মো. আশিকুর রহমান

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কোনো ধরনের সামান্য অসতর্কতায় ঘটতে পারে বিপর্যয়। ভুয়া লিংকে ক্লিক, প্রতারণামূলক ফোন কল কিংবা বিভ্রান্তিকর বার্তায় মুহূর্তে হারিয়ে যেতে পারে ব্যক্তিগত ও অফিশিয়াল নথিপত্র, জীবনের সঞ্চয় কিংবা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ কিংবা ল্যাপটপের মতো গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র। এমন পরিস্থিতিতে এখনো অধিকাংশ মানুষের ভরসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া অথবা পরিচিতজনদের কাছে সাহায্য চাওয়া। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হারানো জিনিস আর ফিরে পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে স্ক্যামের তথ্য দেরিতে ছড়ানোর কারণে নতুন করে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
এই বাস্তবতা থেকে হারানো জিনিস উদ্ধার এবং অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তাঁদের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে কমিউনিটি-চালিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অ্যাওয়ার এক্স ওয়ান (Aware X One)। যেখানে হারানো বা পাওয়া জিনিসের তথ্য শেয়ার করার পাশাপাশি স্ক্যাম সম্পর্কে আগাম সতর্কতা পাওয়া যাবে। শিগগির এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
উদ্ভাবকদের একজন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মো. শাহরিয়ার শাহনাজ শোভন। নাসা, সনি, মেটা, আমাজন ও গুগলের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে সাইবার দুর্বলতা শনাক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। বর্তমানে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাইবারজায়াতে তথ্যপ্রযুক্তিতে ডিপ্লোমা করছেন।
অন্যজন উকাই কিং মারমা জয়। তিনি একজন অভিজ্ঞ সিস্টেমস ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার—উভয় ক্ষেত্রে তিনি দক্ষ। এমবেডেড সিস্টেম, অটোমোটিভ-গ্রেড লিনাক্স অ্যাপ্লিকেশন, ফুল-স্ট্যাক প্ল্যাটফর্ম এবং বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী প্রযুক্তি সিস্টেম তৈরিতে কাজ করেছেন তিনি।
নিজের পাওয়ার ব্যাংক হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা এই প্ল্যাটফর্ম তৈরির পেছনে কাজ করেছে বলে জানান শোভন। সেই ঘটনায় তাঁর মনে হয়, সমস্যাটা ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার। সেই চিন্তা থেকে অ্যাওয়ার এক্স ওয়ানের ধারণা তৈরি হয়।
এই ধারণাকে বাস্তব রূপ দিতে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরির দায়িত্ব ছিল জয়ের ওপর। বড় পরিসরে ব্যবহৃত হলেও যেন সিস্টেম স্থিতিশীল থাকে, তথ্য সুরক্ষিত হয় এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সহজ হয়—এই লক্ষ্যে তিনি প্ল্যাটফর্মটির প্রযুক্তিগত ভিত্তি নির্মাণে কাজ করেছেন। ফলে অ্যাওয়ার এক্স ওয়ান এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা ও বাস্তবমুখী ইঞ্জিনিয়ারিং একসঙ্গে কাজ করছে।
এক প্ল্যাটফর্মে হারানো জিনিস ও স্ক্যাম প্রতিরোধ
বর্তমানে হারানো কিংবা খুঁজে পাওয়া জিনিসের তথ্য ছড়িয়ে থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসংখ্য গ্রুপ ও টাইমলাইনে। এতে যেমন প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন, তেমনি ভুয়া দাবি এবং নতুন প্রতারণার ঝুঁকিও তৈরি হয়। এই সমস্যা সমাধানে অ্যাওয়ার এক্স ওয়ান চালু করেছে ভেরিফায়েড আইডেনটিটি সিস্টেম, যেখানে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা থাকবে। যেন কে তথ্য দিচ্ছে এবং সেই তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য, তা সহজে বোঝা যায়।
পাশাপাশি রয়েছে ট্রাস্ট স্কোরিং সিস্টেম। ব্যবহারকারীর পূর্ববর্তী কার্যক্রম ও অবদানের ভিত্তিতে এই স্কোর নির্ধারিত হয়। নিয়মিত সঠিক স্ক্যাম রিপোর্ট করা বা হারানো জিনিস ফেরত দিতে সহায়তা করলে ব্যবহারকারীর ট্রাস্ট স্কোর বাড়ে, যা পুরো কমিউনিটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
রিয়েল টাইম অ্যালার্টে আগাম সতর্কতা
অ্যাওয়ার এক্স ওয়ানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো রিয়েল টাইম লোকেশনভিত্তিক অ্যালার্ট। কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় হারানো জিনিস বা অনলাইন প্রতারণার ঘটনা রিপোর্ট হলেই আশপাশের ব্যবহারকারীদের কাছে সঙ্গে সঙ্গে নোটিফিকেশন চলে যাবে। এতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, বিশেষ করে অনলাইন স্ক্যামের ক্ষেত্রে এই আগাম সতর্কতা অন্যদের একই প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করতে সহায়ক।
ইতিমধ্যে অ্যাওয়ার এক্স ওয়ানের লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরে একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াকে কেন্দ্র করে প্ল্যাটফর্মটি বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কোনো ধরনের সামান্য অসতর্কতায় ঘটতে পারে বিপর্যয়। ভুয়া লিংকে ক্লিক, প্রতারণামূলক ফোন কল কিংবা বিভ্রান্তিকর বার্তায় মুহূর্তে হারিয়ে যেতে পারে ব্যক্তিগত ও অফিশিয়াল নথিপত্র, জীবনের সঞ্চয় কিংবা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ কিংবা ল্যাপটপের মতো গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র। এমন পরিস্থিতিতে এখনো অধিকাংশ মানুষের ভরসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া অথবা পরিচিতজনদের কাছে সাহায্য চাওয়া। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হারানো জিনিস আর ফিরে পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে স্ক্যামের তথ্য দেরিতে ছড়ানোর কারণে নতুন করে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
এই বাস্তবতা থেকে হারানো জিনিস উদ্ধার এবং অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তাঁদের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে কমিউনিটি-চালিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অ্যাওয়ার এক্স ওয়ান (Aware X One)। যেখানে হারানো বা পাওয়া জিনিসের তথ্য শেয়ার করার পাশাপাশি স্ক্যাম সম্পর্কে আগাম সতর্কতা পাওয়া যাবে। শিগগির এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
উদ্ভাবকদের একজন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মো. শাহরিয়ার শাহনাজ শোভন। নাসা, সনি, মেটা, আমাজন ও গুগলের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে সাইবার দুর্বলতা শনাক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। বর্তমানে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাইবারজায়াতে তথ্যপ্রযুক্তিতে ডিপ্লোমা করছেন।
অন্যজন উকাই কিং মারমা জয়। তিনি একজন অভিজ্ঞ সিস্টেমস ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার—উভয় ক্ষেত্রে তিনি দক্ষ। এমবেডেড সিস্টেম, অটোমোটিভ-গ্রেড লিনাক্স অ্যাপ্লিকেশন, ফুল-স্ট্যাক প্ল্যাটফর্ম এবং বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী প্রযুক্তি সিস্টেম তৈরিতে কাজ করেছেন তিনি।
নিজের পাওয়ার ব্যাংক হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা এই প্ল্যাটফর্ম তৈরির পেছনে কাজ করেছে বলে জানান শোভন। সেই ঘটনায় তাঁর মনে হয়, সমস্যাটা ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার। সেই চিন্তা থেকে অ্যাওয়ার এক্স ওয়ানের ধারণা তৈরি হয়।
এই ধারণাকে বাস্তব রূপ দিতে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরির দায়িত্ব ছিল জয়ের ওপর। বড় পরিসরে ব্যবহৃত হলেও যেন সিস্টেম স্থিতিশীল থাকে, তথ্য সুরক্ষিত হয় এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সহজ হয়—এই লক্ষ্যে তিনি প্ল্যাটফর্মটির প্রযুক্তিগত ভিত্তি নির্মাণে কাজ করেছেন। ফলে অ্যাওয়ার এক্স ওয়ান এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা ও বাস্তবমুখী ইঞ্জিনিয়ারিং একসঙ্গে কাজ করছে।
এক প্ল্যাটফর্মে হারানো জিনিস ও স্ক্যাম প্রতিরোধ
বর্তমানে হারানো কিংবা খুঁজে পাওয়া জিনিসের তথ্য ছড়িয়ে থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসংখ্য গ্রুপ ও টাইমলাইনে। এতে যেমন প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন, তেমনি ভুয়া দাবি এবং নতুন প্রতারণার ঝুঁকিও তৈরি হয়। এই সমস্যা সমাধানে অ্যাওয়ার এক্স ওয়ান চালু করেছে ভেরিফায়েড আইডেনটিটি সিস্টেম, যেখানে ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা থাকবে। যেন কে তথ্য দিচ্ছে এবং সেই তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য, তা সহজে বোঝা যায়।
পাশাপাশি রয়েছে ট্রাস্ট স্কোরিং সিস্টেম। ব্যবহারকারীর পূর্ববর্তী কার্যক্রম ও অবদানের ভিত্তিতে এই স্কোর নির্ধারিত হয়। নিয়মিত সঠিক স্ক্যাম রিপোর্ট করা বা হারানো জিনিস ফেরত দিতে সহায়তা করলে ব্যবহারকারীর ট্রাস্ট স্কোর বাড়ে, যা পুরো কমিউনিটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
রিয়েল টাইম অ্যালার্টে আগাম সতর্কতা
অ্যাওয়ার এক্স ওয়ানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো রিয়েল টাইম লোকেশনভিত্তিক অ্যালার্ট। কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় হারানো জিনিস বা অনলাইন প্রতারণার ঘটনা রিপোর্ট হলেই আশপাশের ব্যবহারকারীদের কাছে সঙ্গে সঙ্গে নোটিফিকেশন চলে যাবে। এতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, বিশেষ করে অনলাইন স্ক্যামের ক্ষেত্রে এই আগাম সতর্কতা অন্যদের একই প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করতে সহায়ক।
ইতিমধ্যে অ্যাওয়ার এক্স ওয়ানের লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরে একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াকে কেন্দ্র করে প্ল্যাটফর্মটি বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

দেশের সাধারণ মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে এবং ডিজিটাল সেবা আরও সহজলভ্য করতে বড় ধরনের পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিশেষ করে কাগজের নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে রাষ্ট্রের ব্যয় হয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
১২ মিনিট আগে
ইরানের চলমান বিক্ষোভ তীব্র হতে শুরু করলেই দেশটিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপরও ইলন মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা স্টারলিংক ব্যবহার করে অনেকে বিক্ষোভের তথ্য বহির্বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিল।
২ ঘণ্টা আগে
প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এবং বড় আয়োজন কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস)। এটি হলো প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রদর্শনী, যা প্রতিবছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত হয়। পুরো বিশ্বের প্রযুক্তি উদ্ভাবকেরা এখানে আসেন তাঁদের অভিনব সব উদ্ভাবন নিয়ে।
৩ ঘণ্টা আগে
উড়োজাহাজে বসে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট একসময় ছিল বিলাসিতা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন সেটি প্রয়োজন হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তনের যাত্রা শুরু করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। আধুনিক ইন-ফ্লাইট কানেকটিভিটিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কাতারের এই বিমান প্রতিষ্ঠান।
৪ ঘণ্টা আগে