অ্যান্টিগায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ দল। অস্ট্রেলিয়া ১৪১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১১.২ ওভারে ১০০ রান তুললে শুরু হয় বৃষ্টি। ম্যাচে কয়েকবারই বৃষ্টি হানা দেয়। তবে এরপর আর খেলা হওয়ার সুযোগ দেয়নি। ডিএলএস পদ্ধতিতে এ সময় পার স্কোর ছিল ৭২ রান। ২৮ রানে এগিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া।
বৃষ্টির কারণে টস হতেও ১৫ মিনিটের মতো দেরি হয়েছিল। স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ। প্যাট কামিন্সের হ্যাটট্রিকের ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়ের দুটি কার্যকর ইনিংসের কল্যাণে ৮ উইকেটে ১৪০ রান তোলে তারা।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর ছক্কা-চারের ঝড় বইয়ে দেন ডেভিড ওয়ার্নার ও ট্রাভিস হেড। পাওয়ার প্লেতে দুই অজি ওপেনার তোলেন ৫৯ রান। ৬.২ ওভার যেতেই শুরু হয় বৃষ্টি।
বৃষ্টির পর অজিদের ওপর কিছুটা চাপ তৈরির চেষ্টা করে বাংলাদেশ। নিজের পরপর ২ ওভারে ২ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। বৃষ্টির আগের অসম্পূর্ণ ওভার করতে এসে বোল্ড করেন হেডকে। ভাঙেন ৬৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ২১ বলে ৩১ রানে ফেরেন এই ওপেনার। পরের ওভারে মিচেল মার্শকে (১) ফেরান এলবিডব্লিউর ফাঁদে।
তৃতীয় উইকেটে ওয়ার্নার ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল গড়েছেন ১৫ বলে ৩১ রানের জুটি। ১২তম ওভারে আবারও বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর আর খেলা হয়নি। ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৫ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়ার্নার। ৬ বলে ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ম্যাক্সওয়েল। রিশাদ ২৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।
তার আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে একদমই সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত কোনো ম্যাচে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেনি তাদের ওপেনিং জুটিও। গ্রুপ পর্বের আগের চার ম্যাচে ওপেনিং জুটির স্থায়িত্ব ছিল ১, ৯, ৩, ০। এই ম্যাচেও সেই ব্যর্থতা অব্যাহত থাকল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। স্কোরে রান জমা হওয়ার আগেই ভাঙল উদ্বোধনী জুটি (০)।
তামিমের নামের পাশেও যোগ হয় আরেকটি ডাক। গত ম্যাচেই নেপালের বিপক্ষে ফেরেন ডাক মেরে। আজও ৩ বলে ফিরেছেন ০ রানে। সব মিলিয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তামিমের পাঁচ ইনিংস—৩, ৯, ৩৫, ০, ০। মিচেল স্টার্কের করা প্রথম ওভারে প্রথম ২টি বলই ছিল লো ফুলটস। দ্রুতগতির ২টি বলই বেরিয়ে যায়। তৃতীয় বল স্টাম্প লাইনে ফুল লেংথে করেন স্টার্ক। কোনো কিছুই যেন করার ছিল না তামিমের। জ্বালিয়েছে স্টাম্পের লালবাতি।
তবু শুরুটা খারাপ হয়নি বাংলাদেশের। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৩৯ রান তোলে তারা। লিটন দাস ও শান্তর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সামলে ওঠে শুরুর ধাক্কাও। তবে লিটনের ব্যাটিংয়ের ধরন ছিল মন্থর। থিতু হয়ে বড় করতে পারেননি ইনিংসও। নবম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ২৫ বলে ১৬ রান করে।
শান্ত-লিটনের জুটিতে বাংলাদেশ তোলে ৫৮ রান। দ্রুত রান তোলার জন্য প্রমোশন দিয়ে ৪ নম্বরে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হয় রিশাদকে। ১০ম ওভারে ম্যাক্সওয়েলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৪ বলে ২ রানে। নিজের পরের ওভারে জাম্পা তুলে নেন শান্তর উইকেটও। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৬ বলে ৪১ রান করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
সুবিধা করতে পারেননি সাকিব আল হাসানও। ১০ বলে ৮ রান করে ফিরতি ক্যাচে ফেরেন মার্কাস স্টয়নিসের বলে। ১৮তম ওভারের শেষ দুই বলে পরপর প্যাট কামিন্স ফেরান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (২) ও শেখ মেহেদী হাসানকে (০)। ২০তম ওভারের প্রথম বলে তাওহিদ হৃদয়কে ফিরিয়ে করেছেন হ্যাটট্রিক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সপ্তম হ্যাটট্রিক এটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্রেট লির পর দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করলেন অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্রিকেটার।
২টি করে চার ও ছক্কায় ২৮ বলে ৪০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন হৃদয়। তাঁর কার্যকর ইনিংসটির সৌজন্যে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে তোলে ১৪০ রান। তাসকিন আহমেদ ৭ বলে ১৩ এবং ৪ রানে অপরাজিত থাকেন তানজিম হাসান সাকিব। কামিন্স ২৯ রান দিয়ে ৩টি, জাম্পা ২৪ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

তামিম বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। আগে যা হতো—একেবারে শেষ মুহূর্তে সবকিছু করা হতো। আমরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চূড়ান্ত করতে চাই, যাতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে বা সরে দাঁড়ালে আমাদের হাতে বিকল্প খোঁজার মতো যথেষ্ট সময় থাকে। আমরা এ
৩ ঘণ্টা আগে
ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে এখন ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করার হাতছানি এখন বাংলাদেশের সামনে। ব্যাটিং, বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করেছে ফিল সিমন্সের বাংলাদেশ।প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাইয়ের এমন সম্ভাবনা যখন বাংলাদেশের সামনে, তখন স্বাভাবিকভাবেই কৌশল নিয়ে কৌতূহল জেগেছে অনেকের। তবে সিমন্স তা খোলাসা করেননি।
৪ ঘণ্টা আগে
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পরও প্রতিপক্ষকে নিয়ে কোনো বিস্ময় নেই অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের। বরং তাঁর দাবি, বাংলাদেশ যে ভালো দল, সেটি আগেই তাঁদের জানা ছিল। প্রথম দিনের পরই ম্যাচটা কঠিন হতে যাচ্ছে সেটিও বুঝে গিয়েছিলেন তাঁরা।
৫ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো তো চাট্টিখানি কথা নয়। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমরা। এবার তাদের সামনে ইতিহাস সমৃদ্ধ করার হাতছানি। ম্যাকেতে পরশু শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টটা নিয়েই এখন ভাবনা প্রধান কোচ ফিল সিমন্স
৫ ঘণ্টা আগে