Alexa
রোববার, ২৯ মে ২০২২

সেকশন

epaper
 

এগারো বছরেও শেষ হয়নি খুলনা-মোংলা রেললাইনের কাজ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ১১:০৮

তিন বছরের শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি জটিলতা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ, করোনা সমস্যাসহ নানা বিপত্তিতে কাজ ১১ বছরেও শেষ হয়নি। ফাইল ছবি খুলনা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার (আট স্টেশনে ডাবল লাইনসহ ৮৫ কিলোমিটার) রেলপথ নির্মাণের জন্য ২০১০ সালে একটি প্রকল্প শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ, করোনা সমস্যাসহ নানা বিপত্তিতে তিন বছরের এই কাজ ১১ বছরেও শেষ হয়নি।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এরই মধ্যে কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। সর্বশেষ দফায় সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। বারবার মেয়াদ বাড়ানোয় কয়েক গুণ বেড়েছে প্রকল্পের ব্যয়। রেলপথ নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এরপর প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে হয় ৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় সংশোধনীতে তা ৪ হাজার ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়।

এতবার মেয়াদ বাড়ানোর পরও এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ। রেলপথ বসেছে ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে ৩০ কিলোমিটার। আর রূপসা নদীর ওপর নির্মিত ৫ কিলোমিটার রেলসেতুর ৭টি স্প্যানের মধ্যে ৪টির কাজ শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী বছরের জুনের আগে প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ করা প্রায় অসম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ হোসাইন মাসুম বলেন, শুরুতে জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এরপর করোনার কারণে কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। তবে বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে রেলপথের সেতু, স্লিপার ও লাইনের ওপর পাত বসানোর কাজ। ইতিমধ্যে ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে ৩০ কিলোমিটার রেলপথ বসেছে। আর ৮টি স্টেশনের ৩টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সে সঙ্গে ৩১টি ছোট ব্রিজ,

১০৬টি কালভার্ট, আর রূপসা সেতুর ওপর ৫ দশমিক ১৩ কিলোমিটারের রেলসেতুর ৭টি স্প্যানের মধ্যে ৪টিই বসানো সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১০২ মিটার। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে দুইটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রেললাইন নির্মাণের কাজ করছে ইরকন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, আর রূপসা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ করছে এলঅ্যান্ডটি। করোনার কারণে ভারত থেকে মালামাল আসতে অনুমোদনে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় কাজের ধীরগতি স্বীকার করেন ইরকন ইন্টারন্যাশনালের যুগ্ম ব্যবস্থাপক জি সি ত্রিবেদী।

এদিকে তিন বছরের প্রকল্প ১০ বছরের বেশি সময়ে শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি খুলনা-মোংলা রেললাইন। এই রেললাইন চালু হলেও মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হবে। তিন বছরের প্রকল্প ১০ বছরের বেশি সময়েও শেষ হয়নি। অথচ এ সময়ের মধ্যে প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে তিনগুণ, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ জন্য প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতাই দায়ী বলে মনে করেন তিনি।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির মহাসচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, খুলনা মোংলা রেল প্রকল্প বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আরও গতিশীল হবে মোংলা বন্দর। পর্যটক বাড়বে সুন্দরবনে। এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। পাল্টে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট। তিনি দ্রুত প্রকল্পটি শেষ করার আহ্বান জানান।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    বৈরী আবহাওয়ায় পেটের পীড়ায় আক্রান্ত শিশুরা

    ‘স্ত্রীর ওষুধ ও সংসারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্চি’

    বন্যা মোকাবিলায় নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত

    ৪০ কন্যার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা, জমকালো আয়োজন

    প্রতিমন্ত্রী পলকের তোপের মুখে বেরোবি উপাচার্য

    সন্ধ্যার পর চলে স্পিডবোট নেওয়া হয় বাড়তি ভাড়া

    দেখে নিন লিভারপুল-রিয়াল ফাইনালের একাদশ

    বিদেশে প্রশিক্ষণে গিয়ে উধাও কনস্টেবল, উৎকণ্ঠায় বাবা-মা

    ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে একের পর এক উধাও হচ্ছে রুশ প্রমোদতরী

    বিধবা নারীকে বাজারে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা, যুবক গ্রেপ্তার

    বোরহানউদ্দিনে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার-ফার্মেসিতে অভিযান, ৭৭ হাজার টাকা জরিমানা

    ফরিদপুরে অবৈধ ২০ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ