স্পাইডারম্যানের প্রতি শিশুদের আগ্রহের শেষ নেই। স্পাইডারম্যান হওয়ার স্বপ্নও দেখে তাদের অনেকে। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার আট বছরের এক বালক। প্রিয় সুপারম্যান হওয়ার জন্য ব্ল্যাক উইডো নামের বিপজ্জনক এক মাকড়সার কামড় খায় সে স্বেচ্ছায়। আর এতে শিশুটির ঠাঁই হয় হাসপাতালে।
মধ্য বলিভিয়ার অরুরা শহরের ধারের জনপদ ভিচুলমায় ঘটে ঘটনাটি। যত দূর জানা যায়, আট বছরের ওই ছেলে, যার নাম প্রকাশ করা হয়নি, বাড়ির পাশের একটি নদীর ধারে খেলছিল। এ সময়ই বড় একটি পাথরে ব্ল্যাক উইডো মাকড়সাটিকে দেখতে পায় সে। এটা যে বিষধর এক মাকড়সা আর তাকে কামড়ালে কী সমস্যা হতে পারে, তা মোটেই চিন্তায় ছিল না শিশুটির। এটাকে হাতে নেয় সে এই আশায়, ওটা তাকে কামড়াবে। মাকড়সাটি তার আশা পূরণ করে।
বাড়িতে ফিরতেই শরীরে ব্যথা অনুভব করতে শুরু করে বালকটি। সেই সঙ্গে মাংসপেশিতে খিঁচুনি ওঠে তার। শুরুতে বাচ্চাটা তার মাকে এ বিষয়ে কিছু বলেনি। তবে একপর্যায়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে মাকে জানায়, রঙিন একটা মাকড়সা তাকে কামড় দিয়েছে।
দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মা শিশুটিকে দ্রুত পার্শ্ববর্তী একটি শহরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে অরুরা শহরের জেনারেল সান জুয়ান ডি ডিওস হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মাকড়সার কামড়ের কথা শোনার পর শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা অরুরার ডিপার্টমেন্টাল হেলথ সার্ভিসের জুনোটিক ডিজিজেস (জুনোটিক রোগগুলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও ছত্রাকের মতো ক্ষতিকারক জীবাণু দ্বারা সৃষ্টি) প্রোগ্রামের প্রধান আর্নেস্টো ভাসকুয়েজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ছেলেটিকে কী ধরনের মাকড়সা কামড় দিয়েছে, তা নিশ্চিতে সাহায্য করেন।
‘শিশুটি ঝুঁকির কথা চিন্তা না করে মাকড়সাটিকে তুলে হাতের তালুর উল্টো পাশে বসায়। যেখানে প্রাণীটা কামড় বসায়।’ স্প্যানিশ নিউজ এজেন্সি ইএফইকে ভাসকুয়েজ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ, শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাকে জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নগুলো থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়, মাকড়সাটিকে সে হাতে তুলে নেয় একটি উদ্দেশ্যেই—স্পাইডারম্যান হওয়ার জন্য।’
শিশুটা যে স্পাইডারম্যানের বড় এক ভক্ত, সেটা নিশ্চিত করেছে শিশুটির মা। তবে সে যে ‘মার্ভেলে’র সুপারহিরোর মতো কিছু একটা করে বসবে তা কল্পনাও করেননি তিনি।
কমিক সুপারহিরো স্পাইডারম্যানের মূল কাহিনিতে বলা হয়, হাইস্কুল পড়ুয়া কিশোর পিটার পার্কার তার অসাধারণ ক্ষমতা অর্জন করে তেজস্ক্রিয় এক মাকড়সার কামড় খাওয়ার পর।
সৌভাগ্যক্রমে মাকড়সার কোন প্রজাতিটি শিশুটিকে কামড়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা সঠিক অ্যান্টিভেনম দিলে আধ ঘণ্টার মধ্যে তার অবস্থা মোটামুটি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
‘এই কালো মাকড়সাটা, যার পেছনটা লাল, ব্ল্যাক উইডো মাকড়সা। এরা কাউকে সুপারম্যানে পরিণত করতে পারে না, উল্টো কামড় দিলে জীবনই ঝুঁকিতে পড়ে যায়।’ বলেন ভাসকুয়েজ।
ব্ল্যাক উইডো মাকড়সাদের কামড়ের শিকার বেশির ভাগ মানুষ সাধারণত গুরুতর জটিলতায় ভোগেন না। তবে বিরল ক্ষেত্রে, কিছু উইডো প্রজাতির কামড়ের ফলে শরীরের স্নায়ুগুলোর কার্যকারিতায় মারাত্মক ব্যাঘাতের কারণে মৃত্যুও ঘটতে পারে। শিশু, বয়স্ক এবং অন্য শারীরিক জটিলতায় ভোগা মানুষ ব্ল্যাক উইডোর কামড়ের শিকার হলে বেশি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা আছে।
মজার বিষয় হলো, ২০২০ সালে অনেকটা এ রকম আরেকটি ঘটনা ঘটে, বলিভিয়াতেই। চায়ানটা শহরের তিনটি ছেলে স্পাইডারম্যানে পরিণত হওয়ার জন্য একটি ব্ল্যাক উইডো মাকড়সাকে তাদের কামড় দিতে উৎসাহী করে তুলে। তবে ওই শিশুগুলোও দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ায় সুস্থ হয়ে ওঠে।
সূত্র: অডিটি সেন্ট্রাল, নিউজউইক

সিসিটিভি ক্যামেরার চোখ ফাঁকি দিয়ে রাস্তার ধারে ময়লা ফেলতে পোষা কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মালিকের বিরুদ্ধে। ইতালির সিসিলি দ্বীপের কাতানিয়া শহরের সান জর্জিও জেলায় এই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে চলছে তোলপাড়, আলোচনায় মজেছে নেটিজেনরা।
৩ দিন আগে
একসময় সাম্রাজ্যের লোকজন গর্ব করে বলত, তাদের সাম্রাজ্যে সূর্য কখনো অস্ত যায় না। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের ছোট শহর শেহোরের এক ভুলে যাওয়া কাগজ যেন অন্য গল্প বলে। সেখানে ইঙ্গিত আছে, সেই শক্তিশালী সাম্রাজ্যকেও একসময় ভোরের আলো দেখতে এক স্থানীয় ধনী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছিল।
৪ দিন আগে
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃত ইলন মাস্ক প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের মালিক। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি সবার আগেই ট্রিলিয়ন ডলারের (১০০০ বিলিয়ন) মালিক হবেন। কিন্তু তাঁর আগেই কি না ৬৩ ‘কোয়াড্রিলিয়ন’ পাউন্ডের (৮০ কোয়াড্রিলিয়ন ডলারের বেশি) মালিক হয়ে গেলেন অখ্যাত এক নারী!
৮ দিন আগে
উত্তর মেসিডোনিয়ার প্রেপা হ্রদের মাঝখানে অবস্থিত এক নির্জন দ্বীপ গোলেম গ্রাদ। একসময় এই দ্বীপ কচ্ছপদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে সেখানে চলছে এক অদ্ভুত ও করুণ সংকট। গবেষকেরা জানিয়েছেন, দ্বীপের পুরুষ কচ্ছপদের মাত্রাতিরিক্ত যৌন আগ্রাসনের কারণে সেখানকার স্ত্রী কচ্ছপেরা বিলুপ্তির পথে।
৯ দিন আগে