আন্তর্জাতিক নারী
ফিচার ডেস্ক

সত্তর দশকের তেহরান ছিল আজকের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। সেই ভিন্ন তেহরানের এক প্রাণচঞ্চল কিশোরী ছিলেন মেরিনা। যে কিশোরী সমুদ্রসৈকতে নিজের মতো করে ঘুরে বেড়াতে, বন্ধুদের সঙ্গে গানের তালে নেচে বেড়াতে পছন্দ করতেন। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব মেরিনার রঙিন শৈশব নিমেষে ধূসর করে দেয়। ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় লেখিকা মেরিনা নেমতের জীবন একাধারে চরম যন্ত্রণা, বেঁচে থাকার লড়াই এবং সাহসিকতার গল্প বলে। ১৯৮০-এর শুরুর দিকে ইরানি বিপ্লব-পরবর্তী উত্তাল সময়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাঁকে তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে বন্দী করা হয়েছিল। তাঁর সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা স্মৃতিকথা ‘প্রিজনার অব তেহরান’ আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
মেরিনার গল্প বলতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ইরান বিপ্লবের পরের দিনগুলোতে; যখন শুরু হয়েছিল ধর্মীয় প্রোপাগান্ডা আর হিজাব আইনের কড়াকড়ি। ১৬ বছর বয়সী স্পষ্টভাষী মেরিনা এর প্রতিবাদে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। শিক্ষকদের মুখের ওপর প্রশ্ন তুলতেন মেরিনা। সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে স্কুল সংবাদপত্রেও লিখতেন তিনি।
১৯৮২ সালের ১৫ জানুয়ারি, রাত ৯টা। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থেকেও স্রেফ প্রতিবাদ করার জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে। সেখানে তাঁর পক্ষের সহপাঠীদের নাম বলে দেওয়ার জন্য তাঁর খোলা পায়ে তারের চাবুক দিয়ে পেটানো হতো। এক রাতে চোখ বেঁধে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে। যখন মৃত্যুর শীতল স্রোত তাঁর বুক দিয়ে নেমে যাচ্ছিল, ঠিক সে মুহূর্তে আলী নামের এক কারারক্ষী তাঁকে রক্ষা করেন। আলী তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু বিনিময়ে মেরিনাকে এক চরম মূল্য দিতে হলো। আলীর শর্ত ছিল, মেরিনাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাঁকে বিয়ে করতে হবে। মেরিনা জানতেন, বিয়েতে রাজি না হওয়া মানে তাঁর পরিবার আর তাঁর ভালোবাসার মানুষ আন্দ্রের নিশ্চিত মৃত্যু।
ইরান বিপ্লবের পরের দিনগুলোতে; যখন শুরু হয়েছিল ধর্মীয় প্রোপাগান্ডা আর হিজাব আইনের কড়াকড়ি। ১৬ বছর বয়সী স্পষ্টভাষী মেরিনা নেমত এর প্রতিবাদে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। শিক্ষকদের মুখের ওপর প্রশ্ন তুলতেন মেরিনা। সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তিনি স্কুল সংবাদপত্রেও লিখতেন।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেরিনা বিয়ে করেন আলীকে। সেই অদ্ভুত জীবনে দিনের বেলা তিনি থাকতেন বন্দিনী হয়ে আর রাতে আলীর স্ত্রী হিসেবে। আলী নিজেও একসময় বিপ্লবের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েন এবং কারাগারের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। প্রকাশ্য রাস্তায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন আলী। অন্তঃসত্ত্বা মেরিনা চোখের সামনে এই হত্যাকাণ্ড দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং গর্ভপাতে তাঁর সন্তানটিও নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আলীর বাবা তাঁর নেপথ্য প্রভাব খাটিয়ে ১৯৮৪ সালে মেরিনাকে এভিন কারাগার থেকে মুক্ত করেন।

কারাগার থেকে বেরিয়ে মেরিনা ফিরে যান তাঁর পরিবারের কাছে। কিন্তু তাঁর পরিবার সেই ভয়াবহ স্মৃতির কথা শুনতে পর্যন্ত রাজি ছিল না। মেরিনা বুঝতে পারলেন, জীবনকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে হলে তাঁকে আবারও ঝুঁকি নিতে হবে। এরপর তিনি আন্দ্রেকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯১ সালে ইরানি ভিসা সংগ্রহ করে সপরিবার কানাডায় পাড়ি জমান।
দীর্ঘ ২০ বছর মেরিনা কাউকে তাঁর এমন যন্ত্রণার কথা বলেননি। কিন্তু দুঃস্বপ্ন আর পিটিএসডি তাঁকে তাড়া করে বেড়াত। অবরুদ্ধ সেই স্মৃতিগুলো মুক্তি দিতে ২০০৭ সালে তিনি লিখলেন তাঁর কালজয়ী স্মৃতিকথা ‘প্রিজনার অব তেহরান’। তাঁর এই লেখাকে কানাডীয় সাহিত্যের অন্যতম সেরা লেখা হিসেবে গণ্য করা হয়। সমালোচকদের মতে, মেরিনা সেই হাজারো তরুণী ও কিশোরীর হয়ে কথা বলেছেন। যাদের কণ্ঠস্বর ইরানি সরকার ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। মেরিনা সারা বিশ্ব ঘুরে তাঁর গল্প শোনান এবং সহিংসতার চক্র বন্ধের জন্য কাজ করেন।
তথ্যসূত্র: ইউএন ওয়াচ, এল ডটকম, ক্রেস্টউড

সত্তর দশকের তেহরান ছিল আজকের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। সেই ভিন্ন তেহরানের এক প্রাণচঞ্চল কিশোরী ছিলেন মেরিনা। যে কিশোরী সমুদ্রসৈকতে নিজের মতো করে ঘুরে বেড়াতে, বন্ধুদের সঙ্গে গানের তালে নেচে বেড়াতে পছন্দ করতেন। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব মেরিনার রঙিন শৈশব নিমেষে ধূসর করে দেয়। ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় লেখিকা মেরিনা নেমতের জীবন একাধারে চরম যন্ত্রণা, বেঁচে থাকার লড়াই এবং সাহসিকতার গল্প বলে। ১৯৮০-এর শুরুর দিকে ইরানি বিপ্লব-পরবর্তী উত্তাল সময়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাঁকে তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে বন্দী করা হয়েছিল। তাঁর সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা স্মৃতিকথা ‘প্রিজনার অব তেহরান’ আজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
মেরিনার গল্প বলতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ইরান বিপ্লবের পরের দিনগুলোতে; যখন শুরু হয়েছিল ধর্মীয় প্রোপাগান্ডা আর হিজাব আইনের কড়াকড়ি। ১৬ বছর বয়সী স্পষ্টভাষী মেরিনা এর প্রতিবাদে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। শিক্ষকদের মুখের ওপর প্রশ্ন তুলতেন মেরিনা। সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে স্কুল সংবাদপত্রেও লিখতেন তিনি।
১৯৮২ সালের ১৫ জানুয়ারি, রাত ৯টা। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থেকেও স্রেফ প্রতিবাদ করার জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে। সেখানে তাঁর পক্ষের সহপাঠীদের নাম বলে দেওয়ার জন্য তাঁর খোলা পায়ে তারের চাবুক দিয়ে পেটানো হতো। এক রাতে চোখ বেঁধে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলো ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে। যখন মৃত্যুর শীতল স্রোত তাঁর বুক দিয়ে নেমে যাচ্ছিল, ঠিক সে মুহূর্তে আলী নামের এক কারারক্ষী তাঁকে রক্ষা করেন। আলী তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু বিনিময়ে মেরিনাকে এক চরম মূল্য দিতে হলো। আলীর শর্ত ছিল, মেরিনাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাঁকে বিয়ে করতে হবে। মেরিনা জানতেন, বিয়েতে রাজি না হওয়া মানে তাঁর পরিবার আর তাঁর ভালোবাসার মানুষ আন্দ্রের নিশ্চিত মৃত্যু।
ইরান বিপ্লবের পরের দিনগুলোতে; যখন শুরু হয়েছিল ধর্মীয় প্রোপাগান্ডা আর হিজাব আইনের কড়াকড়ি। ১৬ বছর বয়সী স্পষ্টভাষী মেরিনা নেমত এর প্রতিবাদে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। শিক্ষকদের মুখের ওপর প্রশ্ন তুলতেন মেরিনা। সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তিনি স্কুল সংবাদপত্রেও লিখতেন।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেরিনা বিয়ে করেন আলীকে। সেই অদ্ভুত জীবনে দিনের বেলা তিনি থাকতেন বন্দিনী হয়ে আর রাতে আলীর স্ত্রী হিসেবে। আলী নিজেও একসময় বিপ্লবের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েন এবং কারাগারের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। প্রকাশ্য রাস্তায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন আলী। অন্তঃসত্ত্বা মেরিনা চোখের সামনে এই হত্যাকাণ্ড দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং গর্ভপাতে তাঁর সন্তানটিও নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আলীর বাবা তাঁর নেপথ্য প্রভাব খাটিয়ে ১৯৮৪ সালে মেরিনাকে এভিন কারাগার থেকে মুক্ত করেন।

কারাগার থেকে বেরিয়ে মেরিনা ফিরে যান তাঁর পরিবারের কাছে। কিন্তু তাঁর পরিবার সেই ভয়াবহ স্মৃতির কথা শুনতে পর্যন্ত রাজি ছিল না। মেরিনা বুঝতে পারলেন, জীবনকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে হলে তাঁকে আবারও ঝুঁকি নিতে হবে। এরপর তিনি আন্দ্রেকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯১ সালে ইরানি ভিসা সংগ্রহ করে সপরিবার কানাডায় পাড়ি জমান।
দীর্ঘ ২০ বছর মেরিনা কাউকে তাঁর এমন যন্ত্রণার কথা বলেননি। কিন্তু দুঃস্বপ্ন আর পিটিএসডি তাঁকে তাড়া করে বেড়াত। অবরুদ্ধ সেই স্মৃতিগুলো মুক্তি দিতে ২০০৭ সালে তিনি লিখলেন তাঁর কালজয়ী স্মৃতিকথা ‘প্রিজনার অব তেহরান’। তাঁর এই লেখাকে কানাডীয় সাহিত্যের অন্যতম সেরা লেখা হিসেবে গণ্য করা হয়। সমালোচকদের মতে, মেরিনা সেই হাজারো তরুণী ও কিশোরীর হয়ে কথা বলেছেন। যাদের কণ্ঠস্বর ইরানি সরকার ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। মেরিনা সারা বিশ্ব ঘুরে তাঁর গল্প শোনান এবং সহিংসতার চক্র বন্ধের জন্য কাজ করেন।
তথ্যসূত্র: ইউএন ওয়াচ, এল ডটকম, ক্রেস্টউড

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. রাজিয়া বানু। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য যে ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন সেই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তিনি।
২১ মিনিট আগে
বাংলাদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন, যেটি মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বহুবিবাহের প্রক্রিয়া। এই রায়ে হাইকোর্ট মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ‘সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি’ নিতে হবে, এমন বিধান
২৬ মিনিট আগে
দীর্ঘ ১৪ বছরের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের পর লাইবেরিয়া তখন ধ্বংসস্তূপ। সে সময় দেশটির পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখেন অ্যালেন জনসন সিরলিফ। ২০০৬ সালে তিনি আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে একটি
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারী ও পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যার অনুপাতে ‘বিশাল ভারসাম্যহীন চিত্র’ ফুটে উঠেছে বলে জানিয়েছে নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়নবিষয়ক ৭১টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ‘আশানুরূপ না হওয়ায়’ ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।
৯ ঘণ্টা আগে