ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন

প্রশ্ন: আমি বাবার বাসায় থাকা অবস্থায় স্বামী আরেকটি বিয়ে করে। সে জানায়, আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে। কিন্তু আমি আজ এক বছরেও কোনো নোটিশ পাইনি। তার বিয়ের পরপরই এক পারিবারিক আইনজীবীর সাহায্যে তার বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করি। আইন ও মামলা বিষয়ে আমার ধারণা না থাকায় আইনজীবী যা বলেছেন, তা-ই করেছি। কোর্ট থেকে ওয়ারেন্ট বের হওয়ার পর তারা আগাম জামিন নিয়েছে, সেটা দুই মাস পর আমি জানতে পেরেছি। সে আমার দেড় বছরের সন্তানের কোনো ভরণপোষণ দেয় না, কোনো খোঁজখবরও রাখে না। আমি এই বয়সে মেয়েটাকে নিয়ে চাকরি করছি। কোথায় যাব, কী করব বুঝতে পারছি না।
আমাদের আইনজীবী কি কোনো ধরনের ছলচাতুরী করেছে? এখন আমাদের কী করা উচিত?
উত্তর: আপনি এক অন্যায় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আপনার বৈবাহিক অবস্থা এখনো বৈধ। মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯৬১, সেকশন ৭ অনুযায়ী তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য তিনটি আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে। লিখিত তালাকনামা দিতে হবে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা সিটি করপোরেশনের মেয়রকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। এরপর চেয়ারম্যান ৯০ দিনের মধ্যে সালিসি সভা আহ্বান করবেন এবং সে সময়কাল শেষে তালাক কার্যকর হবে।
আপনি যেহেতু কোনো লিখিত নোটিশ পাননি এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও কোনো সালিসি সভার নোটিশ পাননি, তাহলে এ ধরনের তথাকথিত ‘ডিভোর্স’ আইনগতভাবে অবৈধ ও অকার্যকর।
অর্থাৎ, আপনি এখনো তাঁর বৈধ স্ত্রী। তিনি অর্থাৎ আপনার স্বামী যদি আপনার অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করে থাকেন, তাহলে তিনি মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯৬১, সেকশন ৬ অনুযায়ী অপরাধ করেছেন।
সেই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
আপনি এই অভিযোগ স্থানীয় পারিবারিক কোর্ট বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে দাখিল করতে পারেন।
আপনি নিজের এবং আপনার সন্তানের জন্য পারিবারিক কোর্টে ভরণপোষণের মামলা করতে পারেন মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯৬১, সেকশন ৯ অনুসারে। এই মামলায় আপনি দাবি করতে পারবেন—সন্তানের মাসিক খরচ (খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি), নিজের রক্ষণাবেক্ষণ (যেহেতু বৈধ ডিভোর্স হয়নি) এবং অতীতের বকেয়া ভরণপোষণ।
যে কাগজপত্র প্রয়োজন হবে
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ, নিকাহনামা (কিংবা বিয়ের সাক্ষী থাকলে তাঁদের বিবৃতি), সন্তানের জন্মসনদ, আপনার স্বামীর ঠিকানা ও পেশার তথ্য, আপনার এবং সন্তানের আনুমানিক মাসিক খরচের হিসাব।
আপনি যৌতুক মামলা ইতিমধ্যে করেছেন বলে জানিয়েছেন। আপনি আদালতে গিয়ে কেস নম্বর এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ জেনে নেবেন। যদি দেখেন, আপনার আগের উকিল মামলাটি ইচ্ছাকৃত বিলম্বিত করছেন, তাহলে নতুন উকিল নিয়োগ করে ওকালতনামা পরিবর্তন করুন। নতুন উকিলকে দিয়ে অর্ডার শিট দেখুন। তাতে বোঝা যাবে, মামলার অগ্রগতি কত দূর। আগের উকিল যদি অসততা করে থাকেন, তাহলে আপনি বার কাউন্সিল বা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে পারেন।
আপনার বাবার পাঠানো আসবাব ও দানসামগ্রী আপনার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। আপনার স্বামী যদি সেগুলো নিজের দখলে রেখে ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি সিভিল কোর্টে স্ত্রীধন রিকভারি মামলা করতে পারেন। এই মামলায় কোর্ট নির্দেশ দিতে পারেন, যেন ওই সব জিনিস আপনাকে ফেরত দেওয়া হয় কিংবা এর আর্থিক মূল্য আপনাকে দেওয়া হয়।
যদি আপনার বা আপনার সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকে, তবে অবিলম্বে স্থানীয় থানায় জিডি করুন। যদি মানসিক বা শারীরিক হুমকি থাকে, তাহলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী মামলা করতে পারেন।
সহায়তা পাওয়ার জন্য জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) অথবা ব্র্যাক লিগ্যাল এইডে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন।
পরামর্শ দিয়েছেন
ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

প্রশ্ন: আমি বাবার বাসায় থাকা অবস্থায় স্বামী আরেকটি বিয়ে করে। সে জানায়, আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে। কিন্তু আমি আজ এক বছরেও কোনো নোটিশ পাইনি। তার বিয়ের পরপরই এক পারিবারিক আইনজীবীর সাহায্যে তার বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করি। আইন ও মামলা বিষয়ে আমার ধারণা না থাকায় আইনজীবী যা বলেছেন, তা-ই করেছি। কোর্ট থেকে ওয়ারেন্ট বের হওয়ার পর তারা আগাম জামিন নিয়েছে, সেটা দুই মাস পর আমি জানতে পেরেছি। সে আমার দেড় বছরের সন্তানের কোনো ভরণপোষণ দেয় না, কোনো খোঁজখবরও রাখে না। আমি এই বয়সে মেয়েটাকে নিয়ে চাকরি করছি। কোথায় যাব, কী করব বুঝতে পারছি না।
আমাদের আইনজীবী কি কোনো ধরনের ছলচাতুরী করেছে? এখন আমাদের কী করা উচিত?
উত্তর: আপনি এক অন্যায় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আপনার বৈবাহিক অবস্থা এখনো বৈধ। মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯৬১, সেকশন ৭ অনুযায়ী তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য তিনটি আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে। লিখিত তালাকনামা দিতে হবে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা সিটি করপোরেশনের মেয়রকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। এরপর চেয়ারম্যান ৯০ দিনের মধ্যে সালিসি সভা আহ্বান করবেন এবং সে সময়কাল শেষে তালাক কার্যকর হবে।
আপনি যেহেতু কোনো লিখিত নোটিশ পাননি এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও কোনো সালিসি সভার নোটিশ পাননি, তাহলে এ ধরনের তথাকথিত ‘ডিভোর্স’ আইনগতভাবে অবৈধ ও অকার্যকর।
অর্থাৎ, আপনি এখনো তাঁর বৈধ স্ত্রী। তিনি অর্থাৎ আপনার স্বামী যদি আপনার অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করে থাকেন, তাহলে তিনি মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯৬১, সেকশন ৬ অনুযায়ী অপরাধ করেছেন।
সেই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
আপনি এই অভিযোগ স্থানীয় পারিবারিক কোর্ট বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে দাখিল করতে পারেন।
আপনি নিজের এবং আপনার সন্তানের জন্য পারিবারিক কোর্টে ভরণপোষণের মামলা করতে পারেন মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯৬১, সেকশন ৯ অনুসারে। এই মামলায় আপনি দাবি করতে পারবেন—সন্তানের মাসিক খরচ (খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি), নিজের রক্ষণাবেক্ষণ (যেহেতু বৈধ ডিভোর্স হয়নি) এবং অতীতের বকেয়া ভরণপোষণ।
যে কাগজপত্র প্রয়োজন হবে
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ, নিকাহনামা (কিংবা বিয়ের সাক্ষী থাকলে তাঁদের বিবৃতি), সন্তানের জন্মসনদ, আপনার স্বামীর ঠিকানা ও পেশার তথ্য, আপনার এবং সন্তানের আনুমানিক মাসিক খরচের হিসাব।
আপনি যৌতুক মামলা ইতিমধ্যে করেছেন বলে জানিয়েছেন। আপনি আদালতে গিয়ে কেস নম্বর এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ জেনে নেবেন। যদি দেখেন, আপনার আগের উকিল মামলাটি ইচ্ছাকৃত বিলম্বিত করছেন, তাহলে নতুন উকিল নিয়োগ করে ওকালতনামা পরিবর্তন করুন। নতুন উকিলকে দিয়ে অর্ডার শিট দেখুন। তাতে বোঝা যাবে, মামলার অগ্রগতি কত দূর। আগের উকিল যদি অসততা করে থাকেন, তাহলে আপনি বার কাউন্সিল বা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে পারেন।
আপনার বাবার পাঠানো আসবাব ও দানসামগ্রী আপনার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। আপনার স্বামী যদি সেগুলো নিজের দখলে রেখে ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি সিভিল কোর্টে স্ত্রীধন রিকভারি মামলা করতে পারেন। এই মামলায় কোর্ট নির্দেশ দিতে পারেন, যেন ওই সব জিনিস আপনাকে ফেরত দেওয়া হয় কিংবা এর আর্থিক মূল্য আপনাকে দেওয়া হয়।
যদি আপনার বা আপনার সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকে, তবে অবিলম্বে স্থানীয় থানায় জিডি করুন। যদি মানসিক বা শারীরিক হুমকি থাকে, তাহলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী মামলা করতে পারেন।
সহায়তা পাওয়ার জন্য জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) অথবা ব্র্যাক লিগ্যাল এইডে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন।
পরামর্শ দিয়েছেন
ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছা থাকলেও আর্থসামাজিক বাধা ও প্রেক্ষাপটের কারণে নির্বাচনে বেশিসংখ্যক নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনীতির মাঠে, বিশেষ করে নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা—বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। নারীরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেন।
৩ ঘণ্টা আগে
লৈঙ্গিক সমতা শুধু একটি সামাজিক আদর্শ নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৫ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক বৈষম্য বর্তমানে ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে পূর্ণ সমতা অর্জনে বিশ্বকে আরও ১২৩
২ দিন আগে
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. রাজিয়া বানু। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য যে ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন সেই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তিনি।
২ দিন আগে
বাংলাদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন, যেটি মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বহুবিবাহের প্রক্রিয়া। এই রায়ে হাইকোর্ট মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ‘সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি’ নিতে হবে, এমন বিধান
২ দিন আগে