Ajker Patrika

মতিউর রহমান

সম্পাদকীয়
মতিউর রহমান

একাত্তরের জানুয়ারিতে ছুটি নিয়ে করাচি থেকে ঢাকায় এসেছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান। ২৫ মার্চের কালরাতে তিনি ছিলেন নরসিংদীর পৈতৃক বাড়িতে। সে রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক গণহত্যা দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন দেশের জন্য কিছু করার। লুকিয়ে ভৈরবে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খুলে যুদ্ধ করতে আসা বাঙালি যুবকদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকলেন। তাঁদের নিয়ে গড়ে তুললেন প্রতিরোধ বাহিনী। কিন্তু শত্রুর বিমান যখন ভৈরবে বোমাবর্ষণ করল, তখন প্রতিপক্ষকে হারাতে মতিউর বিমানের প্রয়োজন বোধ করলেন। তাই সন্দেহভাজন হওয়া সত্ত্বেও কর্মস্থল করাচিতে ফিরে গেলেন একটি যুদ্ধবিমান ছিনতাই করতে। ২০ আগস্ট তিনি সঙ্গে থাকা পাকিস্তানি ছাত্র রশিদ মিনহাজকে অজ্ঞান করে একটি বিমান ছিনতাই করতে গেলে কন্ট্রোল রুম টের পেয়ে যায়। তাঁকে ধাওয়া করে আরেকটি বিমান। এদিকে রশিদের জ্ঞান ফিরলে তিনি মতিউরকে বাধা দেন। ছিনতাই করা বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আছড়ে পড়ে সিন্ধু প্রদেশের জিন্দা গ্রামে বালুর ঢিবির ওপর। শহীদ হন তিনি।

পাকিস্তানের মাটিতে তাঁর মরদেহ যখন শায়িত ছিল, তখন তাঁর কবরের সামনে উর্দুতে লেখা ছিল—‘ইধার সো রাহা হ্যায় এক গাদ্দার’ (এখানে ঘুমিয়ে আছে এক বিশ্বাসঘাতক)। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের বীরশ্রেষ্ঠ। ২০০৬ সালে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং পূর্ণ মর্যাদায় বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।

ছবি সৌজন্য: বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত