
পাকিস্তানের রাজনীতির এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ অধ্যায় এবং বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের পরিবারের অজানা ইতিহাস উঠে এসেছে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ হাজি গোলাম আহমেদ বিলোরের আত্মজীবনী ‘ম্যায় কিউ নেহি টুটা?’ বইটিতে। বইটির শিরোনামের বাংলা করলে দাঁড়ায়—কেন আমি ভেঙে পড়িনি?
২০২৫ সালে প্রকাশিত এই বইটির সম্পর্কে সোমবার (২৭ জুলাই) পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মীর লিখেছেন—হাজি বিলোরের এই বই শুধু একজন ব্যক্তির সংগ্রাম নয়, বরং পাকিস্তানের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং সেনা শাসনের বিরুদ্ধে এক জীবন্ত দলিল।
পাকিস্তানের রাজনীতিতে বইটির লেখক হাজি বিলোর এক সাহসিকতার নাম। যিনি তিনটি ঘাতক হামলা থেকে বেঁচে ফিরেছেন, হারিয়েছেন নিজের ছেলে, ছোট ভাই ও ভাতিজাকে। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েও তিনি আজীবন গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই করে গেছেন।
বইটিতে প্রথম যে ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, তা হলো শাহরুখ খানের বাবা তাজ মুহাম্মদ খানের দেশত্যাগের পেছনের সত্য। পেশোয়ারের এক প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ছিলেন হাজি বিলোরের বাবা বিলোর দীন। এই বিলোর দীন এবং কাশ্মীরি ব্যবসায়ী হাজি গোলাম সামদানির পরিবারের সঙ্গে গভীর সখ্য ছিল শাহরুখের বাবা তাজ মুহাম্মদ খানের। সামদানির ছেলেরা এবং তাজ মুহাম্মদ ছিলেন খান আবদুল গাফফার খানের (সীমান্ত গান্ধী) খুদাই খিদমতগার আন্দোলন এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর খাইবার পাখতুনখোয়ার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হন খান আবদুল কাইয়ুম খান। তিনি একসময় কংগ্রেসে থাকলেও ক্ষমতা দখলের পর চরম মুসলিম লীগপন্থী হয়ে ওঠেন এবং নিজের পুরোনো সহযোদ্ধাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে শুরু করেন। তিনি সীমান্ত গান্ধী আবদুল গাফফার খানের সমর্থকদের দমন করতে ১৯৪৮ সালে পেশোয়ারে ১৪৪ ধারা জারি করেন। সে সময় পুলিশের গুলিতে বহু আন্দোলনকারী নিহত হন।
এই চরম রাজনৈতিক নিপীড়ন ও ঘন ঘন গ্রেপ্তারের মুখে অতিষ্ঠ হয়ে তাজ মুহাম্মদ খান তাঁর পরিবার নিয়ে পেশোয়ার ছেড়ে দিল্লিতে চলে যেতে বাধ্য হন। দিল্লিতে তৎকালীন নেহরু ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ ইউনুস তাঁদের আশ্রয় দেন। পরবর্তীকালে তাজ মুহাম্মদ একবার পরিবার নিয়ে পাকিস্তানের পেশোয়ারে হাজি বিলোরের বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আর নিজ জন্মভূমিতে পাকাপাকিভাবে ফিরে যাননি। মূলত কাইয়ুম খানের স্বৈরাচারী প্রতিশোধের রাজনীতির শিকার হয়েই শাহরুখ খানের পরিবার ভারতে পাড়ি জমিয়েছিল।
বইটিতে হাজি বিলোর একটি চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছেন। ১৯৭২ সালে সীমান্ত গান্ধী খান আবদুল গাফফার খান যখন আফগানিস্তানে নির্বাসিত ছিলেন, তখন তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে জালালাবাদে যান বিলোর। সেখানে তিনি জানতে পারেন, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী গাফফার খানকে ভারতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে অহিংস আন্দোলনের এই মহান নেতা বিনয়ের সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, তিনি মহাত্মা গান্ধীর অনুসারী এবং কোনো পদ বা ক্ষমতার মোহ তাঁর নেই। পরে তিনি নিঃশব্দে পাকিস্তানে ফিরে যান।
বইটিতে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (এনএপি)-র ওপর দমন-পীড়ন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন হাজি বিলোর। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে স্বাক্ষর করলেও, ভুট্টো সেনা জেনারেলদের চাপে এনএপি-র বেলুচিস্তান সরকার ভেঙে দেন। এর পরপরই রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পায় এবং এক বোমা বিস্ফোরণে পিপিপি নেতা হায়াত শেরপাও নিহত হলে এনএপি নিষিদ্ধ করা হয়।
বিলোর আক্ষেপ করে লিখেছেন—ভুট্টো যদি এনএপি-র আঞ্চলিক সরকারকে মেনে নিতেন, তবে তাঁকে পরবর্তীতে জেনারেল জিয়ার হাতে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলতে হতো না এবং পাকিস্তানে বারবার সামরিক শাসন আসত না। জেনারেল জিয়া পরবর্তীতে ওয়ালী খানকে প্রধানমন্ত্রীর পদের প্রস্তাব দিলেও তিনি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের শর্ত দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
হাজি বিলোরের জীবনের গল্প প্রমাণ করে—রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কখনোই রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে না, বরং তা গণতন্ত্রকে দিন দিন পঙ্গু করে তোলে।

ইরান যুদ্ধের শুরুতেই প্রায় চার দশক আগে নির্মিত তেলের একটি পুরোনো পাইপলাইন সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হয়ে উঠেছিল। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ করে দেওয়া ওই পাইপলাইন সৌদি তেলের সরবরাহ সচল রাখতে সহায়তা করেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ভারতে নরেন্দ্র মোদির শাসনামল ১২ বছরের। এই সময়ের মধ্যে এর আগে মাত্র একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর, এই প্রথম আরেকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের পর গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ তাই...
৬ ঘণ্টা আগে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়শই তাঁর অনিশ্চিত মেজাজ বা সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর এই আচরণের কারণে মিত্র ও শত্রু—সবাই অনিশ্চয়তায় থাকে। তাঁর নিজের ভাষায়, ১৩ মাস আগে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে বোমা ফেলার সিদ্ধান্ত কিংবা জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে রাতে ডেল্টা ফোর্সের কমান্ডো পাঠিয়ে
৯ ঘণ্টা আগে
কারগিল উপত্যকার বরফাবৃত চূড়ায় পাকিস্তানিদের হটিয়ে নিজেদের ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানের ঠিক ২৭ বছর পর, এক নতুন অধ্যায় সামনে এসেছে। রণক্ষেত্রে নয়, এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট লেখা হয়েছিল উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার, ওয়ার্কশপ আর গভীর রাতে তেল আবিব ও নতুন দিল্লির মধ্যকার কিছু গোপনীয়
১১ ঘণ্টা আগে