Ajker Patrika

মিরপুর থেকে নারীদের যাত্রাবাড়ী এনে ধর্ষণ-ব্ল্যাকমেল করেন রাব্বি, বিয়েও করেন একই কায়দায়

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ৩৮
মিরপুর থেকে নারীদের যাত্রাবাড়ী এনে ধর্ষণ-ব্ল্যাকমেল করেন রাব্বি, বিয়েও করেন একই কায়দায়
গ্রেপ্তার রাশিদুল ইসলাম রাব্বি (৩০)। ছবি: সংগৃহীত

গত ৪ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানায় এক তরুণী ব্যক্তিগত ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ সন্দেহভাজন এক যুবকের খোঁজ পায়, যিনি দেড় মাসে একই কৌশলে অন্তত ১০ জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। গত সোমবার রাশিদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামের ওই ব্যক্তিকে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ বুধবার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।

মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, যাত্রাবাড়ী থানায় এক তরুণীকে পর্নোগ্রাফি দিয়ে ‘ব্ল্যাকমেল’ করার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসে। এখন পর্যন্ত ১০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে আর আসামি নিজে ১৩টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।

সব ক্ষেত্রে প্রতারণার ধরন একই ছিল জানিয়ে ডিসি আরও বলেন, ওই যুবক ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেল করতেন, কখনো ধর্ষণ করতেন আবার কখনো ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে টাকা আদায়ে চাপ সৃষ্টি করতেন।

গত ৪ মার্চ সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পর ৯ এপ্রিল পর্যন্ত গত দেড় মাসের মধ্যে ১০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে রাব্বির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ঢাকার মিরপুর এলাকার।

যুবকের প্রতারণার কৌশলের বিষয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রাব্বি প্রথমে একজন নারীকে টার্গেট করতেন। পরিচয়ের পর শুরুতে ওই নারীর মোবাইল ফোন নিয়ে নিতেন এবং তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতেন। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওই নারীর বন্ধুতালিকার অন্য মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করতেন। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে তাঁদের নানা অজুহাতে বাইরে ডেকে নিতেন।

ডিসি আরও বলেন, যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ-সংলগ্ন এলাকায় দুটি বাসায় ভুক্তভোগীদের নেওয়া হতো। দিনের বেলায় একটিতে, রাতের বেলায় আরেকটি বাসায় নিয়ে যেতেন রাব্বি। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ব্ল্যাকমেল করে নারীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, টাকা ও ব্যাংক থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মল্লিক আহসান উদ্দিন জানান, সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী সরাসরি অভিযোগ না করে ‘মোবাইল হারিয়েছে’ উল্লেখ করে জিডি করেছেন। সেসব জিডির সূত্র ধরেই তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে।

আহসান উদ্দিন বলেন, রাব্বির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে এবং আরও তিন-চারটি জিডি তদন্তাধীন। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা পাঁচটি মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলো বিভিন্ন ভুক্তভোগীর। পরে যোগাযোগ করলে অনেকে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে জানিয়েছেন।

রাশিদুল ইসলাম রাব্বি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। কোনো কাজ করতেন না, প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেল করেই চলতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মল্লিক আহসান উদ্দিন বলেন, রাব্বি যাঁকে বিয়ে করেছেন, তাঁকেও একই কৌশলে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছেন। এমনকি শ্বশুরবাড়িতেও একই ধরনের কাজ করতে গিয়ে একবার ধরা পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযুক্ত রাব্বি প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ ও অত্যন্ত ধুরন্ধর হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তারে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এমনকি তাঁকে ধরতে পুলিশের সদস্যদের রিকশা চালিয়েও অভিযান চালাতে হয়েছে। রাব্বির বিরুদ্ধে এর আগেও কদমতলী থানায় একই ধরনের একটি মামলা রয়েছে। তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাব্বিকে নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। আরও অনেক ভুক্তভোগী নারী থাকতে পারেন, যাঁরা এখনো সামনে আসেননি। এ কারণে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত