
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীসহ সংশ্লিষ্টদের পাঁচটি বেনিফিশিয়াল ওনার্স অ্যাকাউন্ট বা বিও হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবেদ আলীর মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধানের স্বার্থে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিও হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশনস অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা এই আবেদন করেন।
আবেদন অনুযায়ী, আবেদ আলীর পাঁচটি বিও হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে—সৈয়দ আবেদ আলীর নামে—বিডিবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডে থাকা অ্যাকাউন্ট; আবু সোলায়মান মো. সোহেলের নামে শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেড ও গ্লোবাল সিকিউরিটিজ লিমিটেডে থাকা দুটি অ্যাকাউন্ট; জাহাঙ্গীর আলমের নামে মোনা ফিন্যান্সিয়াল কনসালটেন্সিতে থাকা অ্যাকাউন্ট এবং মো. মাহবুবুর রহমানের নামে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেডে থাকা অ্যাকাউন্ট।
আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী দলের সদস্য। আবেদ আলীসহ এই চক্র ২০০৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে উপার্জিত অবৈধ অর্থ দিয়ে তারা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
তদন্তের সুষ্ঠু স্বার্থে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪(১) ধারা অনুযায়ী বিও অ্যাকাউন্টগুলো অবরুদ্ধ করার জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ প্রদানের আবেদন জানানো হয়।
শুনানি শেষে আদালত এসব অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ার ও অর্থ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অবরুদ্ধ রাখার আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পিপি মো. ওমর ফারুক ফারুকী শুনানি করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ জুলাই বিসিএসের পরীক্ষাসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আবেদ আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে গত বছরের ৫ জানুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা করে দুদক। গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি আবেদ আলীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়; ৭ এপ্রিল তাঁর ১৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং ঢাকা ও মাদারীপুরের বিভিন্ন মৌজায় থাকা ২০টি দলিলের জমি ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।