বুদ্ধিমত্তা মানুষের এক অনন্য গুণ। যা তাকে প্রাণিজগতে এক অনন্য স্থান দিয়েছে। তবে সব মানুষের বুদ্ধিমত্তা সমান নয়। কারও বেশি, কারও মাঝারি আবার কারও খুবই স্বল্প। তবে কোন ধরনের মানুষের বুদ্ধিমত্তা বেশি হয় এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে রাজনৈতিক আদর্শের সম্পর্ক কেমন হতে পারে, তা নিয়ে একটি গবেষণা হয়েছে সম্প্রতি।
ওই গবেষণায় দেখা গেছে, আইকিউ বেশি হওয়া ও বুদ্ধিমত্তার জেনেটিক সূচকের সঙ্গে বামপন্থী হওয়ার একটি সম্পর্ক রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা টুইন সিটিসের (ইউএম) মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষকদের নতুন গবেষণাপত্রে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ইন্টেলিজেন্স জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বুদ্ধিমত্তার অসংখ্য পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রখর বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে ‘বামপন্থী এবং উদার রাজনৈতিক (লিবারেল) আদর্শের’ অনুসারী হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।
গবেষণাপত্রের লেখক বলেছেন, ‘আমাদের গবেষণার ফলাফল বলছে, জিনগতভাবে বুদ্ধিমান হওয়ার সঙ্গে বামপন্থায় বিশ্বাসী হওয়ার প্রবণতার সম্পর্ক রয়েছে।’ জিনগতভাবে বুদ্ধিমান হওয়ার বিষয়টি পরিমাপ করা হয় পলিজেনিক স্কোর দিয়ে।
আইকিউ এবং পলিজেনিক স্কোর—উভয়ই গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে। পলিজেনিক স্কোর মূলত জেনেটিক প্রোফাইল; যা সবকিছুই নির্ধারণ করে, যেমন— একজনের চেহারা এবং রোগ বা মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকি কেমন হবে। গবেষণাটি প্রথমে শিক্ষা অর্জনের সঙ্গে জ্ঞানগত কর্মক্ষমতার সম্পর্ক নির্ধারণে করা হয়। পরে পরিমাপ করা হয় বুদ্ধিমত্তা, জেনেটিকস এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসের মধ্যে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না।
তবে মানুষের বিভিন্ন ধরনের আইকিউয়ের সঙ্গে নানা প্রভাবকের ভূমিকা রয়েছে। আইকিউ পরীক্ষা বুদ্ধিমত্তার নির্ভুল নির্ণায়ক হতে পারে না। আইকিউয়ের সঙ্গে পরিবেশ ও প্রতিপালনের স্পষ্ট ভেদ রেখা টানা কঠিন। কারণ, শিক্ষা ও পরিবেশ স্পষ্টত আইকিউ স্কোর বাড়ায়। এ ছাড়া উচ্চতর আইকিউ স্কোরধারীদের মধ্যে কখনো কখনো বর্ণবাদী বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ধারক হতে দেখা যায়।
গবেষণাপত্রটির পদ্ধতি ছিল বিস্ময়কর। গবেষণায় ৩০০টিরও বেশি পরিবার অংশ নেয়। এর মধ্যে কিছু শুধু জৈবিক সন্তান, অন্যরা দত্তক নেওয়া সন্তান এবং একটি ছোট অংশে দত্তক ও জৈবিক উভয় সন্তানই ছিল।
গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীর রাজনৈতিক মূল্যবোধকে পাঁচটি চলকের ভিত্তিতে চিহ্নিত করেছেন: রাজনৈতিক অভিমুখ, কর্তৃত্ববাদ, সমতাবাদ, সামাজিক উদারনৈতিকতা এবং অর্থনৈতিক রক্ষণশীলতা।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পলিজেনিক স্কোরগুলো পরিবারের মধ্যে সামাজিক উদারতাবাদ এবং কম কর্তৃত্ববাদের পূর্বাভাস দেয়। বুদ্ধিমত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে সামাজিক উদারতাবাদ এবং কম কর্তৃত্ববাদের ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম। এমনকি আর্থ-সামাজিক চলকগুলোর কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেও বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিতে এমন রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী হওয়ার ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায়।
গবেষকেরা লিখেছেন, আমাদের পর্যবেক্ষণগুলো এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী কার্যকারণগত অনুমান প্রদান করতে পারে যে বুদ্ধিমত্তা সরাসরি রাজনৈতিক বিশ্বাসকে প্রভাবিত করে।
গবেষণাপত্রের লেখক টোবিয়াস এডওয়ার্ডস সাইপোস্টকে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা বুদ্ধিমত্তার আইকিউ এবং জিন উভয় সূচক পেয়েছি। এই দুই সূচক ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে, একই পরিবারে একই পরিবেশে লালিত-পালিত দুই সন্তানের মধ্যে কোনোটি বেশি উদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি বোঝায় যে বুদ্ধিমত্তা রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। শুধু পরিবেশ বা লালন-পালন পদ্ধতি বুদ্ধির বিকাশ ঘটায় না; বরং বুদ্ধিমত্তার জন্য জিন বৈচিত্র্য আমাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কেন এমন হয়, সেটা আমি জানি না।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশ কয়েকটি গবেষণায় একই ধরনের ফলাফল পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালে ইমোশন সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, কম মানসিক বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ডানপন্থী বা কুসংস্কারপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ২০১৭ সালের একটি সমীক্ষাতেও অনুরূপ ফলাফল এসেছে। ২০১২ সালে সাইকোলজিক্যাল সায়েন্সে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, কম সাধারণ বুদ্ধিমত্তার শিশুরা প্রাপ্তবয়স্ক হতে হতে কুসংস্কারে বিশ্বাসী হতে পারে এবং ফলস্বরূপ তারা ‘ডানপন্থী মতাদর্শ’ গ্রহণ করতে পারে।
তবুও এডওয়ার্ডস সতর্ক করে বলেছেন, রাজনৈতিক বিশ্বাস একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক মুহূর্তের জটিল গঠন; যা কোনো একটি মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না।
এডওয়ার্ডস সাইপোস্টকে বলেন, ‘এই বিস্ময়র ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছে; এমন কোনো কথা নেই যে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের সারা জীবন নির্দিষ্ট বিশ্বাস বা মতাদর্শের সমর্থক হতে হবে। আমাদের বুদ্ধিমত্তা আমাদের বিশ্বাসকে যেভাবে প্রভাবিত করে, তা সম্ভবত আমাদের পরিবেশ এবং সংস্কৃতির ওপরও নির্ভর করে। ইতিহাসে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাব, বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা বিভিন্ন ধরনের এবং প্রায়ই পরস্পরবিরোধী ধারণার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাসে বুদ্ধিমানরা বিপজ্জনক মতাদর্শ এবং অত্যাচারী শাসনের প্রতিও প্রলুব্ধ হয়েছে। অনেক বুদ্ধিমান লোক এমন সব ধারণা বিশ্বাস করেছেন, যা নিরেট অযৌক্তিক।’

১৮৭২ সালের ৫ ডিসেম্বর উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল ব্রিটিশ বাণিজ্যিক জাহাজ ‘মেরি সেলেস্ট’। জাহাজটিতে তখন কোনো মানুষ ছিল না। অথচ খাবার, মালপত্র ও নাবিকদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র প্রায় অক্ষত অবস্থায় পড়ে ছিল।
৬ দিন আগে
সম্প্রতি আবিষ্কৃত একটি গ্রহাণু খুব কাছ দিয়ে পৃথিবী অতিক্রম করতে যাচ্ছে। তবে এতে কোনো ধরনের বিপদের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) জানিয়েছে, ‘২০২৬ জেএইচ২’ নামের এই গ্রহাণুটি আজ সোমবার (১৮ মে) পৃথিবীর প্রায় ৯১ হাজার ৫৯৩ কিলোমিটার দূর দিয়ে অতিক্রম করছে।
৬ দিন আগে
মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসা মানুষের অভিজ্ঞতাকে বলা হয়—‘নিয়ার-ডেথ এক্সপেরিয়েন্স’ বা ‘এনডিই’। দীর্ঘদিন ধরেই জীবন আর মৃত্যুর মাঝে থাকা এই ধূসর অবস্থাটি নিয়ে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের কৌতূহলের অন্ত নেই।
৭ দিন আগে
১৮৪৫ সালের দুর্ভাগ্যজনক ফ্রাঙ্কলিন অভিযানের চার নাবিকের পরিচয় অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। প্রায় ১৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আর্কটিকে নিখোঁজ থাকা এই অভিযানের রহস্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।
৭ দিন আগে