
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কেন্দ্রস্থল যেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার অ্যাশবার্ন। ডালাস বিমানবন্দরে নামার আগে জানালার পাশে বসে থাকা যাত্রীরা দেখতে পারেন সারি সারি সাদা ছাদওয়ালা বাক্সসদৃশ ভবন। এগুলো আসলে ডেটা সেন্টার, যেগুলো নিয়ে গঠিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডেটা ক্লাস্টার। শুধু গত বছরই এগুলো ভার্জিনিয়ার প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহকারীর উৎপাদিত বিদ্যুতের এক-চতুর্থাংশের বেশি ব্যবহার করেছে।
এই যখন দেশের সার্বিক চিত্র, তখন উচ্চ সুদের হার ও শুল্ক বিভ্রাটে আমেরিকার অর্থনীতিতে ধীরগতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এসব বাধা এআই অবকাঠামো নির্মাণের দ্রুতগতিকে থামাতে পারেনি।
গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত জিডিপির ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মধ্যে প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ এসেছে কম্পিউটার ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ থেকে—এর মধ্যে রয়েছে চিপ ও ডেটা সেন্টার নির্মাণ। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ গ্রিড উন্নয়ন এবং সফটওয়্যারের মেধাস্বত্ব মূল্য যোগ করলে হিসাব অনুযায়ী এই এআই প্রযুক্তির উত্থান প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রেখেছে। দেশের মোট জিডিপির মাত্র কয়েক শতাংশ যে খাত জুড়ে গড়ে উঠেছে, তার পক্ষে এ এক চমকপ্রদ সাফল্য।

তবে এই এআই অবকাঠামো নির্মাণকে সাধারণ কোনো বিনিয়োগের জোয়ার বলা চলে না। আগে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের আয় ও জমা অর্থ থেকেই খরচ চালাত। এখন এআই নির্মাণের পরিধি এতটাই বেড়ে গেছে যে, তারা ঋণের দিকে ঝুঁকেছে। এরা বিশাল ডেটা সেন্টার গড়ে তুলছে এই বিশ্বাসে যে, এআই শিগগিরই অর্থনীতিতে বিস্ফোরক প্রবৃদ্ধি ডেকে আনবে এবং কম্পিউটিং ক্ষমতার চাহিদা আকাশচুম্বী হবে। এটি কোনো আবাসিক এলাকা বা সাধারণ কারখানা নির্মাণের মতো নয়। বরং এটি এমন এক উচ্চ ঝুঁকির মুনাফার বাজার, যেখানে ‘যে জিতবে, সে-ই সব পাবে’। এই মানসিকতায় ঋণ খরচের মতো সাধারণ অর্থনৈতিক চিন্তাগুলো অবহেলা করাটাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এটাই এখন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কৌশল। তারা যে কোনো মূল্যে এআই অবকাঠামো নির্মাণে অগ্রসর হচ্ছে। তাই উচ্চ সুদের হার তাদের থামাতে পারছে না। বিদ্যুৎ খরচও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। বরং এখন জিগাওয়াট স্কেলের ডেটা সেন্টার। এ ধরনে ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য ছোট একটি শহরের সমপরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে।
’৯০-এর দশকের শেষের ডটকম বুমের ইতিহাস থেকে ধারণা করা যায়, এই ‘এআই জ্বর’ আরও অনেক দূর পর্যন্ত গড়াতে পারে। তখন ইন্টারনেট নির্মাণের জন্য যে ব্যয়বহুল প্রযুক্তির অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, তা বছরের পর বছর চলেছিল। তার জিডিপিতে প্রভাব আজকের এআইয়ের চেয়েও অনেক বেশি ছিল (চার্ট ১)। তবু তখন ইন্টারনেট নিয়ে এমন অতি আশাবাদ কেউ দেখায়নি। তবে এখন এআই নিয়ে শুরু থেকেই বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

নিঃসন্দেহে, এআইয়ের বাইরে তাকালে দেখা যায় দেশের অর্থনীতি বেশ ঢিমে গতি নিয়ে চলছে। ডিসেম্বর থেকে প্রকৃত ভোগ (রিয়েল কনজাম্পশন) স্থির অবস্থায় রয়েছে। গৃহনির্মাণ খাতের অবস্থা সংকটাপন্ন, তেমনি এআই ছাড়া অন্যান্য ব্যবসায়িক বিনিয়োগও কমেছে (চার্ট ২)। এই দুটি খাত সুদের হারের প্রতি খুবই সংবেদনশীল, তাই এগুলো সার্বিক উৎপাদনের জন্য একধরনের পূর্বাভাস দেয়।
সমস্যা হলো—যে খাত আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় উৎস হয়ে উঠেছে, সেটিই এখন অর্থনীতির বাকি অংশকে চাপে ফেলছে। উদাহরণস্বরূপ, বাড়ি নির্মাতারা ঋণে উচ্চ সুদের হারের বিষয়টিকে হেলাফেলা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। একইভাবে, ডেটা সেন্টারগুলো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদা সৃষ্টি করে বিদ্যুতের দামকে উচ্চ পর্যায়ে ধরে রেখেছে, যা বাকি অর্থনীতিকেও সংকুচিত করছে। শুধু ২০২৫ সালেই গড়ে আমেরিকানদের বিদ্যুৎ বিল ৭ শতাংশ বেড়েছে—এর পেছনে ডেটা সেন্টারগুলোর গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করাও একটি বড় কারণ।
এআই খাতে এই বিপুল বিনিয়োগ আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে চাঙা রাখলেও এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা একধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। যদি বিদ্যুৎ বা চিপ সরবরাহে কোনো বাধা আসে, বা বাজারে এআই নিয়ে আশাবাদ কমে যায়, তাহলে এই খাত হঠাৎ থেমে যেতে পারে। আর তখন পুরো অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
তাই বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখনই সময় সামগ্রিক অর্থনীতিকে ভারসাম্যমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার। না হলে এক খাতের উত্থান পুরো অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে—সেই ভবিষ্যৎ হবে খুবই অনিশ্চিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামী সাত বছরে ১১০ বিলিয়ন বা ১১ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
২০ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি ‘টক্সফ্রি লাইফ ফর অল’ প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রতিটি হেডফোনেই মানবস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক রাসায়নিকের উপস্থিতি রয়েছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, হেডফোনে থাকা এসব রাসায়নিক ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে এবং পুরুষদের হরমোনের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে...
২০ ঘণ্টা আগে
আসছে এপ্রিল মাস থেকে ব্রাউজারে ব্যবহার করতে পারবেন না মেসেঞ্জার। থাকবে না টপের অ্যাপ্লিকেশনটিও। ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে দেওয়া এক নোটিসে এ তথ্য জানিয়েছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস।
২ দিন আগে
মঙ্গলবার গভীর রাতে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক বিভ্রাটের কবলে পড়েছিল জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই সমস্যার কারণে কয়েক লাখ ব্যবহারকারী সাইটটিতে প্রবেশ করতে বা ভিডিও দেখতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন। তবে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্যাটি এখন সম্পূর্ণ সমাধান করা হয়েছে এবং সব
২ দিন আগে