
ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ৯ দিন পর তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান। অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষকেরা ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন এবং অন্ধকার মোড় হিসেবে দেখছেন। এটি শুধু একটি উত্তরাধিকারী নিয়োগ নয়, বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি শাসনব্যবস্থার ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব’ এবং ক্ষমতার চরম কেন্দ্রীকরণের বহিঃপ্রকাশ।
ইরানের রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সাঈদ গোলকারের বিশ্লেষণ এমনটিই বলছে। তিনি ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ‘ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান’-এর সিনিয়র অ্যাডভাইজার। তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর ওপর বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।
সাঈদ গোলকারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মোজতবা খামেনির সুপ্রিম লিডার হওয়ার তিনটি প্রধান দিক রয়েছে। মোজতবা খামেনি কোনো আকস্মিক চরিত্র নন। ১৯৮৯ সালে তাঁর বাবা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি নেপথ্যে থেকে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছেন। ২০০৫ সালে আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় আনা এবং ২০০৯ সালের ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ দমনে তিনি সরাসরি তদারকি করেছিলেন। সেই সময় থেকে ইরানিদের মনে মোজতবাকে নিয়ে আতঙ্ক ছিল, যা এখন বাস্তবে রূপ নিল। ইরানিদের কাছে তিনি কোনো স্থিতিশীল নেতা নন, বরং দুর্নীতির বরপুত্র এবং বংশতান্ত্রিক শাসনের প্রতীক।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির জন্য মোজতবা হলেন সবচেয়ে ‘নির্ভরযোগ্য’ ব্যক্তি। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আইআরজিসি এমন কাউকে চায়নি যিনি পশ্চিমের সঙ্গে আপস করবেন বা সংস্কারের কথা বলবেন। মোজতবা দীর্ঘকাল ধরে আইআরজিসি এবং বাসিজ বাহিনীর সাথে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তিনি তাঁর বাবার মতোই আমেরিকা ও ইসরায়েলবিদ্বেষী এবং মনে করেন, জবরদস্তি বা দমন-পীড়নই হলো শাসনের মূল হাতিয়ার।
আলী খামেনির মৃত্যুর পর অনেক ইরানিকে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে, যা শাসনব্যবস্থাকে ক্ষুব্ধ করেছে। সাঈদ গোলকারের মতে, মোজতবার অধীনে দমন-পীড়ন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। সাধারণ ইরানিরা আশঙ্কা করছেন যে মোজতবা ক্ষমতায় টিকে থাকলে তাঁদের ‘পিষে ফেলবেন’। জানুয়ারির বিক্ষোভে ১০ হাজার মানুষকে হত্যার ঘটনা থেকেই স্পষ্ট যে এই নতুন নেতৃত্ব শুধু ভয়ের মাধ্যমেই ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়।
মোজতবা খামেনির নির্বাচন প্রমাণ করে, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নিজেকে সংস্কার করার আর কোনো ইচ্ছা বা ক্ষমতা নেই। এটি কোনো নতুন সূচনা নয়, বরং একটি ‘থিও-সিকিউরিটি স্টেট’ বা ধর্মীয়-নিরাপত্তা রাষ্ট্রের চূড়ান্ত রূপ, যেখানে জনগণের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর স্বার্থ বড়। গোলকারের ভাষায়, এটি ইরানের রাজনৈতিক অবসাদ বা ফুরিয়ে যাওয়ারই একটি বড় স্বীকারোক্তি।
দ্য ইকোনমিস্ট থেকে সংকলন করেছেন আবদুল বাছেদ

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক শক্তির বড় ধরনের ক্ষতি করা হয়েছে।
৩৯ মিনিট আগে
ইরান যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যদি বর্তমান শাসনের পতন ঘটে, তবে দেশটিতে গণতন্ত্র আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে জন্ম নিতে পারে ‘আইআরজিস্তান’ নামক এমন এক সামরিক শাসিত রাষ্ট্র, যেখানে ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি থাকবে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ বা আইআরজিস
৩ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের মার্চ মাস বিশ্ব ইতিহাসের এক সংকটময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর মধ্যে চলমান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রই বদলে দিচ্ছে না, বরং বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক কূটনীতিকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
টানা দুই সপ্তাহের বিধ্বংসী আক্রমণের পর ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র তার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হয়েছেন। দেশটির নৌবাহিনী ধ্বংসপ্রাপ্ত, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো
৪ ঘণ্টা আগে