ফিচার ডেস্ক, ঢাকা

ইন্দিরা গান্ধী, গোল্ডা মেয়ার, ইয়াসির আরাফাত, জুলফিকার আলী ভুট্টো, উইলি ব্রান্ট, ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি, হেনরি কিসিঞ্জার, গুয়েন ভ্যান থিউ, ভো নগুয়েন গিয়াপের মতো নেতা ও জেনারেলদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন ওরিয়ানা ফালাচি। শুধু সে কারণেই বিখ্যাত নন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতিরোধ আন্দোলনের কর্মী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। আর ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাংবাদিক। তিনি যুদ্ধ দেখেছেন, সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছেন, কিন্তু কখনোই নিজেকে ভাঙতে দেননি। তিনি নিজেকে খুঁজে পেয়েছিলেন যুদ্ধে ও কলমে!
লেখক থেকে রিপোর্টার
১৯২৯ সালের ২৯ জুন, ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে জন্ম ওরিয়ানার। খুব অল্প বয়সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখেছেন কাছ থেকে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন প্রতিরোধযোদ্ধা। ওরিয়ানাও কিশোর বয়সে নাৎসিবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসিক গঠনে এবং পরে সাংবাদিকতা বেছে নেওয়ার পেছনে গভীর প্রভাব ফেলে। কিন্তু প্রথমেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়াননি; বরং প্রথম দিকে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন ওরিয়ানা। তিনি তাঁর কলমকে ব্যবহার করেছেন অস্ত্র হিসেবে। এ ছাড়া সাংবাদিকতার কাজ করেছেন দায়িত্ব নিয়ে। তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘একজন সাংবাদিক শুধু ঘটনা জানানোর জন্য নয়, বরং সত্য খুঁজে বের করে তা নির্ভীকভাবে প্রকাশ করার জন্য দায়বদ্ধ।’
যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতা
ওরিয়ানা ফালাচি পরিচিত যুদ্ধ সাংবাদিক হিসেবে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের নানান সংঘাত, মেক্সিকান শিক্ষার্থীদের বিদ্রোহ থেকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ—সবখানেই ছিলেন তিনি। সে সময় যুদ্ধক্ষেত্রে রিপোর্ট করতে যাওয়া নারী সাংবাদিক প্রায় ছিল না বললেই চলে। ওরিয়ানা সেই ‘প্রায় নিষিদ্ধ জায়গায়’ প্রবেশ করেছিলেন দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ও সাহস নিয়ে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধ
১৯৬৭ থেকে ১৯৭৫ সাল; সময়টা ভিয়েতনাম যুদ্ধের। ওরিয়ানা বেশ কয়েকবার ভিয়েতনামে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি ঝুঁকি নিয়ে এমন সব রিপোর্ট পাঠিয়েছেন; যা পাঠকদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল। যুদ্ধের অবর্ণনীয় নিষ্ঠুরতা, সেনাদের মনস্তত্ত্ব, সাধারণ মানুষের দুর্দশা—সব তিনি নিখুঁতভাবে তুলে ধরেন। তাঁর বই ‘নাথিং অ্যান্ড সো বি ইট’ সেই সময়কার অভিজ্ঞতা ও রিপোর্ট সংকলনের একটি দলিল।
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ
ওরিয়ানা ফালাচি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় কলকাতায় আসেন। সেখানের শরণার্থীশিবির, হাসপাতাল ও বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্র ঘুরে দেখেন। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের প্রমাণ সংগ্রহ করেন। সেই সময় তাঁর একাধিক রিপোর্ট পশ্চিমা বিশ্বে বড় আলোড়ন তোলে। তিনি স্পষ্ট করে এই যুদ্ধকে ‘ম্যাসাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন।
ওরিয়ানার প্রশ্নবাণে বিশ্বনেতা
যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি ওরিয়ানা বিখ্যাত ছিলেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ প্রশ্নে সাক্ষাৎকার নেওয়ার ক্ষমতার জন্য। তিনি যেসব বিশ্বনেতার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার, ইন্দিরা গান্ধী, ইয়াসির আরাফাত, আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, গোল্ডা মেয়ারের মতো মানুষ। এসব সাক্ষাৎকারে তিনি বিন্দুমাত্র রাখঢাক করতেন না। কঠিন প্রশ্ন করে তিনি একপ্রকার তোপের মুখেই রাখতেন রাষ্ট্রনায়কদেরও। তিনি একবার খোমেনির সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে চাদর খুলে ফেলে বলেন, ‘আমি এমন কোনো পুরুষের সঙ্গে কথা বলতে অভ্যস্ত নই, যে আমাকে নিজেকে ঢেকে রাখতে বাধ্য করে।’
লেখক ও দার্শনিক
ওরিয়ানার লেখায় শুধু সংবাদ থাকে না, থাকে দার্শনিক উপলব্ধি। তাঁর বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘লেটার টু আ চাইল্ড নেভার বর্ন’। এটি মাতৃত্ব ও নারীত্ব নিয়ে লেখা আত্মজিজ্ঞাসামূলক উপন্যাস। লেবাননে যুদ্ধ ও ধর্মীয় মৌলবাদের প্রেক্ষাপটে তাঁর লেখা একটি মানবিক উপন্যাস ‘ইনশা আল্লাহ’। ৯-১১ পরবর্তী সময়ের ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতা নিয়ে প্রকাশিত বই ‘দ্য রেজ অ্যান্ড দ্য প্রাইড’।
২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ওরিয়ানা ফালাচি। মৃত্যুর আগেও তিনি কলম থামাননি। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মৃত্যুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, ঠিক যেমন আমি অন্যায় ও মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়েছি।’

ইন্দিরা গান্ধী, গোল্ডা মেয়ার, ইয়াসির আরাফাত, জুলফিকার আলী ভুট্টো, উইলি ব্রান্ট, ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি, হেনরি কিসিঞ্জার, গুয়েন ভ্যান থিউ, ভো নগুয়েন গিয়াপের মতো নেতা ও জেনারেলদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন ওরিয়ানা ফালাচি। শুধু সে কারণেই বিখ্যাত নন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতিরোধ আন্দোলনের কর্মী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। আর ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাংবাদিক। তিনি যুদ্ধ দেখেছেন, সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছেন, কিন্তু কখনোই নিজেকে ভাঙতে দেননি। তিনি নিজেকে খুঁজে পেয়েছিলেন যুদ্ধে ও কলমে!
লেখক থেকে রিপোর্টার
১৯২৯ সালের ২৯ জুন, ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে জন্ম ওরিয়ানার। খুব অল্প বয়সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখেছেন কাছ থেকে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন প্রতিরোধযোদ্ধা। ওরিয়ানাও কিশোর বয়সে নাৎসিবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসিক গঠনে এবং পরে সাংবাদিকতা বেছে নেওয়ার পেছনে গভীর প্রভাব ফেলে। কিন্তু প্রথমেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়াননি; বরং প্রথম দিকে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন ওরিয়ানা। তিনি তাঁর কলমকে ব্যবহার করেছেন অস্ত্র হিসেবে। এ ছাড়া সাংবাদিকতার কাজ করেছেন দায়িত্ব নিয়ে। তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘একজন সাংবাদিক শুধু ঘটনা জানানোর জন্য নয়, বরং সত্য খুঁজে বের করে তা নির্ভীকভাবে প্রকাশ করার জন্য দায়বদ্ধ।’
যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতা
ওরিয়ানা ফালাচি পরিচিত যুদ্ধ সাংবাদিক হিসেবে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের নানান সংঘাত, মেক্সিকান শিক্ষার্থীদের বিদ্রোহ থেকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ—সবখানেই ছিলেন তিনি। সে সময় যুদ্ধক্ষেত্রে রিপোর্ট করতে যাওয়া নারী সাংবাদিক প্রায় ছিল না বললেই চলে। ওরিয়ানা সেই ‘প্রায় নিষিদ্ধ জায়গায়’ প্রবেশ করেছিলেন দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ও সাহস নিয়ে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধ
১৯৬৭ থেকে ১৯৭৫ সাল; সময়টা ভিয়েতনাম যুদ্ধের। ওরিয়ানা বেশ কয়েকবার ভিয়েতনামে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি ঝুঁকি নিয়ে এমন সব রিপোর্ট পাঠিয়েছেন; যা পাঠকদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল। যুদ্ধের অবর্ণনীয় নিষ্ঠুরতা, সেনাদের মনস্তত্ত্ব, সাধারণ মানুষের দুর্দশা—সব তিনি নিখুঁতভাবে তুলে ধরেন। তাঁর বই ‘নাথিং অ্যান্ড সো বি ইট’ সেই সময়কার অভিজ্ঞতা ও রিপোর্ট সংকলনের একটি দলিল।
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ
ওরিয়ানা ফালাচি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় কলকাতায় আসেন। সেখানের শরণার্থীশিবির, হাসপাতাল ও বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্র ঘুরে দেখেন। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের প্রমাণ সংগ্রহ করেন। সেই সময় তাঁর একাধিক রিপোর্ট পশ্চিমা বিশ্বে বড় আলোড়ন তোলে। তিনি স্পষ্ট করে এই যুদ্ধকে ‘ম্যাসাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন।
ওরিয়ানার প্রশ্নবাণে বিশ্বনেতা
যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি ওরিয়ানা বিখ্যাত ছিলেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ প্রশ্নে সাক্ষাৎকার নেওয়ার ক্ষমতার জন্য। তিনি যেসব বিশ্বনেতার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার, ইন্দিরা গান্ধী, ইয়াসির আরাফাত, আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, গোল্ডা মেয়ারের মতো মানুষ। এসব সাক্ষাৎকারে তিনি বিন্দুমাত্র রাখঢাক করতেন না। কঠিন প্রশ্ন করে তিনি একপ্রকার তোপের মুখেই রাখতেন রাষ্ট্রনায়কদেরও। তিনি একবার খোমেনির সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে চাদর খুলে ফেলে বলেন, ‘আমি এমন কোনো পুরুষের সঙ্গে কথা বলতে অভ্যস্ত নই, যে আমাকে নিজেকে ঢেকে রাখতে বাধ্য করে।’
লেখক ও দার্শনিক
ওরিয়ানার লেখায় শুধু সংবাদ থাকে না, থাকে দার্শনিক উপলব্ধি। তাঁর বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘লেটার টু আ চাইল্ড নেভার বর্ন’। এটি মাতৃত্ব ও নারীত্ব নিয়ে লেখা আত্মজিজ্ঞাসামূলক উপন্যাস। লেবাননে যুদ্ধ ও ধর্মীয় মৌলবাদের প্রেক্ষাপটে তাঁর লেখা একটি মানবিক উপন্যাস ‘ইনশা আল্লাহ’। ৯-১১ পরবর্তী সময়ের ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতা নিয়ে প্রকাশিত বই ‘দ্য রেজ অ্যান্ড দ্য প্রাইড’।
২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ওরিয়ানা ফালাচি। মৃত্যুর আগেও তিনি কলম থামাননি। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মৃত্যুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, ঠিক যেমন আমি অন্যায় ও মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়েছি।’

আগামীকাল নতুন একটি বছর শুরু করতে যাচ্ছে পৃথিবী। ২০২৫ সালকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরে সবারই প্রত্যাশা থাকছে ইতিবাচক কিছুর। তবে পেছনে ফিরে তাকালে গত বছরটি নারী অধিকার এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে রেখে গেছে এক মিশ্র অভিজ্ঞতা। ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দেখা গেছে পরিকল্পনা...
১ দিন আগে
বই মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে— এই সত্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে নূজহাত নাছিম দিয়ার জীবনে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের একটি শান্ত, বইপ্রেমী পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন দিয়া। পরিবারে মা-বাবা ও দুই ভাই সব সময় তাঁকে পড়াশোনা এবং সাহিত্যচর্চায় উৎসাহ দিয়ে এসেছেন।
১ দিন আগে
ভোরের আলো ফোটার অপেক্ষায় থাকা নতুন বছরের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা। যুগে যুগে বছরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাল্টেছে ট্রেন্ড। কিন্তু আজও যখন আমরা আধুনিক প্রসাধনশিল্পের দিকে তাকাই, তখন একটি নাম ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে—এলিজাবেথ আরডেন। ১৮৭৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর কানাডার ওন্টারিওতে এক খামারে ফ্লোরেন্স...
১ দিন আগে
খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব বড়দিনের কথা মনে হলে কিছু জনপ্রিয় গানের কথা সামনে আসে। জানেন কি, হিমেল হাওয়ার পরশ আর আলোকসজ্জার রোশনাইয়ের মধ্যে যে সুরগুলো আমাদের কানে বাজে, সেগুলো সৃষ্টির নেপথ্যে রয়েছে একদল নারী। তাঁদের লেখা, কণ্ঠ আর সুরের জাদুকরী মিশেলে বড়দিন পেয়েছে এক অনন্য রূপ।...
৭ দিন আগে