Ajker Patrika

ঘুমিয়ে মিলল ১২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ফ্রিতে ছুটি কাটানোর সুযোগ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৭: ২৪
ঘুমিয়ে মিলল ১২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ফ্রিতে ছুটি কাটানোর সুযোগ
‘স্লিপ চ্যাম্পিয়ন’ জিনিয়া চ্যাটার্জি। ছবি: এনডিটিভি

ঘুমের প্রতিযোগিতায় জিতে ৯ লাখ ৬০ হাজার রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা) এবং বিনা খরচে ছুটি কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন ভারতের মুম্বাইয়ের এক নারী। দুই মাস ধরে চলে এ প্রতিযোগিতা।

‘স্লিপ ইন্টার্নশিপ’ নামের এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে জিনিয়া চ্যাটার্জি নামে ওই নারী ভারতের ‘স্লিপ চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব পেয়েছেন। প্রতিযোগিতাটিতে সারা দেশ থেকে দুই লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল।

বাড়ি ও আসবাবপত্রবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়েকফিট এ ব্যতিক্রমী ইন্টার্নশিপের আয়োজন করে। এতে অংশগ্রহণকারীদের ঘুমকে অগ্রাধিকার দিতে, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যেতে এবং নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি মেনে চলতে হতো। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে সৃজনশীল কিছু চ্যালেঞ্জেও অংশ নিতে হয়েছে তাঁদের।

দুই লাখের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে কয়েক দফা বাছাই ও ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে মাত্র ১০ জনকে নির্বাচন করা হয়। প্রায় ৬০ দিন ধরে তাঁরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এ সময় প্রত্যেকের ঘুমের মান ও সময়ের হিসাব রাখা হতো। প্রতিদিনের স্কোরের ভিত্তিতে তৈরি করা হতো প্রতিযোগীদের অবস্থানসংবলিত তালিকা।

তবে প্রতিযোগিতাটি শুধু পর্যাপ্ত ঘুমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন ব্যতিক্রমী কাজের মধ্য দিয়ে নিজেদের সৃজনশীলতারও প্রমাণ দিতে হয়েছে।

প্রতি সপ্তাহে দেওয়া কাজগুলোর মধ্যে ছিল ‘স্লিপ সিনেমা’। এ চ্যালেঞ্জে প্রতিযোগীদের বিখ্যাত সিনেমার দৃশ্য ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন আঙ্গিকে পুনর্নির্মাণ করতে হতো। আরেকটি চ্যালেঞ্জ ছিল ‘স্লিপ বিঙ্গো’। এতে এক সপ্তাহের ঘুমের অভ্যাস মূল্যায়ন করতে হতো অংশগ্রহণকারীদের।

সবচেয়ে ব্যতিক্রমী কাজগুলোর একটি ছিল ‘আন্ডারকভার স্লিপ মিশন’। এ চ্যালেঞ্জে কথোপকথনের সময় অন্যদের বুঝতে না দিয়ে ‘ব্ল্যাঙ্কেট’ অথবা ‘পিলো’—এই দুটি শব্দের যেকোনো একটি ১০ বার ব্যবহার করতে হতো প্রতিযোগীদের।

প্রতি সপ্তাহে সেরা পারফরমারকে দেওয়া হতো ‘প্রো স্লিপার অব দ্য উইক’ খেতাব।

দুই মাস পর প্রতিযোগিতার শীর্ষ তিনে জায়গা করে নেন জিনিয়া চ্যাটার্জি, রত্নগিরি মানিকান্দন ও মেহেক খোট। তবে প্রতি সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি সৃজনশীল চ্যালেঞ্জ জিতে ওয়াইল্ডকার্ড পেয়ে আবার প্রতিযোগিতায় ফিরে আসেন হায়দরাবাদের করিম খান। ফলে চূড়ান্ত পর্বে প্রতিযোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় চারজনে।

‘বিগ বেড’ নামের চূড়ান্ত পর্বে ছিল দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমটির নাম ‘মেমোরি ফোম চ্যালেঞ্জ’। এতে রেফারেন্স ছবি দেখে একটি শোবার ঘরের সাজসজ্জা হুবহু তৈরি করতে হতো প্রতিযোগীদের। এর মাধ্যমে তাঁদের পর্যবেক্ষণক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি ও দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা যাচাই করা হয়।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটির নাম ছিল ‘স্লিপ অকশন’। এতে প্রতিযোগীদের ঘুমানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ ও পরিবেশ নিলামে দর হাঁকে সংগ্রহ করতে হয়েছে। এসবের মধ্যে ছিল বালিশ, কম্বল, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, আলো ও শব্দের সেটিংস।

এরপর চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগীরা নিজেদের পছন্দমতো সাজানো ঘুমানোর পরিবেশে শেষ রাতটি কাটান। তাঁদের ঘুমের স্কোরের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। এতে সবার চেয়ে এগিয়ে থেকে বিজয়ী হন জিনিয়া চ্যাটার্জি।

২০১৯ সালে চালু হয় এই স্লিপ ইন্টার্নশিপ। এই প্রতিযোগিতার প্রথম চারটি আসরে ১০ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়ে। এসব আসরে ৬৫ জন ইন্টার্ন প্রত্যেকে এক লাখ রুপি করে ভাতা পেয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত