হ্যাঁ, আমি ভেবেচিন্তেই ফিরে এলাম। ফিরে যে আসব, সে চিন্তা আমার সব সময়ই ছিল। [বিদেশে] থাকবার ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। ওটা তো আমার কাজের জায়গা না। তা ছাড়া, আগেই বলেছি, বাচ্চাদের স্কুল নিয়ে আমার নানা রকম চিন্তা ছিল। বাচ্চাদের এবং গ্রামের সাধারণ মানুষের এসথেটিক সেন্স ডেভেলপ করবে, এ রকম একটা ভিন্ন ধরনের ইনস্টিটিউট করার প্ল্যান আমার ছিল। আমাদের সাধারণ মানুষকে ব্রিটিশ রুল করেছে, পাকিস্তান রুল করেছে, এখন বাংলাদেশের লোকেরা করছে; কিন্তু ওই মানুষগুলোর দিকে কেউ কখনো নজরই দেয়নি! হাই লিভিং করতে না পারুক, ডিসেন্ট লিভিং করতে শিখুক। থাইল্যান্ডে দেখেছি, ইন্দোনেশিয়াতেও দেখা যায় যত গরিব ঘরই হোক, বাড়িতে আর কিছু না থাকুক ফুল-বাগান আছে।
এসব ব্যাপার আমাদের দেশে গড়ে ওঠেনি, তাদের এসথেটিক বোধ যেমন দিনদিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, নষ্ট করে দেওয়াও হচ্ছে। এসব নানা রকম ভাবনা থেকে দেশে চলে এলাম। পাশাপাশি ফাইন আর্ট নিয়েও আমার কিছু ভাবনাচিন্তা ছিল। দেখুন, এ দেশের চারণকবিরা কোনো ইনস্টিটিউশনে পড়াশোনা করেননি, স্কুল-কলেজে যাননি অথচ এরাই কত চমৎকার সাহিত্যের জন্ম দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে মানুষ শিক্ষিত হয়েছে, এসব সাহিত্যের ধারাবাহিকতাতেই আরও উন্নত, শিল্পসম্মত সাহিত্য সৃষ্টি করেছে।
বাঙালি জাতি তার অভিব্যক্তির জন্য উন্নত ভাষা খুঁজে পেয়েছে। খুঁজে পাবে না কেন? বাঙালির মনে স্বতঃস্ফূর্ত যে রেখা রয়েছে তাকে উদ্ধার করতে হবে। সেটাকে ধারাবাহিকভাবে ডেভেলপ করতে হবে। তা ছাড়া, পেইন্টিং ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে, ড্রইংরুম ডেকোরেট করছে, এ থেকে পেইন্টিংকে মুক্ত করা দরকার। সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনে তাদের মতো করে ছবি আঁকবে। এইসব ভাবনা নিয়ে আমি নড়াইলে চলে আসি। আমার নিজের গ্রাম থেকে কাজ শুরু করার চিন্তা করি। এখানে এসে প্রথমে একটি প্রাইমারি স্কুল করি, পরে নন্দনকানন নামে ফাইন আর্টের স্কুল খুলি।
সূত্র: শাহাদুজ্জামান কর্তৃক গৃহীত এস এম সুলতানের সাক্ষাৎকার, ‘কথা পরম্পরা’,
পৃষ্ঠা ২১-২২।

২১ ফেব্রুয়ারির আগে-পরের বছরগুলোজুড়ে নানা কিছু ঘটছিল। এখন এসে দিনগুলোতে ফিরে গেলে শিহরণ বোধ করি, বাংলা ভাষা নিয়ে এখন কিছু হতে দেখলে সেসব দিনে ফিরে যাই। তেমনই একটা হলো ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ সমাবর্তন সভা। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল জিন্নাহ ঘোষণা দিলেন—ঢাকাতেই, উর্দু পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।
৩ ঘণ্টা আগে
২১ ফেব্রুয়ারি আমতলার সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন গাজীউল হক। ভাষা আন্দোলন বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ‘ভাষা আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এ আন্দোলন ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। ১৯৪৭ সালে এ আন্দোলনের বুনিয়াদ রচনা হয়। ১৯৪৮-এ আন্দোলনের অঙ্কুরোদ্গম হয়। ১৯৫২ সালে এ আন্দোলন এক বিরাট মহীরূহে পরিণত হয়।
১ দিন আগে
বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ দেখা যায় কবি ফররুখ আহমদের মধ্যে। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের সওগাতে তিনি ‘পাকিস্তান: রাষ্ট্রভাষা ও সাহিত্য’ নামে প্রবন্ধে লিখেছিলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, এ নিয়ে যথেষ্ট বাদানুবাদ চলছে আর সবচাইতে আশার কথা এই যে, আলোচনা হয়েছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে...
৬ দিন আগে
১৯৪৭ সালের ৩০ জুন দৈনিক আজাদে ছাপা হওয়া ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধে আবদুল হক লিখেছিলেন, ‘পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রচলিত ভাষা পাঁচটি। বেলুচি, পশতু, সিন্ধি, পাঞ্জাবি ও বাংলা। পশ্চিম পাকিস্তানে উর্দু ভাষা নেই, তা নয়, বাংলাও আছে। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের তো নয়ই, পশ্চিম...
১৫ দিন আগে