
ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফ থেকে ইরানকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার বা ‘পুরো সভ্যতাকে’ বিলীন করে দেওয়ার হুমকির মধ্যেই আলটিমেটামের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে তেহরান-ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে আসলে কোনো বিকল্প ছিলা, এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়া ছাড়া। কিন্তু তিনি এবং তাঁর দেশ রাজি হলেও যুদ্ধের অপর অত্যুৎসাহী পক্ষ ইসরায়েল এটি মেনে চলবে কি?
ইরান বিষয়ক পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসির মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে আসলে ‘কোনো ভালো বিকল্প’ না থাকায় তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। থিংক ট্যাংক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পারসি আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি বৃহত্তর যুদ্ধ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকেই ধ্বংস করে দিতে পারত।
পারসি উল্লেখ করেন, ‘ট্রাম্প যদিও বড় ধরনের উত্তেজনামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন, কিন্তু অঞ্চলের সবাই জানত যে ইরানের জ্বালানি সম্পদ বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত করলে ইরানও জিসিসি (উপসাগরীয় দেশসমূহ) রাষ্ট্রগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালাবে। এতে বর্তমানে বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের চেয়েও ভয়াবহ এক পরিস্থিতি তৈরি হতো।’
তিনি বলেন, ‘মূলত এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই ট্রাম্প আগেভাগে হুমকি দিয়েছিলেন, যাতে আজ সন্ধ্যায় হওয়া চুক্তিটি তার নিজের শর্তে হয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে বিষয়টি আসলে তেমন নয়; এমনকি ট্রাম্পের নিজের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে আলোচনাগুলো ইরানের দেওয়া ১০-দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে হবে, যা অনেক বেশি যৌক্তিক।’
এখন দেখার বিষয় হলো ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত এটি মেনে নেয় কি না। অনেক কিছুই নির্ভর করছে হিজবুল্লাহ এবং লেবানন এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত কি না তার ওপর, যা নিয়ে বর্তমানে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ কিছু সূত্র বলছে, যেকোনো যুদ্ধবিরতি থেকে লেবাননকে বাদ রাখা হবে, কারণ এটি তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন এবং তাদের ব্যক্তিগত একটি প্রজেক্ট। তারা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে যেতে চায়, কিন্তু ইরান এই বিষয়টিকে আলাদা করতে রাজি নয়।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার সংঘাতের এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় অংশীদার হিসেবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং ট্রাম্প যদি ঘোষণা করেন যে যুদ্ধবিরতি হবে, তবে ইসরায়েলের পক্ষে এর বিরোধিতা করা কঠিন হবে।
যদিও গত জুনে তথাকথিত ১২ দিনের যুদ্ধে তিন পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পরও ইসরায়েল ও ইরান একে অপরকে চুক্তি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করে হামলা চালিয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুকে লাইনে আসার নির্দেশ দিলে ইসরায়েল অনেকটা অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তাই এবারের যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল কতটুকু পরিচ্ছন্নভাবে গ্রহণ করবে, নাকি আগের মতোই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জেদ ধরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

জন্মহার কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বের অনেক দেশে জনসংখ্যা এখন আর বাড়ছে না, বরং স্থায়ীভাবে কমতে শুরু করেছে। জনসংখ্যাবিদদের কাছে এটি মানব ইতিহাসের এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ বা মহামারির মতো সাময়িক কারণে অতীতে জনসংখ্যা কমেছে।
১০ ঘণ্টা আগে
গত জুনের মাঝামাঝি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেন। এর পরপরই তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওই চুক্তির পক্ষে সমর্থন গড়ে তুলতে শুরু করেন। তাঁদের আশা ছিল, এই সমঝোতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া যাবে এবং যুদ্ধ ধীরে ধীরে অবসানের দিকে নেওয়া সম্ভব
১৭ ঘণ্টা আগে
চীনে সরকারি চাকরি মানে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ এক ক্যারিয়ার। তবে অনেকের কাছে শক্তিশালী এই অবস্থান ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিনিময়ে পাওয়া একধরনের সামাজিক চুক্তিও। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে গত এক দশকে দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন, বিদেশভ্রমণ, বিয়ে...
১ দিন আগে
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত এক মাসে ইন্দোনেশিয়া, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোতে ৭ বা তার বেশি মাত্রার তিনটি ভূমিকম্পে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। এর আগে জুনে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প, যাতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
২ দিন আগে