
জিনিসপত্রের লাগামহীন দামে যখন বেশির ভাগ স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস চলছে, তখন ব্যাংকে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যখন টালমাটাল করে তুলেছে, তখনো একশ্রেণির মানুষ ফুলেফেঁপে কলাগাছ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ কোটিপতির হিসাব থেকেই এ চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
তথ্য-উপাত্ত বলছে, ব্যাংকে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। ২০১৯ সালেও এ সংখ্যা ৮৪ হাজারের কম ছিল। গত পাঁচ বছরেই দেশে কোটিপতি বেড়েছে ৩০ হাজারের বেশি। আর পুরো ব্যাংক খাতের ১৭ লাখ ১৩ হাজার ১৩৪ কোটি টাকার মধ্যে তাঁদের জমানো টাকাই ৭ লাখ ২৭ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এসব কোটিপতি বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ না করে, জমিয়ে রাখায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরা বলেন, মূলত আয়ের বড় ধরনের বৈষম্যের ফলে সাধারণ মানুষের আয় কমলেও কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনার প্রথম আঘাত আসে ২০১৯ সালে। এ সময় দেশে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার ৮৩৯। আর ২০২০ সালের মার্চে করোনার বছরে কোটিপতির হিসাব দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৮৯০ জনে। আর ২০২১ সালে কোটিপতি বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১ হাজার ৯৭৬ জনে। এর পরের বছর ইউক্রেন যুদ্ধে ডলার-সংকট দেখা দেয়। তবুও ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোটিপতির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬; যা ২০২৩ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৫ জনে।
এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অর্থনীতির নানা সংকটের কারণে আমানতের প্রবৃদ্ধি অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা কম রাখছেন। অনেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে আমানত ভেঙে খাচ্ছেন। কিন্তু কোটিপতির সংখ্যা সংকটেও বেড়েই চলছে। অপর দিকে সংকটে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বেকারত্ব বেড়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাংক খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা ১৪ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৬৮৪। এসব হিসাবে জমা ১৭ লাখ ১৩ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে—এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা রয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৫। এসব হিসাবে জমা আছে ৭ লাখ ২৭ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের মধ্যে প্রায় ৪৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ দখলে রেখেছেন কোটিপতিরা।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নানা সংকট আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জাঁতাকলে পিষ্ট নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। সাধারণ মানুষ সংসারের ব্যয় মেটাতে পারছেন না। ছোট ছোট অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করতে পারছে না। ব্যাংকে টাকা জমানো তো দূরের কথা, অনেকে জমানো সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতেও একশ্রেণির মানুষের আয় বেড়েছে, যা সমাজে বৈষম্যের প্রতিফলন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে ব্যাংকে কোটিপতি হিসাব ছিল ৫টি এবং ১৯৭৫ সালে তা দাঁড়ায় ৪৭টিতে। এরপর তা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টিতে উন্নীত হয়। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ১৫ বছরের ব্যবধানে কোটিপতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৫ জনে। সেই হিসাবে বর্তমান সরকারের সময়ে কোটিপতি বেড়েছে ৯৪ হাজার ৮৯২ জন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ কোটি ১ টাকা থেকে শুরু করে ৫ কোটি টাকার আমানতের হিসাব দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৭৬০টি। আমানত ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। ৫ কোটি ১ টাকা থেকে ১০ কোটির ১২ হাজার ২২১টি হিসাবে সঞ্চয় ৮৬ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। এ ছাড়া ১০ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৪; ১৫ কোটি থেকে ২০ কোটির মধ্যে ১ হাজার ৯৬৮; ২০ কোটি থেকে ২৫ কোটির মধ্যে ১ হাজার ২৭৪ এবং ২৫ কোটি থেকে ৩০ কোটির মধ্যে ৯১৯ আমানতকারীর হিসাব। ৩০ কোটি থেকে ৩৫ কোটি টাকার মধ্যে ৫১২টি এবং ৩৫ কোটি থেকে ৪০ কোটির মধ্যে রয়েছে ৩৪৩টি। এ ছাড়া ৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার হিসাব সংখ্যা ৭৪৭। তা ছাড়া ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা হিসাবের সংখ্যা ১ হাজার ৭৭৮।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘একদিকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা। এর মানে হলো, দেশে আয়বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এটি ভালো লক্ষণ নয়। এই বৈষম্য না কমলে অর্থনীতির গতি বাধাগ্রস্ত হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওয়েলথ-এক্সের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৮ সালে সম্পদশালী বৃদ্ধির হার ও ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রক্ষেপণ ধরে ওয়েলথ-এক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩ কোটি ডলারের বা ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিকদের সংখ্যা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি হারে বাড়ছে। ওয়েলথ-এক্সের হিসাবে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে অতি ধনীর সংখ্যা বেড়েছে গড়ে ১৭ শতাংশ হারে। যা যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারতসহ মোট ৭৫টি বড় অর্থনীতির দেশের চেয়ে বেশি।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান মনে করেন, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সমাজে আয়বৈষম্য বেড়েছে। এসব দুর্নীতির কারণে সমাজের একটি বড় অংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেশের ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) নিয়েছেন ৯৯ লাখ ৭২ হাজার জন। কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ৪০৬টি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের আয় বাড়ছে। ব্যাংকের সংখ্যা বেড়েছে। এসবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তো কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে। সামনে আরও বাড়তে পারে। এমন প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ভালো।/

বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন ও পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এটিজেএফবি অ্যাভিয়েট্যুর উইমেন্স আইকন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পেয়েছেন ১০ জন নারী। অ্যাভিয়েশন ও পর্যটন খাতে সাংবাদিকদের সংগঠন অ্যাভিয়েশন ও টুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) এ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের তৃতীয় আসরের আয়োজন করে
৩ ঘণ্টা আগে
খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। এ ছাড়া বাজারে অস্থিরতা, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং করপোরেট সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে প্রান্তিক খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদানসহ আরও...
৪ ঘণ্টা আগে
দেশের পুঁজিবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস মিলেছে। বিদায়ী সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই ঊর্ধ্বমুখী ছিল বাজার। এতে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ফলে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাজারে আতঙ্ক তৈরি হলে ৬ মার্চ দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়। সে সময় মোটরসাইকেলে ২ লিটার, এসইউভি ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫, পিকআপ বা লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল...
৪ ঘণ্টা আগে