Ajker Patrika

নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা হলো

অলকানন্দা রায়
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪, ১২: ১৭
নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা হলো

ঢাকা-১৩ আসনের একটি ভোটকেন্দ্র মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকার বেগম নুরজাহান মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। ভোটের দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মোহাম্মদ শিপন। তিনি স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটারদের ভোট এলাকা, ভোটকেন্দ্রের নাম ইত্যাদি তথ্য দিয়ে সহায়তা করছিলেন। মোহাম্মদ শিপন জানান, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা মিলে প্রায় ৩ হাজার ৮৩৬ জনকে বিভিন্ন তথ্য খুঁজে দিয়েছেন তখন পর্যন্ত। 

এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ কোটি। এর মধ্যে তরুণ ভোটারের সংখ্যা আড়াই কোটির মতো। প্রযুক্তির মহা উত্থানের এই সময়ে দাঁড়িয়ে এবার প্রযুক্তিবান্ধব নির্বাচনের চেষ্টা করেছিল নির্বাচন কমিশন। তার অন্যতম মাধ্যম ছিল মোবাইল ফোনভিত্তিক স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ। প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি অ্যাপটি গত নভেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হয়েছিল। অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি খুব বেশি ডাউনলোড করা না হলেও প্লে স্টোর থেকে এটি লাখের বেশি ডাউনলোড করা হয়েছিল নির্বাচন পর্যন্ত।

স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপে নিজের ভোটার নম্বর, ভোটিং ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্র, সংশ্লিষ্ট আসনে প্রার্থীদের তথ্য ইত্যাদি পাওয়া গেছে। স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপে নিজের ভোটার নম্বর, ভোটিং ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্র, সংশ্লিষ্ট আসনে প্রার্থীদের তথ্য ইত্যাদি পাওয়া গেছে। এসব তথ্য ছাড়াও নির্বাচনের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও নির্বাচনের ফলাফল নামে দুটি অপশন রয়েছে অ্যাপটিতে। সেখানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরাসরি আপডেট জানা যাবে, নিবন্ধিত দল সম্পর্কেও জানা যাবে। ফলাফল অপশনে ক্লিক করলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তথ্য জানা যাবে। নির্বাচনের পরদিন অ্যাপটি খুঁজে দেখা গেছে, ভোটের ফলাফল অ্যাপে হালনাগাদ করা হয়েছে।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটার নম্বর, ভোটিং ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্র, সংশ্লিষ্ট আসন খুঁজে পেতে ভোটারদের সহায়তা দিয়েছে।

ঢাকা-১০ আসনের সিটি কলেজ ভোটকেন্দ্রে মো. রিফাত নামের এক তরুণকে দেখা গেল, মোবাইল ফোন হাতে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁর কাছে একের পর মানুষ তাঁদের ভোটকেন্দ্রের অবস্থানের খোঁজ নিচ্ছিলেন। রিফাতের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপের ব্যবহার অনেক কাজ বেশ সহজ করে দিয়েছে। ফলে খুব কম সময়ে বেশি মানুষকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো সম্ভব হয়েছে। 

স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপই শুধু নয়, ভোটের প্রচারেও ছিল প্রযুক্তির ছোঁয়া। মিছিল, মিটিং, পোস্টার, মাইকিং, উঠান বৈঠক ইত্যাদি প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে প্রার্থীরা প্রচারে প্রযুক্তিগত কৌশল বেছে নিয়েছিলেন। 

বাংলাদেশে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ কোটি। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে নিজেদের নির্বাচনী তথ্য জানানোর জন্য প্রার্থীরা ব্যবহার করেছেন ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো। সীমিত আকারে লিংকডইন, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সও ব্যবহৃত হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রার্থীরা ছবি ও ভিডিও মাধ্যমে প্রচার চালিয়েছিলেন। প্রয়োজনে বুস্টিং করে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন তাঁরা। আর ভিডিও প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ইউটিউব, সেটা নির্বাচনের আগে থেকেই। 

 তবে মোবাইল ফোনভিত্তিক ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভাস) সার্ভিস বেশ চমক দিয়ে চলেছে ভোটারদের। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে এ মাধ্যমের ব্যবহার শুরু হলেও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ মাধ্যম বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল। এ সার্ভিসে এসএমএস ও ভয়েস—এ দুটি মাধ্যমে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ভোট চেয়েছেন। মোবাইল সেবাদাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভোটারদের মোবাইল ফোনে ভোট চেয়ে সরাসরি ৩০ সেকেন্ডের ভয়েস কল পাঠিয়েছিলেন প্রার্থীরা। অবশ্য নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময় ও নিয়মের মধ্যে থেকে এ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। 

এর বাইরে বলতে হবে সিসি ক্যামেরার কথা। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় এর বহুল ব্যবহার হয়েছে এবারের নির্বাচনে। তবে বহুল আলোচিত ইভিএম এবারের নির্বাচনে ব্যবহৃত হয়নি।

যতই দিন যাচ্ছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রযুক্তির ব্যবহার ততই বাড়ছে। তবে এবারের নির্বাচন ঘিরে ডিপফেকের নেতিবাচক ব্যবহারের বিভিন্ন তথ্য সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে সতর্ক করেছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত