
প্রাতিষ্ঠানিক সনদের দিন ফুরিয়ে আসছে কি না, সে বিষয়ে অনেক বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু যেটি বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠেছে, তা হলো টিকে থাকতে হলে দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। অন্তত এই এআইয়ের যুগে সে রকম কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাজারে এসে সবার চাকরি কেড়ে নেবে—এমন একটি আশঙ্কা ও সংকটের মেঘ মাঝেমধ্যেই অনেকের মনে উঁকি দেয়। তবে গবেষকেরা বলছেন ভিন্নকথা। তাঁদের মতে, এআই শুধু চাকরি কাড়ছে না, বরং কর্মসংস্থানের নতুন নতুন পথ আর সম্ভাবনাও তৈরি করে দিচ্ছে। ধরুন, আপনি একটি অ্যাপ তৈরি করতে চান। এটি কেমন হবে, কীভাবে কাজ করবে, মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে, কতটুকু সাহায্য করবে মানুষকে কিংবা সেখান থেকে আয় কেমন আসবে—এসব কৌশল কীভাবে নির্ধারণ করবেন? সফটওয়্যার প্রোডাক্ট-সম্পর্কিত এই জটিল কাজগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করছেন আলী হাসনাইন মওলা চৌধুরী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার শিকার হন অনেকে। তেমনই একজন মো. ফাহিম আবু আশরাফ। একসময় নিজের পড়াশোনার খরচ নিজে চালানোর স্বপ্ন দেখতেন ফাহিম। কিন্তু একদিন অনলাইনে প্রতারণার শিকার হয়ে বাবার দেওয়া সেমিস্টার ফি এবং এক ভাইয়ের কাছ থেকে ধার করা সব টাকা হারিয়ে ফেলেন। সেই কঠিন পরিস্থিতি ফাহিমকে ভেঙে পড়তে দেয়নি; বরং তাঁর ভেতরে জেদ চেপে বসে, যেকোনো মূল্যে ধারের টাকা শোধ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতেই হবে। এরপর তিনি মনোযোগ দেন নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে তিনি নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তি থেকে কাজ শিখতে শুরু করেন। একটি ডিরেক্টরি ওয়েবসাইট ডিজাইন করে চলতি বছরের মার্চে প্রথম কাজ পান এবং বর্তমানে তিনি একজন সফল ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইনার এবং ওয়েব ডেভেলপার। ফাহিম বলেন, ‘প্রথম কাজটা পাওয়ার পর আমার ভেতরে একধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। মনে হতে থাকে, যেহেতু শুরুটা করতে পেরেছি, সামনেও নিশ্চয় কাজ পাব।’ বর্তমানে নিজের ফ্রিল্যান্সিং কাজের পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানেও নিয়মিত চাকরি করছেন তিনি।
মারিয়া নাওয়ার কাজ করেন ডেটা অ্যানালিস্ট এবং বিজনেস ইন্টেলিজেন্স প্রফেশনাল হিসেবে। এআইইউবি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা শেষ করে কাজের বাজারে নেমে তিনি বুঝতে পারেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নয়, টিকে থাকতে হলে নিজের দক্ষতার ঝুলি বাড়াতেই হবে। সিভি লেখা থেকে শুরু করে একটি চাকরিতে সফল হওয়া পর্যন্ত যাত্রাটা সহজ নয়। মারিয়া বলেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে যোগাযোগের ঘাটতি অথবা কমিউনিকেশন গ্যাপ বড় বাধা হিসেবে দেখা দেয়। সেই গ্যাপগুলো পূরণ করতে পারলে যেকোনো কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।’
আলী হাসনাইন, মারিয়া কিংবা ফাহিম—সবার কাজ শেখার যাত্রা শুরু হয়েছিল নিজস্ব উদ্যোগে। তবে তাঁদের এই দক্ষতা অর্জনের পথ সুগম করেছে জিপি একাডেমি। কোভিড-পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল দক্ষতার গুরুত্ব বুঝে ২০২২ সালের মে মাসে গ্রামীণফোন তাদের এই বিশেষ ভবিষ্যৎ দক্ষতা উন্নয়ন প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ-উপযোগী প্রযুক্তিগত ও ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা অর্জনে প্ল্যাটফর্মটি দারুণ এক ভূমিকা রাখছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ তরুণ এতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং ১ লাখ ৫০ হাজার প্রশিক্ষণার্থী সনদ পেয়েছেন। গ্রামীণফোনের এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল ও গভর্ন্যান্স প্রধান ফারহানা ইসলাম বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ধীরে ধীরে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত হচ্ছেন। এই যাত্রায় অনেকে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন। আমরা যদি এই মানুষদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা বিভিন্ন দক্ষতার বিষয়গুলো শেখাতে পারি, তাহলে তাঁরা নিজেদের ক্যারিয়ারে চমৎকার কিছু অর্জন করতে পারবেন।’ ফারহানা ইসলাম এ বিষয়ে আরও যোগ করে বলেন, ‘চাকরির ক্ষেত্রে দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা আসলেই কাজটা করতে পারি কি না, সেটাই আসল কথা। জিপি একাডেমি তরুণদের শুধু শেখায় না, শিক্ষাটা তাঁদের বাস্তব জীবনে কতটা কাজে আসছে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখে।’
জিপি একাডেমিতে ক্যারিয়ার রেডিনেস, ডিজিটাল অ্যান্ড ফ্রিল্যান্সিং স্কিলস এবং এআই অ্যান্ড ফিউচার-রেডি স্কিলস—এই তিনটি মূলধারায় সম্পূর্ণ নিখরচায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে কথা বলার সফট স্কিল, ফ্রন্ট-অ্যান্ড ও ব্যাক-এন্ড কাজ, ক্যারিয়ার লঞ্চ প্যাড থেকে শুরু করে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, মেশিন লার্নিং, জিরো-কোড অ্যাপ তৈরি এবং এআই এজেন্টের মতো আধুনিক সব হার্ড স্কিল শেখানো হয় ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ এক্স গত সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রিমিয়াম ও প্রিমিয়াম প্লাস গ্রাহকদের জন্য ‘এক্স মানি’ নামের ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। প্ল্যাটফর্মটিকে ‘এভরিথিং অ্যাপ’ বা সবকাজের কাজী অ্যাপে পরিণত করার যে স্বপ্ন এই বহুমাত্রিক বিলিয়নেয়ার এতদিন দেখে...
১ ঘণ্টা আগে
প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এক বড় বিপ্লব এনে দিলেও শুরু থেকে বিশ্বজুড়ে এটি নেতিবাচক আলোচনায় ছিল। আর সেই আলোচনার শুরু হয়েছিল কর্মসংস্থানে মানুষের অনিশ্চয়তার বিষয়টি দিয়ে। ২০২৬ সালে এসে সেই আশঙ্কা যেন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তি আসক্তি কমাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ কিংবা সীমিত করার একটি আন্তর্জাতিক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি প্রযুক্তি বিশ্বে তোলপাড় করে ফেলেছে হাগিং ফেস নামের একটি এআই টুলস প্ল্যাটফর্মে ঘটে যাওয়া সাইবার হামলার ঘটনা। মাত্র দুই দিনেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ১৭ হাজারের বেশি কমান্ড ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য চুরি করে এক এআই এজেন্ট। যদিও এই রোমাঞ্চকর ঘটনার মূল রহস্য ফাঁস হয় ভিন্নভাবে।
৩ ঘণ্টা আগে