ভাবছি ও ব্যাটা মাথার ওপর না থাকলে আমার জীবনটাই এত দিনে ‘ভাতসেদ্ধ’ কিংবা ‘ভ্যাতভ্যাতে’ হয়ে যেত। তিনি না থাকলে আমার ঘুম হয় না। মাথা ঝিমঝিম করে। কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হয়। শূন্য শূন্য লাগে সব। বুকের ভেতর হু হু করে বাতাস বয়ে যায়। সাফোকেটেড লাগে, চোখে ঝাপসা দেখি, গলা শুকিয়ে যায়। শীতে অবশ্য এসব একটু কমই হয়। তবু তার মাথার ওপর থাকা চাই। অবাক করা হলেও মাঘ মাসের শীতেও তিনি হালকা ঘ্যানর ঘ্যানর করে না ঘুরলে আমার ঘুম হয় না। তারও ভীষণ কষ্ট। তবু কখনো অভিযোগ করেন না। দিব্যি ঘুরে চলেছেন। ঠিক আমার প্রয়োজন মতো কখনো আস্তে, সামান্য রয়েসয়ে; কখনো আবার বেশ জোরে।
তার ঘোরার ভঙ্গিমাটাও বেশ রাজসিক। রুমে ঢুকে সুইচ অন করতেই প্রথমে খট করে একটা শব্দ করে জানান দেবেন যে তিনি এখন চালু হবেন। আস্তে ধীরে পাক খেতে থাকেন। এরপর তাল-লয় ঠিক রেখে মোহনীয় ভঙ্গিমায় ঘুরতে থাকেন। শঙ্কা হয়, কবে যে রেগেমেগে বলে ওঠেন, ‘আমি আর পারছি না বাপু। সিলিং ফ্যান দেখে আমি কী যন্ত্র না, নাকি? আমারও তো বয়স হচ্ছে দিনকে দিন।’
তিনি বলেন হয়তো, আমি বুঝতে পারি না। সেটা অবশ্যি আমারই ব্যর্থতা। মাঝেমধ্যে মনে হয়, আহা! এই যে সিলিং ফ্যান মাথার ওপর ঘুরে চলেছে। তিনি হয়তো প্রায়ই তার কষ্টের কথা আমাকে বলেন। আমি তার ভাষা বুঝতে পারি না কেন?
এখন এই যে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে ২৭ নম্বর বাসে উঠে উত্তরা রওনা হলাম বাঁদর ঝোলা ঝুলতে ঝুলতে। তার কথা খুব বেশি মনে পড়ছে। মনে না পড়ারও তো কোনো কারণ নেই। মানুষ নামের এই প্রাণীগুলো যে এত গুতাগুতি আর চিল্লাচিল্লি করতে পারে! উফফ...বড় ক্লান্ত লাগছে। এই জীবনে এর চেয়ে বেশি গরম মনে হয় আর কখনো পড়েনি! শরমের কথা, এক্সট্যাসির ৩২ সাইজের ভারী জিনসের ভেতরে থাকা সিকে ব্র্যান্ডের পাতলা প্যান্টটিও ঘামে ভিজে জবজবে হয়ে গেছে। একটু এদিক সেদিক নড়চড় করলেই ভেজাটা টের পাচ্ছি। কেমন যেন ঘিনঘিন করছে। গা গুলিয়ে আসছে। আর না নড়ে উপায় আছে কোনো? এই কন্ডাক্টর ব্যাটা একবার এই মাথা যাচ্ছে তো আবার সেই মাথা। প্রতিবারই সে এসে বলবে, ‘মামা কই যাইবেন? ভাড়া হইসে?’ মুখে একটা চোর চোর ভাব নিয়ে বলবে, ‘একটু পেছনে যান!’ ‘কী আশ্চর্য! আর কত পেছনে যাব? ব্যাটা আহাম্মক; তুই যা। পেছনে গিয়া দিগম্বর হয়া শুইয়া থাক। যা খুশি তা কর। পেছনে গিয়া নৃত্য কর। সানি লিওনের ছবি দ্যাখ। ফুর্তি কর...’ মনে মনে এসব বলি ঠিকই কিন্তু মুখে আনতে পারি না। বলে কিছু হবে না, তাই হয়তো।
এরচে বরং সিলিং ফ্যান নিয়ে ভাবি, ‘সিলিং ফ্যানটা জানি কী করছে? আচ্ছা এখন বাসায় গিয়ে যদি দেখি তিনি রাগ করে আছেন, কিংবা অভিমানে গাল ফুলিয়ে হাপুস কাঁদছেন? অথবা যদি কবি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা আওড়াতে আওড়াতে নিজেই বিদ্রোহ করে বসেন? কিংবা বিরোধী দলের মতো ধুম করে হরতাল বলে ঘোরা বন্ধ করে দেন? তখন কী হবে আমার?’ নাহ এমনটা তিনি করতে পারেন না। কখনো করেননি। আজও করবেন না। কেন করবেন? নিয়মিত তার সব চাহিদা পূরণ করছি। যখন যেটার দাবি কিংবা আবদার করেছেন, পূরণ করেছি। কী সুন্দর টাইলস লাগানো ঝকঝকে চকচকে বাড়িতে নিয়ে ঝুলিয়েছি। তার সামনেই বারান্দা, বিস্তর খোলা মাঠ। বাতাস টেনে আনতে খুব একটা খাটাখাটনি করতে হয় না। তাহলে এমন হাঙ্গামা করবেন কেন শুনি! বললেই হলো? হ্যাঁ, শরীর-টরির খারাপ করলে সেটা ভিন্ন কথা। তবে সেটারও সম্ভাবনা খুব কম। আসার সময় তো ঠিকই দেখে এসেছিলাম। তিনি তো আর মনিস্যি না। যে মাথা ব্যথা, জ্বর, সর্দি-কাশি এসব আজাইরা অসুখ হবে। তিনি যন্ত্র, মেশিন...
ঠিক আমার মতো। ঘুরছে তো ঘুরছেই।

ভারতের হায়দরাবাদে ছয় বছর বয়সী মেয়েকে হুসেইন সাগর লেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। শিশুটির অসুস্থতা ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ওই নারী এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে।
১০ ঘণ্টা আগে
কিছু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এমন থাকে, যা একবার শুনলে আর কখনোই ভোলা যায় না। এটিও ঠিক তেমনই একটি। পিয়ার রিভিউড একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নারীদের ত্যাগ করা বায়ু বা পাদের গন্ধ পুরুষদের তুলনায় বেশি দুর্গন্ধযুক্ত হয়। আওয়াজ বেশি বা বারবার হওয়ার কথা বলা হচ্ছে না, শুধু গন্ধটা...তুলনামূলক বেশি তীব্র। শুনলে একটু
১৮ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের মেইঝৌ শহরের শহরতলির বাসিন্দা ঝোং জুয়ানজুয়ান। ৬০ বছর বয়সী এই নারী এখন ই-স্পোর্টস ও অনলাইন গেমিং জগতে ব্যাপক জনপ্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আন্টি জুয়ান’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।
৭ দিন আগে
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় কয়েক হাজার মানুষের ভোটে শহরের সবচেয়ে মোটা কুকুর নির্বাচন করা হয়। এতে মোট ৩৯ হাজার ৯০৪টি ভোট পেয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে হাউস খাসের দক্ষিণ দিল্লি এলাকার জনপ্রিয় কমিউনিটি ডগ বা পথকুকুর ‘গোলা’...
৭ দিন আগে