Ajker Patrika

বিশ্বকাপ টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম, প্রশ্নের মুখে ফিফার মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বিশ্বকাপ টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম, প্রশ্নের মুখে ফিফার মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি
ছবি: আসাহি সিমবান

এবার (২০২৬ সাল) ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই টিকিটের মূল্য নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, ফিফার নতুন ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ বা চাহিদাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বিশ্বকাপকে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের নাগালের বাইরে ঠেলে দিচ্ছে এবং সংস্থাটির ঘোষিত মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক লক্ষ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

ফিফা এবার টিকিটের দাম নির্ধারণে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে, যা বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ের মতো চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্য পরিবর্তন করে। ফলে জনপ্রিয় ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ—জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার নকআউট ম্যাচের জন্য ফিফার অফিশিয়াল পুনর্বিক্রয় (রিসেল) প্ল্যাটফর্মে সবচেয়ে কম দামের টিকিটও ৩ লাখ জাপানি ইয়েনের বেশি দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের কোনো বিশ্বকাপেই টিকিটের এত ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়নি। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য ছিল ৪৭৫ মার্কিন ডলার, যা সেই সময়ের বিনিময় হার অনুযায়ী ৫০ হাজার ইয়েনেরও কম। তখন অনলাইনের পরিবর্তে স্টেডিয়ামের আশপাশে থাকা দালালে মূলত টিকিটের বাজার নিয়ন্ত্রণ করত।

বর্তমান ব্যবস্থায় ফিফা ‘পুনর্বিক্রয়’ বাজারকে নিষিদ্ধ না করে বরং মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে। এই পদ্ধতিতে ফিফার অফিশিয়াল সাইটের মাধ্যমেই কেউ চাইলে তার ইতিপূর্বে কেনা টিকিটটি পুনরায় বিক্রি করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রেতা ও ক্রেতা—উভয়ের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে কমিশন আদায় করছে ফিফা। পাশাপাশি বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণ করতে পারেন। ফলে টিকিটের দাম যত বাড়ে, ফিফার আয়ও তত বৃদ্ধি পায়।

সমালোচকদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে বিশ্বকাপ ধনী দর্শকদের জন্য বিলাসী বিনোদনে পরিণত হতে পারে। এতে স্টেডিয়ামের ঐতিহ্যবাহী উন্মাদনা ও বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সমর্থকদের জন্য উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় গিয়ে খেলা দেখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

এদিকে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্যও বাড়তে থাকলে টেলিভিশনের দর্শকদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত ফিফার এবারের চার বছরের মোট আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সমালোচকেরা মনে করেন, বিশ্বকাপকে প্রকৃত অর্থে বৈশ্বিক জনসম্পদ হিসেবে ধরে রাখতে ফিফার আরও সংযমী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত