। তাদের সামনে জড়ো হয়েছে অল্প কিছু মানুষ।
আগেই বলেছি- প্রথম দিনের মেলায় স্বাভাবিক নিয়মেই ভিড় নেই খুব বেশি। যদিও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটির দিন উপলক্ষে ভিড়টা আরেকটু বেশি হতেই পারত। তবে সপ্তাহ পেরোনোর আগেই এই ভিড় আরও অনেকটা বাড়বে— নিশ্চিত।
এবার অনেকটা হুট করেই নগর থেকে বিদায় নিল শীত। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনেই মেলার মাঠে বসন্তের হু হু হাওয়া। গেটের পেরোনোর পরেই বিশাল রেইনট্রি গাছটা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাই। হাতের বাঁয়ে বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রটা তৈরি হয়নি তখনো। উল্টোদিকের বাংলা একাডেমির নিজেদের বই বিক্রির স্টলও তখন পর্যন্ত অপ্রস্তুত। বাতিহীন স্টলে বই গুছিয়ে রাখছেন বিক্রয় কর্মীরা। সামনের দিকে এগিয়ে যাই। ছোট ছোট দল বেঁধে হাঁটছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। তাদের মধ্যে তারুণ্যের সংখ্যাই বেশি। দক্ষিণ দিকে একটু এগিয়ে গিয়ে মুক্ত মঞ্চের সামনে দাঁড়াই। প্রস্তুত হয়ে গেছে বেশির ভাগ স্টল প্যাভিলিয়ন। তবে কিছু স্টলে এখনো নির্মাণকাজ চলছে— যেমনটা হয়ে থাকে প্রতিবছর। সময় সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সবাই স্টল প্রস্তুত করে উঠতে পারেন না। এবারও ব্যতিক্রম নয়।
মুক্তমঞ্চের সামনে থেকে পূব দিকে চোখ মেললে চোখে ধরা দেয় পুরো মেলা। হাঁটতে থাকি ধীর পায়ে। কোনো তাড়া নেই, কাউকে খোঁজা নেই। সন্ধ্যা মিলিয়েছে কেবল, জ্বলে উঠেছে স্টলগুলোর বিজলিবাতি। যারা এদিন মেলায় এসেছেন— বেশির ভাগই ঘুরে-ফিরে দেখছেন। প্রথম দিনে বই কেনার তাড়া নেই কারোর। বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা হেঁটে চলা মানুষের দিকে তাকিয়ে আছেন আগ্রহ ভরে। কোথাও কোথাও বিক্রয়কর্মীরা নিজেদের মধ্যে আড্ডায় মশগুল।
প্রথম দিনে বেশ কিছু শিশু-কিশোরের দেখা মেলে হেঁটে চলার পথে। বাবা মায়ের হাত ধরে হাঁটছে তারা। কলকল কথার স্রোত বইছে তাদের মুখে। এদের প্রায় সবার হাতে বইয়ের প্যাকেট। বোঝা যায় মেলার প্রথম দিনের ক্রেতারা বেশির ভাগই শিশু কিশোর।
পুরো মেলা চত্বর একদফা চক্কর দিয়ে থিতু হই। চা কফির খোঁজ করি। অন্যবারের মতো এবারও মেলা প্রান্তরে চায়ের কোনো আয়োজন নেই। মেলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এবারও কোনায় কোনায় করপোরেট কফির দোকান। তবে সেগুলোও বেশির ভাগ বন্ধ। চা পাগল লেখক পাঠক দর্শনার্থীর কথা এবারও বিবেচনায় নেই! অথচ প্রতিবছরই এ নিয়ে খেদ ঝাড়েন মেলার মানুষেরা।
ইত্যাদি প্রকাশের সামনে চোখে পড়ে লেখক গণমাধ্যমকর্মীদের ছোট্ট আড্ডা। দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখি। কাছে যাব কি না ভাবছি— এমন সময় উঁচু গলায় ডেকে ওঠেন একজন। তাদের কাছে গিয়ে দাঁড়াই। আড্ডায় সময় কাটে। খানিক বাদে চোখে পড়ে সস্ত্রীক হেঁটে যাচ্ছেন সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ। কবি, কথা সাহিত্যিক, সমালোচক, টকশোর তুখোড় আলোচক নানা পরিচয় তাঁর। এসবের আড়ালে তাঁর চিকিৎসক পরিচয় ঢাকা পড়ে যায় মাঝে মাঝে। সহাস্য কুশল বিনিময় শেষে সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ জানতে চান —অনন্যা প্রকাশনীর স্টলটা কোন দিকে? হাত দিয়ে ডান কোনার দিকে নির্দেশ করেন একজন। চলে যান তিনি। আড্ডায় মন বসে না। আবার হাঁটতে থাকি। হেঁটে হেঁটে আবারও দেখা হয়ে যায় সাখাওয়াৎ সায়ন্থ’র সঙ্গে। বইয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন তিনি। এখান থেকে বের হয়েছে তার উপন্যাস নিঃসঙ্গ সত্য। বইটা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখি। ফ্ল্যাপে সায়ন্থ লিখেছেন—কিছু সত্য থাকে যা কাউকে বলা যায় না। মনের মধ্যে সেই গোপন নিঃসঙ্গ সত্যটা কখনো নাড়া দিয়ে উঠে। তা প্রকাশের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মন।
এগিয়ে যাই তার দিকে। প্রশ্ন রাখি— সত্য কেন নিঃসঙ্গ? হেসে ওঠেন সাখাওয়াৎ সায়ন্থ। বলেন— কিছু সত্য থাকে যা কখনো কাউকে বলা যায় না। সেই দিক বিবেচনা করলে কিছু সত্য নিঃসঙ্গ থেকে যায় সব সময়। যেমন আমার এই বইয়ের প্রধান চরিত্র সাফওয়ানের একটা সত্য আছে, যেটা কাউকে বলা যায় না। কিন্তু আবার বলার জন্য মনে আকুলি-বিকুলি চলে। এক সময় সে তার গোপন সত্যটা একজনকে বলে ফেলে ভার মুক্ত হওয়ার আশায়। পরে সাফওয়ানের মনে হয় সত্যটা প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। একপর্যায়ে সেই লোককে খুন করে সাফওয়ান। পরে ভীষণ আত্মদহন থেকে এক সময় সে নিজেও আত্মহত্যা করে।
— এটা কি থ্রিলার? প্রশ্ন করি আমি।
— নাহ, থ্রিলার নয়। এটি একটি নিটোল প্রেমের কাহিনি। যার শেষটা বিয়োগান্তক।
আমি আবার চোখ রাখি বইয়ে। ফ্ল্যাপের শেষ অংশে সায়ন্থ লিখেছেন—ভালোবাসা হারানোর হতাশায় আচ্ছন্ন একজন মানুষ কীভাবে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন হন্তারক এবং শেষ পর্যন্ত আত্মবিধ্বংসী, সেই মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক গল্পের হয়তো পাঠককে আলোড়িত করবে।
আমাদের কথার মাঝখানেই হাজির হোন সায়ন্থের বেশ কয়েকজন বন্ধু। তাদের আড্ডার সুযোগ করে দিয়ে বিদায় নিই। হাঁটতে হাঁটতে মুক্তমঞ্চের সামনের পাচিলে বসে থাকি কিছুক্ষণ। মেলায় এখনো মানুষ ঢুকছেন দলে দলে। আর আমি ধীর পায়ে বের হয়ে আসি মেলা থেকে। ফুটপাথ ধরে হেঁটে চলি শাহবাগমুখী।
আরামদায়ক শীতে একা একা হাঁটতে বেশ ভালো লাগে!
ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনের বিকেল। সন্ধ্যা হয় হয় সময়ে টিএসসির কোলজুড়ে বহু মানুষের ভিড়। চায়ের কাপে ঝড়। ফুলওয়ালি কিশোরীর রিনরিনে গলার আওয়াজ—একটা মালা নিবেন আফা? নেন না একটা মালা! জ্যামে আটকে পড়া গাড়ি এক্সিলেটরে ঘনঘন চাপ দেয়— ঘোঁত ঘোঁত শব্দ তোলে! মনে হয় খাটো দড়িতে বাঁধা খ্যাপা লাল ষাঁড় বাঁধনমুক্ত হতে চাইছে। আছে রিকশাচালকদের খিস্তি খেউড়। এসব থেকে চোখ এড়ানো না গেলেও, এগোলাম গন্তব্যের দিকে।
টিএসসির গেট দিয়ে ঢুকে পড়ি মেলায়। প্রবেশ মুখে এদিন পুলিশের উপস্থিতি নেই, নেই নিরাপত্তা তল্লাশি। মানুষ নিজের মতো ঢুকছেন। খুব বেশি ভিড় নেই বলে বিশৃঙ্খলাও নেই। এগিয়ে জানলাম অমর একুশে বইমেলা ২০২৫ উদ্বোধন হয়ে গেল একটু আগে। তারপর পর থেকেই খুলে দেওয়া হয়েছে মেলা চত্বর সাধারণ মানুষের জন্য। গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে পেনসিল স্কেচ আঁকিয়েদের ভিড়। প্রতি বছর মেলার একমাস এখানটায় বসে থাকেন তাঁরা। তাৎক্ষণিক ছবি এঁকে দেন আগ্রহী মানুষের—অবশ্যই টাকার বিনিময়ে। তাদের সামনে জড়ো হয়েছে অল্প কিছু মানুষ।
আগেই বলেছি- প্রথম দিনের মেলায় স্বাভাবিক নিয়মেই ভিড় নেই খুব বেশি। যদিও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটির দিন উপলক্ষে ভিড়টা আরেকটু বেশি হতেই পারত। তবে সপ্তাহ পেরোনোর আগেই এই ভিড় আরও অনেকটা বাড়বে— নিশ্চিত।
এবার অনেকটা হুট করেই নগর থেকে বিদায় নিল শীত। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনেই মেলার মাঠে বসন্তের হু হু হাওয়া। গেটের পেরোনোর পরেই বিশাল রেইনট্রি গাছটা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাই। হাতের বাঁয়ে বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রটা তৈরি হয়নি তখনো। উল্টোদিকের বাংলা একাডেমির নিজেদের বই বিক্রির স্টলও তখন পর্যন্ত অপ্রস্তুত। বাতিহীন স্টলে বই গুছিয়ে রাখছেন বিক্রয় কর্মীরা। সামনের দিকে এগিয়ে যাই। ছোট ছোট দল বেঁধে হাঁটছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। তাদের মধ্যে তারুণ্যের সংখ্যাই বেশি। দক্ষিণ দিকে একটু এগিয়ে গিয়ে মুক্ত মঞ্চের সামনে দাঁড়াই। প্রস্তুত হয়ে গেছে বেশির ভাগ স্টল প্যাভিলিয়ন। তবে কিছু স্টলে এখনো নির্মাণকাজ চলছে— যেমনটা হয়ে থাকে প্রতিবছর। সময় সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সবাই স্টল প্রস্তুত করে উঠতে পারেন না। এবারও ব্যতিক্রম নয়।
মুক্তমঞ্চের সামনে থেকে পূব দিকে চোখ মেললে চোখে ধরা দেয় পুরো মেলা। হাঁটতে থাকি ধীর পায়ে। কোনো তাড়া নেই, কাউকে খোঁজা নেই। সন্ধ্যা মিলিয়েছে কেবল, জ্বলে উঠেছে স্টলগুলোর বিজলিবাতি। যারা এদিন মেলায় এসেছেন— বেশির ভাগই ঘুরে-ফিরে দেখছেন। প্রথম দিনে বই কেনার তাড়া নেই কারোর। বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা হেঁটে চলা মানুষের দিকে তাকিয়ে আছেন আগ্রহ ভরে। কোথাও কোথাও বিক্রয়কর্মীরা নিজেদের মধ্যে আড্ডায় মশগুল।
প্রথম দিনে বেশ কিছু শিশু-কিশোরের দেখা মেলে হেঁটে চলার পথে। বাবা মায়ের হাত ধরে হাঁটছে তারা। কলকল কথার স্রোত বইছে তাদের মুখে। এদের প্রায় সবার হাতে বইয়ের প্যাকেট। বোঝা যায় মেলার প্রথম দিনের ক্রেতারা বেশির ভাগই শিশু কিশোর।
পুরো মেলা চত্বর একদফা চক্কর দিয়ে থিতু হই। চা কফির খোঁজ করি। অন্যবারের মতো এবারও মেলা প্রান্তরে চায়ের কোনো আয়োজন নেই। মেলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এবারও কোনায় কোনায় করপোরেট কফির দোকান। তবে সেগুলোও বেশির ভাগ বন্ধ। চা পাগল লেখক পাঠক দর্শনার্থীর কথা এবারও বিবেচনায় নেই! অথচ প্রতিবছরই এ নিয়ে খেদ ঝাড়েন মেলার মানুষেরা।
ইত্যাদি প্রকাশের সামনে চোখে পড়ে লেখক গণমাধ্যমকর্মীদের ছোট্ট আড্ডা। দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখি। কাছে যাব কি না ভাবছি— এমন সময় উঁচু গলায় ডেকে ওঠেন একজন। তাদের কাছে গিয়ে দাঁড়াই। আড্ডায় সময় কাটে। খানিক বাদে চোখে পড়ে সস্ত্রীক হেঁটে যাচ্ছেন সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ। কবি, কথা সাহিত্যিক, সমালোচক, টকশোর তুখোড় আলোচক নানা পরিচয় তাঁর। এসবের আড়ালে তাঁর চিকিৎসক পরিচয় ঢাকা পড়ে যায় মাঝে মাঝে। সহাস্য কুশল বিনিময় শেষে সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ জানতে চান —অনন্যা প্রকাশনীর স্টলটা কোন দিকে? হাত দিয়ে ডান কোনার দিকে নির্দেশ করেন একজন। চলে যান তিনি। আড্ডায় মন বসে না। আবার হাঁটতে থাকি। হেঁটে হেঁটে আবারও দেখা হয়ে যায় সাখাওয়াৎ সায়ন্থ’র সঙ্গে। বইয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন তিনি। এখান থেকে বের হয়েছে তার উপন্যাস নিঃসঙ্গ সত্য। বইটা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখি। ফ্ল্যাপে সায়ন্থ লিখেছেন—কিছু সত্য থাকে যা কাউকে বলা যায় না। মনের মধ্যে সেই গোপন নিঃসঙ্গ সত্যটা কখনো নাড়া দিয়ে উঠে। তা প্রকাশের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মন।
এগিয়ে যাই তার দিকে। প্রশ্ন রাখি— সত্য কেন নিঃসঙ্গ? হেসে ওঠেন সাখাওয়াৎ সায়ন্থ। বলেন— কিছু সত্য থাকে যা কখনো কাউকে বলা যায় না। সেই দিক বিবেচনা করলে কিছু সত্য নিঃসঙ্গ থেকে যায় সব সময়। যেমন আমার এই বইয়ের প্রধান চরিত্র সাফওয়ানের একটা সত্য আছে, যেটা কাউকে বলা যায় না। কিন্তু আবার বলার জন্য মনে আকুলি-বিকুলি চলে। এক সময় সে তার গোপন সত্যটা একজনকে বলে ফেলে ভার মুক্ত হওয়ার আশায়। পরে সাফওয়ানের মনে হয় সত্যটা প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। একপর্যায়ে সেই লোককে খুন করে সাফওয়ান। পরে ভীষণ আত্মদহন থেকে এক সময় সে নিজেও আত্মহত্যা করে।
— এটা কি থ্রিলার? প্রশ্ন করি আমি।
— নাহ, থ্রিলার নয়। এটি একটি নিটোল প্রেমের কাহিনি। যার শেষটা বিয়োগান্তক।
আমি আবার চোখ রাখি বইয়ে। ফ্ল্যাপের শেষ অংশে সায়ন্থ লিখেছেন—ভালোবাসা হারানোর হতাশায় আচ্ছন্ন একজন মানুষ কীভাবে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন হন্তারক এবং শেষ পর্যন্ত আত্মবিধ্বংসী, সেই মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক গল্পের হয়তো পাঠককে আলোড়িত করবে।
আমাদের কথার মাঝখানেই হাজির হোন সায়ন্থের বেশ কয়েকজন বন্ধু। তাদের আড্ডার সুযোগ করে দিয়ে বিদায় নিই। হাঁটতে হাঁটতে মুক্তমঞ্চের সামনের পাচিলে বসে থাকি কিছুক্ষণ। মেলায় এখনো মানুষ ঢুকছেন দলে দলে। আর আমি ধীর পায়ে বের হয়ে আসি মেলা থেকে। ফুটপাথ ধরে হেঁটে চলি শাহবাগমুখী।
আরামদায়ক শীতে একা একা হাঁটতে বেশ ভালো লাগে!
শাস্ত্রীয় সংগীত এক অনন্য জগৎ, যেখানে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বিশিষ্ট সব ঘরানা। রাগ– রাগিণীর সুরে যে জগৎ পারে পাষাণের ঘুম ভাঙাতে, সে সংগীতের ধারাকে বলা হয় ‘দ্য হায়েস্ট ফরম অব মিউজিক’। সেই ধারাকে এক অনন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের এক শিল্পী। বলছি সংগীতাচার্য আলী এফ. এম. রেজওয়ান...
৪ দিন আগেবইমেলার ভিড়, বইমেলার জৌলুশ—পুরোটাই এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে। অথচ মেলা হয় বাংলা একাডেমি চত্বরেও। মূলত জায়গার অভাবে মেলা বিস্তৃত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এখন সৃজনশীল প্রকাশকেরা সব স্টল প্যাভিলিয়ন নিয়ে বসেন মেলার...
৫ দিন আগেপড়তে পারাটা একটা বিশাল ব্যাপার। হাজার বছর বয়সী পৃথিবীতে কত মানুষ। কত বিচিত্র রঙের জিনিস এই দুনিয়ায়। কত মানুষের কত অভিজ্ঞতা। কত কত সভ্যতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পৃথিবীর প্রান্তরজুড়ে। এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এক ক্ষুদ্র কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি মানুষ। কিন্তু মাত্র সত্তর-আশি বছরের জীবন একেকজন মানুষে
৯ দিন আগেহিমালয় পাই এর নতুন বই’ ডিটাচমেন্ট টু ডিপার্চার’ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি বাজারে এনেছে জনপ্রিয় প্রকাশনা সংস্থা আদর্শ প্রকাশনী। বইটিতে মূলত উত্তর ভারতের বিভিন্ন শহর পরিভ্রমণের প্রেক্ষিতে লেখকের সোশিওলজিকাল, পলিটিক্যাল কালচারাল, হিস্টরিকাল, এনথ্রোপলজিকাল যেসব পর্যবেক্ষণ তৈরি হয়েছে সেগুলোকেই সোশ্যাল থিসিসরূ
২৩ দিন আগে