Ajker Patrika

২২ বছরের পুরোনো ত্রুটি, এআই ভেঙে দিল দুই দিনে

ফিচার ডেস্ক
২২ বছরের পুরোনো ত্রুটি, এআই ভেঙে দিল দুই দিনে

একটি পুরোনো ত্রুটি। নিরাপত্তাবিষয়ক এই ভুল মানুষ ২২ বছর ধরে ঠিক করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে নিরলসভাবে। অবশেষে সেই ত্রুটির সুরাহা হলো মাত্র দুই দিনেই। কে করেছে জানেন? এআই। কিন্তু এআই-সংক্রান্ত যেকোনো জিনিসই তো চট করে ভালো কিংবা খারাপ বলা যায় না। তাই এই ত্রুটি সারানোর পর একদিকে যেমন বিশ্বজুড়ে স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে নতুন এক সাইবার উদ্বেগেরও জন্ম হয়েছে।

কী সেই ত্রুটি

আমাদের চেনা ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট চলে পিএইচপি নামক একটি প্রোগ্রামিং ভাষার ওপর। ২০০৪ সালে প্রথম এই ভাষার একটি মারাত্মক নিরাপত্তা ফাঁক ধরা পড়ে। যার মাধ্যমে হ্যাকাররা সহজে যেকোনো ওয়েবসাইটের তথ্য চুরি বা দখল নিতে পারত। তবে এত দিন এই হুমকি কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। কারণ, এই ত্রুটিকে বাস্তবে কাজে লাগিয়ে কোনো ওয়েবসাইট হ্যাক করতে হলে যে ধরনের জটিল ও একঘেয়ে কোডিং করতে হতো, তা মানুষের পক্ষে করা প্রায় অসম্ভব ছিল। নিরাপত্তার ভাষায় একে বলা হতো ‘সিকিউরিটি বাই এক্সহস্টন’; অর্থাৎ, কাজের ক্লান্তিকর ধরনের জন্যই জায়গাটি নিরাপদ ছিল।

এআইয়ের কারসাজি

এআই এসে পুরো সমীকরণ বদলে দিয়েছে। গবেষকেরা যখন ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পিএইচপির এই কোড পরীক্ষা শুরু করেন, তখন এআই অনায়াসে দিনরাত লাখ লাখ হিসাব কষে ফেলে। এআই মূলত দুটি অভিনব উপায় বের করে সার্ভারকে অকার্যকর করে দেয়। প্রথমত, কমপ্রেস করা ফাইল খোলার পর তার আকারের পার্থক্য কাজে লাগিয়ে ক্ষতিকর ফাইল ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, জটলা পাকানো ফাইল পাঠিয়ে সিস্টেমের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে মেমোরি ক্র্যাশ করায়।

যে কাজ বের করতে মানুষের বহু বছরের ধৈর্য ও প্রচেষ্টা লাগত, এআই তার হিসাব করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতার জোরে সেই অসম্ভবকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় সম্ভব করেছে। গবেষকেরা সঙ্গে সঙ্গে এই ত্রুটি ঠিক করার প্যাস বা আপডেট তৈরি করে ফেলায় ইন্টারনেট বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে এই ঘটনা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের চোখ খুলে দিয়েছে। কারণ, এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, সুযোগ পেলে ভালো কাজের পাশাপাশি খারাপ কাজেও এআই ব্যবহার করা সম্ভব।

সূত্র: সিএনএন

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত