বয়ঃসন্ধিকাল একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে মা-বাবার খারাপ আচরণ, স্বভাব, উদাসীনতার কারণে সন্তান মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। হতাশায় ভোগে। আবার মা-বাবার ভালো আচরণ, বন্ধুর মতো ব্যবহার সন্তানকে সফল করে। অনেক আত্মবিশ্বাসী করে।
ইউনিসেফের তথ্যমতে, ১০-১৯ বছর বয়স হলো বয়ঃসন্ধিকাল। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৬০ লাখ কিশোর-কিশোরী রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া হওয়ায় বাংলাদেশে মেয়েদের ১০-১৩ ও ছেলেদের ১১-১৫ বছরের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হয়ে যায়।
আবেগের প্রতি যত্নশীল হোন
এ বয়সে কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কে ভাঙা-গড়া, অর্থাৎ মস্তিষ্কের পুনর্গঠন চলে। শরীর ও মনের অনেক পরিবর্তনের কারণে তারা নিজেদের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। কিশোর-কিশোরীদের মেজাজ খিটখিটে হয়, তারা অতিরিক্ত রাগে ফেটে পড়ে। তাই মা-বাবাকে সন্তানের আবেগের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। অনেক ছেলেমেয়ে খুব একগুঁয়ে ও জেদি হয়। সে ক্ষেত্রে তাদের ভালোবেসে বোঝাতে হবে। শান্ত মাথায় বোঝালে সন্তানকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তাদের আবেগও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

বন্ধুর মতো আচরণ করুন
যেকোনো সম্পর্কের মূল ভিত্তি হচ্ছে বন্ধুত্ব। সন্তানের সঙ্গে মা-বাবারও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। বাসায় এমন পরিবেশ গড়ে তোলা উচিত যেন সন্তান কোনো দ্বিধা ছাড়াই মনের সব কথা বলতে পারে। হতাশা, রাগ, অনুরাগ, ভালোবাসা, পছন্দ ও অপছন্দের কথা বলতে পারে। অভিভাবক হিসেবে আপনি যখন তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, তখন অজান্তেই তার কাছে বিশ্বস্ত হয়ে যাবেন। ভরসার জায়গা হয়ে উঠবেন। সন্তান যদি বাইরে কোনো ভুল করে আসে, তাহলে তাকে বকা না দিয়ে বোঝাতে হবে।
পরামর্শ ও আচরণে সমন্বয় করুন
মা-বাবার আচরণ ও নৈতিকতা ঠিক থাকতে হবে। সন্তানকে ভালো কাজ ও আচরণের পরামর্শ দিয়ে, মা-বাবা যদি ভুল আচরণ করে, অন্যের গায়ে হাত তোলে কিংবা বাসার কাজের মেয়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, তাহলে সন্তান ভালো শিক্ষা অর্জন করবে না; বরং তারা কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডারে ভুগবে। মিথ্যা কথা বলা শুরু করবে, মা-বাবাকে ভয় পাবে।
মতানৈক্যে ধৈর্য ধরুন
কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে অনেক বিষয় নিয়ে মা-বাবার মতানৈক্য থাকতে পারে। মা-বাবা যা করতে বলেন, যা করতে নিষেধ করেন, সেগুলো তারা মেনে নিতে চায় না। রেগে যায়। মা-বাবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে ফেলে। এসব ক্ষেত্রে মা-বাবাকে ধৈর্যশীল হতে হবে। সন্তানের নিজস্ব মতের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। যুক্তিতে তাকে হারানোর চিন্তা কিংবা রেগে গায়ে হাত তোলার অভ্যাস করা যাবে না। এতে সন্তান বিপথগামী হতে দ্বিতীয়বার না-ও ভাবতে পারে।
ডিভাইস দেওয়ার আগে ভাবুন
এই সময়ে কিশোর-কিশোরীরা মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করছে। সন্তানের হাতে ফোন বা যেকোনো ডিভাইস দেওয়ার আগে সেগুলো ব্যবহারের ভালো ও খারাপ দিকগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে।
অতিরিক্ত শাসন ও সন্দেহ নয়
ন্তানকে অতিরিক্ত শাসন করা, চোখে চোখে রাখা, সন্তানের অগোচরে তার বই, ডায়েরি, মোবাইল ও ট্যাব চেক করার অভ্যাস ভালো নয়। তাকে ছাড় দিতে হবে। তবে সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, সেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
প্রাকৃতিক বিষয়গুলো বোঝান
পিরিয়ড, সেক্স এডুকেশন, বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বৃদ্ধি ইত্যাদি নিয়ে সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। তাকে ভরসা দিতে হবে। এ বিষয়গুলো যে প্রাকৃতিক, তা বুঝিয়ে বলতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সন্তানের সমালোচনা করা যাবে না।
লেখক: সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সেলর

ফ্যাশন এমন এক বৈশ্বিক ভাষা যা দেশ, সংস্কৃতি কিংবা জাতিগত সীমানা পেরিয়ে মানচিত্রের প্রতিটি কোণে নিজের ছাপ রেখে যায়। তবে পোশাকের এই বৈচিত্র্যময় দুনিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীদের পোশাকের গড় মাপের পার্থক্য বেশ চমৎকার। প্যারিসের র্যাম্প থেকে শুরু করে এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাজার কিংবা আফ্রিকার স্থানীয়...
৯ ঘণ্টা আগে
ঋতু বদলের এই সময়ে অনেকে জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা কিংবা অন্য কোনো সংক্রমণের কারণে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে জ্বর হতে পারে। অনেক সময় জ্বর শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় থাকার একটি লক্ষণ।
১২ ঘণ্টা আগে
প্রিয় পারফিউমটি প্রতিদিন ব্যবহার করতে করতে হঠাৎ একদিন খেয়াল করলেন, আগের মতো ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে না। পরিচিত সেই সতেজতা নেই। এর জন্য সব সময় পারফিউম দায়ী নয়। ভুলভাবে সংরক্ষণ করার কারণেও বদলে যেতে পারে প্রিয় সুগন্ধির ঘ্রাণ। পারফিউম বেশ সংবেদনশীল একটি জিনিস।
১৪ ঘণ্টা আগে
পোক দিবসের এই ‘পোক’ হলো হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের একটি জনপ্রিয় ও সুস্বাদু ঐতিহ্যবাহী খাবার। হাওয়াইয়ান ভাষায় পোক শব্দের অর্থ হলো টুকরো করা। সাধারণত কাঁচা মাছ ছোট ছোট কিউব বা টুকরো করে কেটে, বিভিন্ন মসলা ও সস দিয়ে মাখিয়ে ভাতের ওপর সাজিয়ে খাওয়া হয় এই খাবারটি। এটি বিখ্যাত জাপানিজ খাবার সুশির মতো কাঁচা মাছ...
১৬ ঘণ্টা আগে