
চীনের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা নিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলো অন্তত এক দশক ধরে একধরনের দুশ্চিন্তায় ভুগছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল চীনা ঋণ, এর সঙ্গে আরোপিত নীতিমালা এবং অদৃশ্য ব্যয় শেষ পর্যন্ত তাদের অর্থনীতিকে সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সংকট এসেছে, তবে সেই যুক্তিটা উল্টে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ছয় সপ্তাহ ধরে যে যুদ্ধ চালাচ্ছে এবং জবাবে তেহরানের পাল্টা হামলার পর দেখা যাচ্ছে, যারা চীনের সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর ভরসা রেখেছিল তারা বরং ভালো অবস্থায় আছে। সেই তুলনায় যারা তথাকথিত ‘প্যাক্স আমেরিকানা’ বা মার্কিন প্রাধান্যের ওপর নির্ভর করেছিল, তারা খুবই বাজে অবস্থানে আছে।
পাকিস্তানের কথাই ধরা যাক। এত দিনে দেশটির আরেকটি বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ার কথা ছিল। কারণ, জ্বালানির দামের ধাক্কায় পাকিস্তান বরাবরই দুর্বল, নাজুক। দেশটি তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তাদের বৈদেশিক ঋণ ১৩০ বিলিয়ন ডলার, সঙ্গে রয়েছে স্থায়ী চলতি হিসাব ঘাটতি। সামান্য ধাক্কাতেই পরিস্থিতি আগের মতো ঘুরে যাওয়ার কথা ছিল—আইএমএফের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন, দিনে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিভ্রাট, রাস্তায় অস্থিরতা।
কিন্তু এখন সেই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে না। চাপের কিছু লক্ষণ অবশ্যই আছে। ইসলামাবাদ জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং প্রতিদিন দুই-তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখা কঠিন করে তুলবে। তবু কয়েক বছর আগের পরিস্থিতির তুলনায়—যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়েছিল—এখনকার অবস্থায় পাকিস্তান বিস্ময়কর স্থিতিশীলতা দেখাচ্ছে।
এই পার্থক্যের কারণ কী? চীনে তৈরি সোলার প্যানেল। পাকিস্তানের মানুষ আনন্দের সঙ্গেই সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকেছে। ২০২৪ সাল থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৭ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানি করা হয়েছে। দেশটির এক-চতুর্থাংশ পরিবার নিজেদের ব্যবহারের জন্য সৌর প্যানেল বসিয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই প্রসারে ইসলামাবাদকে খুব বেশি ভর্তুকিও দিতে হয়নি। তারা চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার সুযোগ নিয়েছে, এর বিরুদ্ধে লড়াই না করে সেটিকে নিজেদের নাগরিকদের উপকারে লাগিয়েছে—কম শুল্ক বজায় রেখে। ২০২৪-২৫ সালে আমদানি করা সৌর প্যানেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। বেইজিংয়ের ভর্তুকি তাদের কারখানাগুলো সচল রেখেছে, একই সঙ্গে পাকিস্তানের লাখো পরিবারের বিদ্যুতায়নেও অর্থায়ন করেছে।
অন্য অনেক দেশ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিল—নিজেদের উৎপাদনকে সুরক্ষা দিতে বা রাজনৈতিক ঝুঁকি কমাতে। যারা সস্তা সৌর কোষের প্রবেশ ঠেকাতে চেয়েছে, তারা তুলনামূলক ধীর গতিতে এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে—ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতার কাছে তারা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
শুধু সোলার প্যানেল নয়—সস্তা চীনা পণ্য আরও নানা ক্ষেত্রেই অস্থিরতার বদলে স্থিতিশীলতার উৎস হয়ে উঠছে। নেপালে—নরওয়ে বাদ দিলে—বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন রয়েছে। বিপুল পরিমাণে আমদানি করা সস্তা ইভি তাদের পেট্রলের দামের বিষয়ে অন্যান্য এশীয় দেশের তুলনায় অনেক কম চিন্তিত করে তুলেছে। আর এসব যান চলে পরিষ্কার জ্বালানি—যা আংশিকভাবে বেইজিংয়ের অর্থায়নে গড়ে ওঠা জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো থেকে আসে।
উন্নয়নশীল বিশ্বের নীতিনির্ধারকেরা এসব উদাহরণ দেখে সহজেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন—বেইজিংয়ের ওপর ভরসা করাই হয়তো ততটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। অনেকেই হয়তো ইতিমধ্যেই সেই পথে হাঁটছেন। বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকায় গত কয়েক বছরে চীনা সৌর প্যানেলের আমদানি হু হু করে বেড়েছে। যদি বিকল্প হয়—একদিকে পূর্বানুমেয় বাণিজ্যবাদী বেইজিং, আর অন্যদিকে অনিয়মিত, আত্মকেন্দ্রিক ও বাধা সৃষ্টিকারী যুক্তরাষ্ট্র—তাহলে সিদ্ধান্তটা যেন স্পষ্ট।
তবে সেটিই যে সঠিক সিদ্ধান্ত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বেইজিংয়ের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করা যে বেশি নিরাপদ, এমন ভাবাটাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। গত এক বছরেই চীন দেখিয়েছে, সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ—যেমন চুম্বক ও বিরল খনিজ উৎপাদন—কীভাবে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবু এই মুহূর্তে পার্থক্যটা স্পষ্ট। যারা বিশ্বাস করেছিল, মার্কিন প্রভাবের অধীনে থাকা উন্মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা তাদের ধাক্কা থেকে রক্ষা করবে, তারা এখন হিমশিম খাচ্ছে। আর যারা চীনা আমদানি ও অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি নিয়েছিল, তারা অপ্রত্যাশিত স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরে যান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ না নেন। তখন বিশ্বের জন্য শিক্ষা হবে আরও কঠোর—যুক্তরাষ্ট্র আপনার জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, পরিণতির দায় নেবে না, তারপর সরে যাবে। আর চীন আপনাকে সেই প্রযুক্তি বিক্রি করবে, যার মাধ্যমে আপনি যুক্তরাষ্ট্র কী করছে তা নিয়ে আর ভাবতেই হবে না।
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যে সম্মানহানি হতে পারে, তার চেয়েও বড় ভূরাজনৈতিক ধাক্কা এটি। ট্রাম্প হয়তো ভেবেছিলেন, তিনি সেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্মরণীয় হবেন, যিনি দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো—ভেনেজুয়েলা, ইরান, হয়তো কিউবা—সমাধান করে আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলেছিলেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তিনি হয়তো স্মরণীয় হয়ে থাকবেন সেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে, যিনি এশিয়াকে চীনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

১৯৩৮ সালের ১৩ আগস্ট। পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডের ‘কিং’স হল’-এ সমবেত হয়েছিলেন জমিয়ত-উল-মুসলিমিন নামক একটি ব্রিটিশ মুসলিম সংগঠনের সদস্যরা। এই সংগঠনের সিংহভাগ সদস্যই ছিলেন তৎকালীন লন্ডনের ডক এলাকায় কর্মরত দক্ষিণ এশীয় শ্রমজীবী মানুষ।
৪০ মিনিট আগে
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সেনার জীবন কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং জাতির মর্যাদা ও সামরিক শক্তির প্রতীক। ইরানে ভূপাতিত এফ-১৫এ যুদ্ধবিমানের একজন ক্রুকে উদ্ধার করতে মার্কিন বাহিনীর বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা জানা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকশ কমান্ডো, বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান এই উদ্ধার
২১ ঘণ্টা আগে
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেনি। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পর স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এই যুদ্ধে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রই এগিয়ে। ইরানের ভূখণ্ডে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে অবিরাম বোমাবর্ষণ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হাজারো মানুষ নিহত...
১ দিন আগে
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যখনই ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে কথা ওঠে, তখনই আলোচনা গিয়ে ঠেকে একটি নামেই—কুদস ফোর্স। নামটি পরিচিত, দৃশ্যমান এবং তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বোঝাতে সুবিধাজনক।
১ দিন আগে