বাইরে থেকে হঠাৎ হাঁক শুনতে পেল চালাকু, ‘চালাকু! ও চালাকু!’
বারান্দায় ছুটে গেল চালাকু। দোতলা থেকে উঁকি মারল রাস্তায়। ছোটমামা! কালো হয়ে গেল চালাকুর মুখ। ছোটমামাকে ও একটুও পছন্দ করে না। কেন? ছোটমামার মতো কিপটে ও দ্বিতীয়টা দেখেনি।
চালাকুর সঙ্গেও কম কিপটেমি করেননি। মামার জামায় পকেট নেই। এমনকি তাঁর প্যান্টেও কখনো পকেট খুঁজে পায়নি চালাকু। পকেট থাকলেই পকেটে টাকা রাখতে হবে। টাকা থাকলেই খরচ করতে হবে। আর খরচই যদি করে, তবে কিপটেমি করবে কী করে?
জীবন্ত কিংবদন্তি কিপটে হিসেবে অন্য কিপটেদের কাছে আদর্শ ছোটমামা।
ছোটমামাকে না দেখার ভান করে সটকে পড়তে চেয়েছিল চালাকু। কিন্তু ছোটমামার ছোট ছোট চোখজোড়ায় বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। সেই দৃষ্টিতে ধরা পড়ে গেল চালাকু। তাড়া দিলেন মামা, ‘হাঁ করে তাকিয়ে আছিস কেন? বুবুর কাছ থেকে অটোরিকশার ভাড়াটা নিয়ে আয়।’
ততক্ষণে চালাকুর পেছনে মা এসে হাজির। মা কিন্তু ছোটমামার কিপটেমিতে কিছু মনে করেন না; বরং মায়ের উদারতার সুযোগ সুদে-আসলে আদায় করে নেন ছোটমামা।
অটোভাড়া নিয়ে চটপট নিচে নামল চালাকু। সঙ্গে মামি আর মামাতো ভাই রবিন। ওদের চালাকুদের ঘরে পাঠিয়ে দিলেন মামা।
নিচে নেমে অটোরিকশার মিটারের দিকে তাকাল চালাকু। কিন্তু এ কী! ভাড়া দেখাচ্ছে ২০০ টাকা। অথচ মামা ৫০০ টাকা চাইলেন কেন? চালাকু বুঝল, আসল ২০০ টাকার সঙ্গে ৩০০ টাকা সুদও আদায় করে নিয়েছেন ছোটমামা।
চা খাওয়ার জন্য ১০টা টাকা চেয়েছিল অটোচালক। এটিএম বুথের কাছে চাইলেও মেশিন থেকে দু-চার টাকা বেরোলেও হয়তো বেরোতে পারত। ছোটমামার হাত ফসকে একটা কয়েনও বেরোল না। কিছুক্ষণ ঘ্যান ঘ্যান করে চলে গেল অটোচালক।
মামার মুখে বিজয়ীর মুচকি হাসি। মামাকে নিয়ে ঘরে ঢুকল চালাকু। আর ঘরে ঢুকেই রবিনের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেল। ‘অ্যাঁ... অ্যাঁ... অ্যাঁ...’
হাহাকার করে উঠলেন মা, ‘কী হলো ফুফুমণি!’
রবিন কেবল উচ্চারণ করল, ‘চিপস...’
বাকিটা ছোটমামাই বলে দিলেন, ‘সেই তখন থেকে ও আলুর চিপস খাওয়ার বায়না ধরেছে বুবু। আমি বলেছি, ফুফুর বাড়িতে গিয়ে খাস।’
মা হেসে রবিনকে কোলে তুলে নিলেন। আদর করে মাথায় হাত বোলালেন। তারপর হাঁক দিলেন, ‘চালাকু!’
ছুটে এল চালাকু। মা বললেন, ‘রবিনকে নিয়ে দোকানে যা। ওকে আলুর চিপস কিনে দে!’
বলেই চালাকুর এক হাতে রবিন আরেক হাতে ১০০ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিলেন মা। আড়চোখে দেখেছে চালাকু, ওই নোটের দিকে তাকিয়ে মামার চোখ চকচক করছে।
রাগে গা জ্বলতে লাগল চালাকুর। মনে মনে বলল, আমার নাম চালাকু খান। দ্যাখো না কী করি!
তবে মুখে কিছু বলল না। রবিনকে নিয়ে বেরিয়ে গেল।
একটা দোকানের সামনে এল চালাকু। বলল, ‘আপনার দোকানে আলুর চিপস আছে?’
দোকানদার অবাক হয়ে চালাকুর দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, ‘নেই।’
রবিনকে বলল চালাকু, ‘শুনেছ রবিন? এই দোকানে আলুর চিপস নেই।’
রবিন বলল, ‘তাহলে আরেকটা দোকানে চলো!’
আরেকটা দোকানের সামনে এল চালাকু। জানতে চাইল, ‘আপনার দোকানে আলুর চিপস আছে?’
এই দোকানিও অবাক হয়ে চালাকুর দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। যেন জীবনে কখনো আলুর চিপসের নামই শোনেননি। জবাব দিলেন, ‘নেই।’
‘শুনেছ রবিন! এই দোকানেও চিপস নেই।’
রবিন বলল, ‘তাহলে আরেকটা দোকানে চলো!’
আরও একটা দোকানে গেল চালাকু, ‘আলুর চিপস আছে?’
এই দোকান থেকেও জবাব পেল, ‘নেই।’
এবার রবিনের দিকে তাকিয়ে চালাকু বলল, ‘দেখেছ! আমাদের এখানকার দোকানগুলোয় আলুর চিপস বিক্রি হয় না।’
তারপর মুচকি মুচকি হাসতে লাগল।
আর রবিন? রবিনও মুচকি হেসে বলল, ‘তোমাদের এখানে
বুঝি কাঁচা সবজির দোকানে আলুর চিপস বিক্রি হয়?’

বর্তমানের পুঁজিবাদী উন্নয়ন ধারা মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে এবং প্রকৃতির সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করছে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, এই ধারা পরিবর্তন করে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে মানবজাতির ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে।
৩ দিন আগে
তিন বছর পর নতুন উপন্যাস নিয়ে ফিরছেন জাপানের বিশ্বখ্যাত লেখক হারুকি মুরাকামি। তাঁর নতুন বই ‘দ্য টেল অব কাহো’ (The Tale of KAHO) আগামী ৩ জুলাই জাপানে প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শিঞ্চোশা। একই দিনে বইটির ই-বুক সংস্করণও বাজারে আসবে।
৫ দিন আগে
স্বাগত বক্তব্যে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম বলেন, বিশ্বগ্রাসীর বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সমাজে যখন অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, অবক্ষয়ের দেখা দিয়েছে, তখনই সংস্কৃতি পথ দেখিয়েছে।
১৯ দিন আগে
সারথি থিয়েটারের ৩২ বছর পূর্তি উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী মিলন কান্তি দে পালা নাট্যোৎসবে পানু পাল নাট্যপদক পেলেন ড. রহমান রাজু। নাট্য ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ পদক দেওয়া হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক রহমান রাজু বাংলাদেশের অন্যতম থিয়েটার বিষয়ক...
২৫ দিন আগে