Alexa
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

সাক্ষাৎকার: অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

একতরফা দাম বাড়াতেই আইন সংশোধন

সরকার এমন সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চাইছে, যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। দেশের জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের নানা বিষয় নিয়ে গতকাল শনিবার আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং সর্বজনকথা পত্রিকার সম্পাদক আনু মুহাম্মদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪:৪৬

আনু মুহাম্মদ আজকের পত্রিকা: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াকে লোডশেডিংয়ের কারণ বলছে সরকার। এই বক্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?

আনু মুহাম্মদ: দেশে বর্তমানে যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট আছে, তার সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমান সংকটের জন্য সরকারের বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনাই দায়ী। একদিকে আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাত সৃষ্টি করা, অন্যদিকে গোষ্ঠীস্বার্থকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে বসিয়ে রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা। এই ভুল মহাপরিকল্পনার অনিবার্য পরিণতি আজকের এই সংকট। এই সরকারের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বেড়েছে, কিন্তু বিদ্যুতের চাহিদা সেই অনুপাতে না বাড়ার কারণে মোট সক্ষমতার অর্ধেক বসিয়ে রেখে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিচ্ছে। সামিট, ওরিয়ন, ইউনাইটেড পাওয়ারসহ দেশের ১২টা প্রতিষ্ঠান গত ১১ বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েছে।

আজকের পত্রিকা: সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিনিয়োগ করলেও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ জন্যই কি সরকার গ্যাস আমদানি শুরু করেছে?
আনু মুহাম্মদ: দেশে গ্যাস প্রাপ্তির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনটা কূপ খনন করলে একটাতে গ্যাস পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ধরলে এই গ্যাস প্রাপ্তির অনুপাত ৫:১। দেশে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে উত্তোলন ও অনুসন্ধানের জন্য আমরা বাপেক্স ও পেট্রোবাংলাকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। যদি এ দুই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন করা যেত, তাহলে দেশে এখন যে গ্যাসের সংকট আছে, সেটা থাকত না। সরকার সেদিকে না গিয়ে এলএনজি আমদানি শুরু করল।

আজকের পত্রিকা: অনেকের অভিযোগ, বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনায় ভুলনীতির জন্যই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এটা কতটুকু সত্য? 
আনু মুহাম্মদ: সরকার বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থকে সুরক্ষা দিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন, ২০১০ প্রণয়ন করে। এই আইনের মাধ্যমে বিনা দরপত্রে সরকারের ঘনিষ্ঠ লোকজনকে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এই আইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সব অনিয়মকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই আইন যখন করা হয়, আমরা আশঙ্কা করেছিলাম যে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে ভয়াবহ কোনো সিদ্ধান্ত নেবে।

আজকের পত্রিকা: রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল আমাদের বিদ্যুতের সমাধান দিতে পেরেছে? 
আনু মুহাম্মদ: যখন রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়, তখন দেশে লোডশেডিং ছিল। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রথমে পাঁচ বছরের জন্য করা হলেও গোষ্ঠীস্বার্থ সংরক্ষণ করতে গিয়ে সরকার বারবার মেয়াদ বাড়িয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাজার কোটি টাকা বসিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ না করেও সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সংস্কার করে, সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন আধুনিকীকরণ করে বিদ্যুতের সমস্যা নিরসন করা যেত। যারা রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে, তারা খুবই শক্তিশালী। সরকার তাদের ব্যবসা দেওয়ার জন্য এই পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ খাতে বিপর্যয় শুরু এই রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে।

আজকের পত্রিকা: বিদ্যুতে ভর্তুকির চাপ কমাতে সরকার দাম বাড়াতে যাচ্ছে। বিদ্যুতের এই দাম বাড়ানো কি আইএমএফের চাপে পড়ে? 
আনু মুহাম্মদ: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে জনগণের টাকায় ভর্তুতি দেওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে লুণ্ঠনমূলক তৎপরতা। অব্যবস্থাপনার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সরকার এখন ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়াতে চাইছে। এই দাম বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে ভর্তুকিকে। আইএমএফের চাপে সরকার এখন ভর্তুকি প্রত্যাহার করতে চাইছে। আমাদের প্রস্তাব যদি সরকার গ্রহণ করত, তাহলে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির প্রয়োজন হতো না।

আজকের পত্রিকা: বিইআরসি আইন সংশোধন কেন প্রয়োজন হলো? 
আনু মুহাম্মদ: করোনা মহামারি থেকে উইক্রেন যুদ্ধের এই সময়ে সরকার জ্বালানি, গ্যাসের পর এখন বিদ্যুতে দাম বাড়াতে যাচ্ছে। এমন সময় বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চাইছে, যখন মানুষ টাকার অভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয়ে ব্যয় সংকোচন করতে বাধ্য হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো নিয়ে বিইআরসি গণশুনানির নামে জনগণের সঙ্গে নাটক করে। দাম বাড়ানোর শুনানিতে দেখা যায়, ভর্তুতির জন্য সরকারের দুর্নীতি ও লুণ্ঠনব্যবস্থা দায়ী। এটা শুনানিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কিছুদিন পরে বিইআরসি দাম বাড়িয়ে দিল। সরকার এখন এই নাটকটাও আর করতে চাইছে না। অসহিষ্ণু সরকার এখন একতরফাভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়াতে এই আইন সংশোধন করেছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি: ‘গরিবকে সহায়তার পরামর্শ আইএমএফের, মানছে না সরকার’

    গ্যাসের দাম কমাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এফবিসিসিআইয়ের চিঠি

    গ্যাস-বিদ্যুতের দাম: শ্রমিক অসন্তোষের শঙ্কা জানিয়ে বিজিএমইএর চিঠি

    হুন্দাইয়ের মেইড ইন বাংলাদেশ গাড়ির যাত্রা শুরু 

    শিল্প খাতে গ্যাসের দাম বাড়ল, আবাসিকে আগের দাম

    ‘ঋণ ও আর্থিক খাতের ঝুঁকি’ জানতে চায় আইএমএফ

    ইসি আনিছুরের স্বাক্ষর জাল করে এনআইডি সংশোধন

    গোবিন্দগঞ্জে কূপ খননের সময় চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

    আমার পকেটে আহলে হাদীসের ২ কোটি ভোট: সংসদে রহমতুল্লাহ

    এরশাদের সঙ্গে বেইমানি করে ২০১৪ সালের নির্বাচনে গিয়েছিলাম: সংসদে চুন্নু

    সিংড়ায় ৩২ কেজির প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার

    সাতক্ষীরায় কেন্দ্রীয় নেতার সামনে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিপেটা, আহত ২০