
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদ জালিয়াতি চক্রের হোতা ও সিস্টেম এনালিস্ট প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জামান আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সাংবাদিক, দুদক কর্মকর্তা ও বোর্ডের কয়েকজন দালালের নাম এসেছে। তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
আজ শনিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এই তথ্য জানান।
ডিবিপ্রধান বলেন, ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন শামসুজ্জামান। এই জালিয়াতির সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাঁদের নাম বলেছেন শামসুজ্জামান। তাঁর সনদ জালিয়াতির ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কিছু সাংবাদিক, দুদক কর্মকর্তা ও বোর্ডের চেয়ারম্যানের আশপাশে থাকা দালালশ্রেণির লোকদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতেন তিনি। কখন কোন সাংবাদিককে, কোথায়, কত টাকা দিয়েছেন তা সবকিছু স্বীকার করেছেন শামসুজ্জামান।
হারুন অর রশীদ আরও বলেন, ‘যেসব সাংবাদিকের নাম এসেছে, তাঁরা গ্রেপ্তার শামসুজ্জামানের মুখোমুখি হতে পারেন অথবা ডিবির মুখোমুখিও হতে পারেন। যদি তাঁদের (সাংবাদিকদের) সপক্ষে কোনো প্রমাণ থাকে, তবে তা উপস্থাপন করতে পারেন। সাংবাদিক যাঁদের নাম এসেছে, প্রয়োজন হলে আমরাও তাঁদের সঙ্গে কথা বলব।’
শামসুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদে যাঁদের নাম আসছে, তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে কি না, জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, ‘ঈদের আগে যখন প্রথম রিমান্ডে ছিল, তখন এক সাংবাদিক শামসুজ্জামানের মোবাইলে ফোন করে বলেন, ঈদ চলে আসল টাকা কবে দেবেন? সেই মুহূর্তে শামসুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তোমার কাছে সাংবাদিক টাকা চাইছে কেন? তখন শামসুজ্জামান আমাদের কাছে খোলামেলা জানান, তাঁর এই পদ ধরে রাখার জন্য তাঁকে অনেককে ম্যানেজ করতে হয়েছে। তাঁদেরকে ম্যানেজ না করলে, এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতো।’
রিমান্ডে থাকা শামসুজ্জামান গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ডিবির কাছে দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও সংশ্লিষ্টদের সবকিছু জানানো হবে। এ ছাড়া বুয়েটের অভিজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে কতগুলো সার্টিফিকেট ও মার্কশিট তৈরি করে তাঁরা বিক্রি করেছেন, সবগুলো বিষয় তদন্তে আসবে।
ডিবিপ্রধান বলেন, ‘বিভিন্ন জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম এনালিস্ট প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে তিন সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। উচ্চপর্যায়ের এই তদন্ত কমিটির কাছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও ডিজিটাল তথ্য থাকার পরও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করে। অভিযুক্ত শামসুজ্জামান কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চাকরিচ্যুত ফয়সালকে দিয়ে একটি বাসা ভাড়া করে, সার্টিফিকেট ও মার্কশিট তৈরি করছিল। জাল সার্টিফিকেট ও মার্কশিট বোর্ডের ওয়েবসাইটে তারা আপলোড করে। যা দেশ ও দেশের বাইরে থেকে যাচাইয়ের জন্য বৈধ বলে ওয়েবসাইট থেকে প্রমাণ করত।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁদের তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি রয়েছে। দুদক সম্পর্কে শামসুজ্জামান যা বলেছেন, যদি সেগুলো দুদক যাচাই-বাছাই করতে চায়, তবে তারা প্রয়োজন মনে করলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।’
এর আগে ১ এপ্রিল পাঁচ হাজারের বেশি সার্টিফিকেট ও মার্কশিট বাণিজ্যের অভিযোগে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট এ টি এম শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁর সঙ্গে সহযোগী ফয়সাল হোসেনও গ্রেপ্তার হন।
এই ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর খানের স্ত্রী শেহেলা পারভীনকে সনদ বিক্রির অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিতে স্বামী ইসমাইলের মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে মগজ বেরিয়ে গিয়েছিল। স্বামীর সারা শরীর ছিল রক্তাক্ত। ব্যান্ডেজ না করে তার দেহ নড়াচড়া করা যাচ্ছিল না। লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পথে পুলিশ-বিজিবি হেনস্তা করে। যার কারণে দুর্ঘটনায় স্বামী মারা গেছে বললে অ্যাম্
১ মিনিট আগে
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের ঘটনায় সাত শিক্ষার্থীকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া দুই শিক্ষার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে।
৭ মিনিট আগে
নেত্রকোনা সদর উপজেলার একটি জঙ্গল থেকে হাত বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় রুকন উদ্দিন (৪০) নামের এক মিশুকচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার বুদিয়ার জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
৯ মিনিট আগে
রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ২২০ পিস ইয়াবাসহ মো. আনিসুর রহমান (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আনিসুর রহমান কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের নিলাম খরিদা সদরার এলাকার এন্তা মিয়ার ছেলে।
১১ মিনিট আগে